kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

নির্মাণ ব্যয় নিয়ে বেপজা সিডিএ সমঝোতা হয়নি

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্মাণ ব্যয় নিয়ে বেপজা সিডিএ সমঝোতা হয়নি

ঝুলে গেল আউটার রিং রোডের সঙ্গে সিইপিজেড সংযুক্তকরণ প্রক্রিয়া

নির্মাণ ব্যয় কে দেবে তা নিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আটকে গেছে ‘সিটি আউটার রিং রোড’ এর সঙ্গে চট্টগ্রাম ইপিজেডের সংযুক্তকরণ প্রক্রিয়া। আড়াই হাজার কোটি টাকার চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে দক্ষিণ কাট্টলী পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন আউটার রিং রোড প্রকল্পটি প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে গেলেও সিইপিজেডের সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। অথচ শুরুতে নকশায় না থাকা এই সড়কে ওঠার জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএর সঙ্গে তিন বছর ধরে দেন-দরবার করে আসছিল বেপজা।

সিডিএ এ জন্য অবশ্য বেপজাকেই দায়ী করেছে। সিডিএর দাবি অনুযায়ী, শুরু থেকে সংযোগ সড়ক ও গেট নির্মাণের যাবতীয় খরচ বেপজা দেওয়ার কথা থাকলেও এক বছর ধরে তারা মূল প্রকল্পের অর্থায়নের টাকার মধ্যে এই খরচ বহনের দাবি তুলেছে, যা সিডিএর কাছে অন্যায় আবদারের সমতুল্য। আর বেপজার দাবি দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উন্নয়ন কাজের ব্যয় প্রকল্পের মধ্যেই হতে পারে।

বেপজা সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে দক্ষিণ কাট্টলী পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন ‘সিটি আউটার রিং রোড’ বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে নির্মিতব্য কর্ণফুলী টানেলের সঙ্গে সংযুক্ত হবে। ১৫ কিলোমিটার নতুন সড়কের একটি অংশ গিয়েছে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পাশ দিয়ে। এই সড়কে ওঠার জন্য চট্টগ্রাম ইপিজেডের ইনভেস্টরস ক্লাবের পাশেই রিং রোডের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জায়গা চিহ্নিত করা আছে। সংযোগ সড়ক হলে এই রিং রোড দিয়েই রপ্তানিমুখী কারখানাগুলোর আমদানি-রপ্তানি পণ্য ইপিজেডে যাতায়াত করবে।

সিডিএ সূত্র জানায়, দুই হাজার ৪২৬ কোটি টাকার আউটার রিং রোডের প্রাথমিক পরিকল্পনায় চট্টগ্রাম ইপিজেড নিয়ে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময় বেপজার বিশেষ আগ্রহে রিং রোডের সিইপিজেড অংশে একটি গেট ও ওভারপাসের মাধ্যমে একটি সংযোগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ জন্য বেপজার দেওয়া ৪৯ লাখ টাকা দিয়ে রিং রোডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্ম্যাকের মাধ্যমে নকশা করা হয়। কিন্তু রিং রোডের ইপিজেড অংশের কাজ শেষ হয়ে গেলেও সিইপিজেডের সঙ্গে সংযোগ কাজের কোনো অগ্রগতিই হয়নি।

এর কারণ জানতে চাইলে এ জন্য বেপজাকেই দায়ী করলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী ও রিং রোড প্রকল্প পরিচালক হাসান বিন শামস। এ প্রসঙ্গে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুরুতে ইপিজেডের সঙ্গে এই রোডের কোনো সংযুক্তি না থাকার পরেও ইপিজেডের কর্তৃপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা যুক্ত করা হয়। এ সময় তারা আমাদের নকশা ও নির্মাণ ব্যয় বাবদ সব খরচ বেপজা বহন করার কথা। কিন্তু বছরখানেক ধরে টাকা না দিয়ে আমাদের মূল প্রকল্পের মধ্যে সিইপিজেডের সঙ্গে সংযোগ সড়কের ব্যয় ঢুকিয়ে দেওয়ার আবদার শুরু করে। অথচ আমাদের এরই মধ্যে দুবার ডিপিপি রিভাইজড হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আগে বললে হয়তো কিছু করা যেত। এখন আমাদের প্রকল্পটি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এই সময়ে আমরা এতগুলো টাকার সংস্থান কোথা থেকে করব। এই সময় এই ধরনের আবদার করার কোনো মানে হয় না। আর বেপজার তো টাকারও অভাব নেই। মাত্র ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার জন্য এমন ধরনের আবদার কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী বলেন, ‘সিইপিজেডের সঙ্গে রিং রোডের সংযোগ গেটসংলগ্ন জায়গায় কাজটি আমরা অনেক দিন স্থগিত রেখেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এখন সেখানে আমরা রাস্তা করে ফেলেছি। বেপজা যদি এখন বাজেটও দেয় তবু কাজটি সময়সাপেক্ষ হবে।’

এ ব্যাপারে জানতে বেপজার মুখপাত্র মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। কিভাবে সিডিএ প্রকল্পের মধ্যে এই কাজটি করা যায় তার জন্য আলোচনা চলছে। আসলে এই কাজটি হলে শুধু চট্টগ্রাম ইপিজেডের লাভ যে তা নয়। কারণ ইপিজেড থেকে প্রতিদিন যে পরিমাণ লং ভেহিকল বের হয় তাতে গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সড়কটিতে সকাল ও বিকালে প্রচুর যানজট লেগে যেত। আউটার রিং রোডের সঙ্গে যুক্ত হলে অন্তত এই ব্যস্ততম সড়কটির ওপর থেকে কিছুটা হলেও চাপ কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে লাভ আসলে সকলের।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা