kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইউরোপে বাজার সুবিধা নিতে আফ্রিকায় ভারতীয় কারখানা

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপে বাজার সুবিধা নিতে আফ্রিকায় ভারতীয় কারখানা

ভারতের তামিল নাড়ুর টেক্সটাইল শহর তিরুপুরের অন্যতম বৃহৎ কারখানা কেপিআর মিলস। সম্প্রতি ইথিওপিয়ায় নতুন একটি ইউনিট খুলেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের উদ্দেশ্য কম শ্রম খরচ ও শুল্ক ছাড়ের সুবিধা নেওয়া আফ্রিকার বাজার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করা। এতে পণ্য চালানেও সময় কমে আসে।

কিপিআরের আগে রেমন্ড, অরভিন্দ, বেস্ট করপোরেশন এবং জে জে মিলসসহ ভারতের আরো বেশ কিছু টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটিতে ইউনিট খুলেছে।

কারণ বাংলাদেশ, কম্বোডিয়াসহ বাণিজ্য সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের মেড ইন ইন্ডিয়া পণ্য পশ্চিমা দেশগুলোতে রপ্তানিতে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হয়। এ কম্পানিগুলো মনে করছে আফ্রিকায় তাদের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সহায়ক হবে।

কেপিআর তাদের কারখানা স্থাপনে ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছে। এক কোটি ইউনিট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এ কারখানায় প্রায় এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ইথিওপিয়ায় রেমন্ডের ১৩০ কোটি রুপির কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা বার্ষিক ২০ লাখ জ্যাকেট। বেস্ট করপোরেশন বিনিয়োগ করেছে ৩০ কোটি রুপি। এ ছাড়া এসসিএম গার্মেন্টস, অরবিন্দ ও জে জে মিলসসহ আরো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছরে ইথিওপিয়ায় কারখানা স্থাপন করেছে।

ইথিওপিয়ায় একেবারে প্রস্তুত ভবন পাওয়া যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কর অবকাশ, প্রশিক্ষণে ভর্তুকি এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা। ইথিওপিয়ায় শ্রমিক খরচ ভারতের চেয়ে ৫০ শতাংশ কম। সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে সরকার জমি এবং ভবন তৈরি করে বসে আছে বিনিয়োগকারীর জন্য। সাশ্রয়ে দেওয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ।

ইথিওপিয়ার শিল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এখানে মাত্র তিন সেন্টে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। যেখানে ভারতে লাগে ১০-১২ সেন্ট। শ্রমিক প্রতি মাসে খরচ করতে হয় মাত্র ৬০ ডলার। যেখানে ভারতে এ খরচ ১৩০-১৫০ ডলার।

কেপিআর মিলের এমডি পি নটরাজ বলেন, বড় আমদানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। ভারতের এ সুবিধা নেই, যদিও পাওয়ার জন্য অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে কঠিন প্রতিযোগিতার মাঝেও ভারত তার অবস্থান ধরে রেখেছে। কারণ পোশাকের কাঁচামাল তুলা বা সুতা ভারতের অন্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয় না। এর বিপরীতে বাংলাদেশকে মৌলিক এ কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। এ ছাড়া ভারত সরকারের পক্ষ থেকে টেক্সটাইল শিল্পের জন্য প্রণোদনা রয়েছে। বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা