kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

লক্ষ্মীপুরে কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে পোল্ট্রি শিল্প

কাজল কায়েস, লক্ষ্মীপুর   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লক্ষ্মীপুরে কর্মসংস্থান বাড়াচ্ছে পোল্ট্রি শিল্প

পোল্ট্রি শিল্পে কর্মসংস্থান হচ্ছে অনেক তরুণের। ছবি : কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরে পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ায় মাংস ও ডিম উৎপাদন বেড়েছে। এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছে বেকার যুবক ও প্রবাসফেরত ব্যক্তিরা। এরই মধ্যে এ জেলায় ব্যাপকহারে বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামার গড়ে উঠেছে। স্বল্প মেয়াদে এটি লাভজনক হলেও খামারিদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চাহিদার সময় পোল্ট্রি খাবার ও মুরগির বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়। এদিকে স্বাস্থ্যকর মাংস ও ডিম উৎপাদনে খামারিদের পরামর্শ দিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, এক দিনের একটি ব্রয়লার মুরগির বাচ্চা ৪০-৬০ টাকার মধ্যে কিনতে হয়। এটি বিক্রির উপযোগী হতে ২৮-৩০ দিন প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাজারে ১৪০-১৪৫ টাকায় প্রতি কেজি মুরগি বিক্রি হয়। আর মুরগির পাইকারি প্রতি কেজি মূল্য ১২৮-১৩০ টাকা। একটি লেয়ার মুরগি এক থেকে দেড় বছর বয়সে ডিম দেওয়ার উপযোগী হয়। এসব মুরগিকে প্রতিদিন দুই বেলা খাবার দিতে হচ্ছে। প্রতিটি ডিমের বর্তমান পাইকারি মূল্য সাড়ে ৭ টাকা।

সদরের তেওয়ারীগঞ্জের আন্দারমানিক গ্রামের খামারি জাহাঙ্গীর আলম ও মান্দারী গ্রামের সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, পোল্ট্রি একটি লাভজনক ব্যবসা। সাধারণত শীতকাল ছাড়া বছরের অন্য সময় মুরগির তেমন রোগবালাই হয় না। তাও ঠিকমতো ভ্যাকসিন দিতে পারলে আর কোনো সমস্যা হয় না। তবে ফিড ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করায় মাঝেমধ্যে খামারিদের আর্থিক ক্ষতি হয়। বাজারের মুরগির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফিডের দামও বাড়িয়ে দেয় তারা। গত মাসে ৫০ কেজি ফিডের দাম ছিল এক হাজার ৩৬০ টাকা। আর এ মাসে মুরগির দাম বাড়ায় ওই পরিমাণ ফিডের মূল্য দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪২০ টাকা। এতে প্রায় ১০০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে খামারিকে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগরে এক হাজার ১২১টি ব্রয়লার ও ২৫৩টি লেয়ার মুরগির খামার রয়েছে। এর মধ্যে ৮১৯টি ব্রয়লার ও ১০১টি লেয়ার মুরগির খামার রেজিস্ট্রিকৃত। প্রতিটি খামারে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে গড়ে পাঁচজন শ্রমিক নিয়োজিত থাকে। লক্ষ্মীপুরে বছরে পোল্ট্রি ও গরু-মহিষ মিলে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মাংস উৎপাদন হয়। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৯০০ কোটি টাকা। লেয়ার মুরগির খামারগুলো থেকে বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ডিম উৎপাদন হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. যোবায়ের হোসেন বলেন, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশের অন্যতম জেলা লক্ষ্মীপুর। স্বাস্থ্যকর মাংস ও ডিম উৎপাদন করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। এ নিয়ে খামারগুলো পরিদর্শন ও খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই খামারিদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। আগের চেয়ে এ জেলায় পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা বেড়েছে। আর এসব খামারে বেকার যুবক ও প্রবাসফেরতরাই বেশি আগ্রহী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা