kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

মেংকে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্পণ অনুমোদন কানাডার

বাণিজ্য ডেস্ক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেংকে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্পণ অনুমোদন কানাডার

হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের সিএফও মেং ওয়ানঝৌ

হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মেং ওয়ানঝৌকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে সমর্পণ প্রক্রিয়া অনুমোদন দিয়েছে কানাডা সরকার। গত শুক্রবার এ অনুমোদন দেওয়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন।

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংগফির মেয়ে মেং ওয়ানঝৌকে গত ডিসেম্বরে কানাডা সরকার গ্রেপ্তার করে। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে তিনি ভ্যাংকুবারে নিজের বাড়িতে বন্দি অবস্থায় আছেন।

গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস বিভাগ হুয়াওয়ে ও মেংকে অভিযুক্ত করে ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের দায়ে। বলা হয়, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর কম্পানি একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ইরানের কাছে তাদের পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করছিল। গোপনীয়তার সঙ্গে এ কাজ করে তা ধামাচাপা রাখার চেষ্টা করেছিলেন মেং।

আগামী ৬ মার্চ মেংকে আবারও ভ্যাংকুবারের আদালতে হাজির করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাঁকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে শুনানির দিন ধার্য হবে ওই দিন।

কানাডা সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, আজ মেং ওয়ানঝৌকে দোষী সাব্যস্ত দেশে সমর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে কানাডার জাস্টিস বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কানাডার। চীন এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে আবারও মেংয়ের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস বিভাগের মুখপাত্র নিকোলে নাভাস ওক্সম্যান বলেন, ‘কানাডা সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছে ওয়াশিংটন। আইনের প্রতি কানাডার দৃঢ় শ্রদ্ধাকে আমরা আন্তরিকভাবে গ্রহণ করছি।’

আইন বিশেষজ্ঞরা এর আগে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন কানাডার উদার সরকার মেংয়ের হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বিষয়ে সামনে এগিয়ে যাবে। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিচার বিভাগীয় সম্পর্ক অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ। তবে মেংকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া সমাপ্ত হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। কানাডার অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন আদালতের অনেক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই আপিল করা যাবে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভবত এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী নেবেন। তিনি হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাতিল করে হয় যুক্তরাষ্ট্ররকে ক্রুদ্ধ করবেন কিংবা এ প্রক্রিয়া গ্রহণ করে চীনকে চটাবেন। যদি মেংকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাহলে বহুবিধ আর্থিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন তিনি। এর প্রতিটি অভিযোগের জন্য তাঁর শাস্তি হতে পারে সর্বোচ্চ ৩০ বছর করে। ধারণা করা হচ্ছে, ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের মালিক ঝেংগফির পরবর্তী উত্তরসূরি মেং। রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা