kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

এনবিআর চেয়ারম্যান বললেন

করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানো হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানো হবে

খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর সঞ্চিতি সংরক্ষণের ওপর কর প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তবে সঞ্চিতি সংরক্ষণ মুনাফার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এতে যেকোনো এক পর্যায়ে কর আহরণ করা হবে।

গতকাল রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বৃহৎ করদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এক রাজস্ব সংলাপে ব্যাংকারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসব কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘করের আওতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে করহার কমিয়ে আওতা বাড়ানো হবে। এ নিয়ে পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি এ নিয়ে বিচার-বিবেচনা হচ্ছে। এ ছাড়া করদাতা বৃদ্ধির জন্য বাড়ি, ফ্ল্যাটসহ অন্যান্য খাতে জরিপ শুরু হয়েছে।’

অংশীজন রাজস্ব সংলাপ বিষয়ে এ আলোচনাসভার আয়োজন করে এনবিআরের কর অঞ্চল-১। কমিশনার নাহার ফেরদৌসী বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনবিআরের সদস্য কালিপদ হালদার, সোনালী ব্যাংকের এমডি ওবায়েদুল্লাহ আল মাসুদ, কাতার এয়ারওয়েজ বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জয় প্রকাশ নায়ার ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) এমডি কাজী সানাউল হকসহ কর অঞ্চল-১ এর আওতাধীন ৯৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ৩৪টি এয়ারলাইনস ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উন্মুক্ত আলোচনায় প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এমডি মাহতাব জাবিন বলেন, ‘বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের একটা বড় অংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে। এসব ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলো সংকটে পড়েছে। সংকট কাটাতে ব্যাংকগুলোকে প্রতিবছরই খেলাপি ঋণের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়। সঞ্চিতি সংরক্ষণকে মুনাফা হিসেবে উল্লেখ করে তা থেকে করপোরেট কর কেটে রাখে। এসব অর্থ পরবর্তী সময় ব্যাংকের মুনাফা হিসেবে যোগ হলে তখন আবার কর দিতে হয়। ফলে একই অর্থে একাধিকবার কর পরিশোধ করা হয়। অন্যদিকে সঞ্চিতি সংরক্ষণ থেকে কর কেটে নিলে তা ব্যাংকগুলোর জন্য অতিরিক্ত চাপ হয়ে যায়। সঞ্চয় ও ঋণ উভয় হিসাব থেকে আবগারি শুল্ক কর্তন না করে যেকোনো এক পর্যায়ে তা কর্তনের দাবি করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আবগারি শুল্কের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন কমার্স ব্যাংকের এমডি আবদুল খালেক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. শহিদুল্লাহ, ইস্টার্ন ব্যাংকের ফিন্যান্স ডিরেক্টর মাসুদুল হক, উত্তরা ফিন্যান্সের এমডি শামসুল আরেফিনসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংকার। একজন গ্রাহকের টাকা সঞ্চয়ী হিসাব থেকে ঋণ হিসেবে স্থানান্তর বা ঋণ হিসাব থেকে সঞ্চয়ী ও চলতি হিসাবে স্থানান্তরের পর যেকোনো এক পর্যায় থেকে আবগারি শুল্ক কাটার দাবি করেন তাঁরা। বর্তমান সব হিসাবে বছরের যেকোনো সময়ের সর্বোচ্চ স্থিতির ওপর এ শুল্ক কাটে এনবিআর। ফলে একই টাকা মূল অ্যাকাউন্টসহ যত হিসাবে স্থানান্তর হবে সব জায়গায় আবগারি শুল্ক পরিশোধ করতে হয়।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলো যে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করে তা তাদের মুনাফার অংশ। ফলে এ অর্থ থেকে করপোরেট কর কেটে রাখা যৌক্তিক। তবে বিষয়টি ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা ও ব্যাংকের ওপর চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে বিষয়টি এনবিআর বিবেচনা করে দেখবে। এ নিয়ে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট শাখা কাজ করবে।

গণপরিবহনকে করের আওতায় নিয়ে আসা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘গণপরিবহন খাত থেকে কর আদায়ের সময় এসেছে। কিন্তু এ খাতে কর বৃদ্ধি করতে গেলে একটি গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে তা ব্যাঘাত ঘটায়। যাত্রীদের ওপর ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে কর আদায় করা যায় না। তাই আলোচনার মাধ্যমে এ খাত থেকে কর আদায় বৃদ্ধি করা হবে।’

মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, সোনালী ব্যাংকের এক হাজার ২১৫টি শাখায় ডিজিটাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। দুই বছর আগে আমাদের উৎসে কর ৪৫০ কোটি টাকার স্থলে এখন ৬০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা