kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

আসছে সৌরচালিত নৌকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসছে সৌরচালিত নৌকা

ব্যাটারিচালিত নতুন নৌকা চালু করতে যাচ্ছে রহিমআফরোজ ও তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড। এই নৌকায় কোনো জ্বালানি তেলের প্রয়োজন নেই। এটা বাতাসের গতি ব্যবহার করে ৫০ শতাংশ জ্বালানি খরচ কমিয়ে দেয়। হাইব্রিড সোলার-পাওয়ার্ড ‘সানফ্লাওয়ার’ কায়াক বোটে চড়ে ব্রহ্মপুত্র থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ৪৫০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছেন জার্মানিতে জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশি নাগরিক ইজ মারি।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি। রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি।

ইজ মারি বলেন, তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড ও রহিমআফরোজ রিনিউএবল এনার্জি লিমিটেডে পাইলট প্রকল্পের অধীনে সানফ্লাওয়ার কায়াক বোট তৈরি করা হয়েছে। সাড়ে ১৬ ফুট লম্বা ও ৪ ফুট প্রস্থের এ বোটে ৬৩০ ওয়াটের পাওয়ার প্যানেল রয়েছে। এ ছাড়া ২ দশমিক ২ কিলোওয়াটের ব্যাটারি রয়েছে। একবার পূর্ণ চার্জ হলে আড়াই দিন থাকে। পাড়ি দিতে পারে ১১০-১২০ কিলোমিটার। বায়ুপ্রবাহ অনুকূলে থাকলে পাল তোলার ব্যবস্থা রয়েছে বোটটিতে। এ পাল সাধারণ বোটের পালের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি কাজ করে।

ইজ মারি আরো বলেন, হাইব্রিড সোলার-পাওয়ার্ড ‘সানফ্লাওয়ার’ কায়াক বোট বিশ্বে প্রথম। আমি ২৪ বছর আগে যমুনার চরে ভাসমান লাইফবয় ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল নিয়ে আসি। তখন স্থানীয় মাছ ধরার নৌযান দেখেছি। বাংলাদেশ সিডর আক্রান্ত হওয়ার পর বোট ডুবে অনেক জেলের প্রাণহানি হয়। তাই আমি ফাইবার গ্লাসের মাছ ধরার নৌযান তৈরি শুরু করি। জেলেদের মধ্যে বিতরণ করেছি। এ নৌকা ডোবে না।

ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি কুড়িগ্রাম থেকে সানফ্লাওয়ার কায়াক বোট নিয়ে দর্পণ চাকমা ও আমি ব্রহ্মপুত্র দিয়ে যাত্রা শুরু করি। সফলভাবে নির্দিষ্ট পথ পাড়ি দিতে পেরে আমি খুব খুশি। দারুণ অ্যাডভেঞ্চার ছিল আমার জন্য। কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তির মুখে পড়তে হয়নি। স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করেছে।

প্রকল্পের প্রধান শেখ মনোয়ার আহমেদ জানান, সানফ্লাওয়ার কায়াক বোট নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাইব্রিড সোলার-পাওয়ার্ড বোট তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছে তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড। মে-জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে। ৮ জন, ১৫ জন, ২৫ জন থেকে ৫০ জনের বোট তৈরি হবে। এগুলোর মূল্য সাধারণ নৌকার মতোই হবে।

মহাব্যবস্থাপক রিভু দেওয়ান বলেন, দেশে যে টেকনোলজি আছে তা দিয়ে এ প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। ডিজেলচালিত বোট রিপ্লেস করতে ইলেকট্রিক সোলার-পাওয়ার্ড বোট তৈরি করব আমরা। ইলেকট্রিক বোটের বিপ্লব ঘটাতে চাই আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা