kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কিশোরগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন পেল নিটল-নিলয় গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জে অর্থনৈতিক অঞ্চলের অনুমোদন পেল নিটল-নিলয় গ্রুপ

চূড়ান্ত লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ অন্যরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অনুমোদন পেল নিটল-নিলয় গ্রুপ। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সব শর্ত পূরণ করার পর তাদের চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হলো। গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনকে যোগ্যতাপত্র দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত সচিব) ফারুক হোসেন, নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ইন্দো-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট আবদুল মাতলুব আহমাদ, নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন সেলিমা আহমাদ, কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল মুসাব্বির আহমাদ এবং টাটা মোটরসের কান্ট্রি ম্যানেজার জিতেন্দ্র বাহাদুর। লাইসেন্স প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী। পাকুন্দিয়া উপজেলায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের দুই পাশে ৯২ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে উঠছে। গতকালের অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করলে ৫ বছরের মধ্যে পাঁচ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও ২০ হাজার মানুষের পরোক্ষ কর্মসংস্থান হবে। পণ্য পরিবহনসহ অন্যান্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এটি ভৈরব-কিশোরগঞ্জ ১০০ ফুট মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত। জোনের নিজস্ব রেললাইনটি গচিহাটা রেলস্টেশন পয়েন্টে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ লাইনে যুক্ত আছে এবং আশুগঞ্জ ও ভৈরব নদীবন্দর থেকে জোনের দূরুত্ব মাত্র ৪০ কি.মি.।

অনুষ্ঠানে আরো জানানো হয়, কিশোরগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস বাংলাদেশের নিটল-নিলয় গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে টাটা ব্র্যান্ডের মোটরযান তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। যার আমদানীকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে এরই মধ্যে জোনে এসে পৌঁছেছে। এবং কারখানার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু হতে যাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন কর্তৃপক্ষ ও এই যৌথ মূলধনী কম্পানির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের আরো একটি স্টিল প্রস্তুতকারী কম্পানি এখানে বিনিয়োগের লক্ষ্যে প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া এই জোনে দেশি-বিদেশি অ্যাগ্রোবেইজড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, তথ্য-প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের উদ্যোক্তারা তাঁদের পূর্ব ব্যবসার সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন সফলভাবে বাস্তবায়নে সক্ষম হবে এবং শিল্প অবহেলিত হাওরাঞ্চলে তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব বলেন, ‘নিটল-নিলয় গ্রুপ ৩৩ বছর ধরে মোটরযান ও সংযুক্তি ও বাজারজাতকরণ, মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, সিমেন্ট, পেপার, ইলেকট্রনিকস, তথ্য-প্রযুক্তি ও সম্প্রচার মাধ্যমসহ অন্যান্য সেক্টরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।’

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) পবন চৌধুরী বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোন বেসরকারি খাতে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল, যা কৃষিনির্ভর হাওরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ভৈরবের কাছে হওয়ায় সহজে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও এই অনগ্রসর এলাকার জীবনযাত্রার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা