kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার দাবি

আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে কমিটি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেয়ার ছেড়ে মূলধন উত্তোলনে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ‘কাট অব প্রাইস’ নির্ধারণের বিষয়ে পরিবর্তন আনার পক্ষে মত দিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে শেয়ার দাম নির্ধারণে যোগ্য বিনিয়োগকারীর প্রস্তাবিত ওই দামেই শেয়ার কিনতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কম্পানির শেয়ার দাম নির্ধারণে এ পদ্ধতিকে ‘ডাচ অব অকশন’ বলা হয়।

গতকাল সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠক আহ্বান করে কমিশন। এতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকাররাও উপস্থিত ছিলেন।

বুক বিল্ডিং পদ্ধতির অপব্যবহার ও কারসাজির মাধ্যমে কাট অব প্রাইস নির্ধারণ বর্তমানে পুঁজিবাজারে আলোচিত ঘটনা। এ পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী কম্পানির শেয়ার দাম নির্ধারণে যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে দাম প্রস্তাব আহ্বান করা হয়। ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে দাম প্রস্তাব করে তারা। কাট অব প্রাইস নির্ধারণের পর ১০ শতাংশ কম দামে সাধারণ বিনিয়োগকারী বরাদ্দ পায়, কিন্তু কম্পানির শেয়ার অতিমূল্যায়িত হলে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বৈঠক সূত্র জানায়, কাট অব প্রাইস নির্ধারণের বিষয় সংশোধনে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার, যোগ্য বিনিয়োগকারী দাম প্রস্তাবে ডাচ অব অকশন, পুঁজিবাজারে কম্পানি আসতে দীর্ঘসূত্রতা কমানো, কম্পানির রোড শো বিষয়ক কিছু পরিবর্তন ও স্টক এক্সচেঞ্জে স্বল্প সময়ে তালিকাভুক্তকরণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও প্রস্তাবিত বিষয়ে খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কমিটি বিচার-বিশ্লেষণ করে কমিশনে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি এক সেমিনারে কাট অব প্রাইস নির্ধারণের বিষয়ে যোগ্য বিনিয়োগকারীর প্রস্তাবিত দামেই শেয়ার কেনা হবে—এমন বিষয় সংযুক্ত করার চিন্তা আছে বলে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন। এর আগেও তিনি বুক বিল্ডিং পদ্ধতি সংস্কারের বিষয়েও বক্তব্য দেন।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালু করা হয়। এই পদ্ধতি চালুর আগে উদ্যোক্তাদের অভিযোগ ছিল, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে তারা কম্পানির শেয়ারের যথাযথ দাম পায় না। এজন্য বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চালু করা হয় আর যোগ্য বিনিয়োগকারীর কাছে দাম প্রস্তাব আহ্বান করা হয়।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষামূলকভাবে স্মল ক্যাপ বোর্ড গঠনে পাঁচ কোটি টাকার বেশি মূলধনী কম্পানির তালিকাভুক্তিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নিলামের দাম প্রস্তাবেই শেয়ার কিনতে হবে বলে যুক্ত করা হয়েছে। মূল বাজারে তালিকাভুক্তিতে ইচ্ছুক কম্পানির ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি যুক্ত করা হলে কাট অব প্রাইস নির্ধারণে স্বচ্ছতা ফিরবে বলেও প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এমডি কে এ এম মাজেদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী কম্পানির আইপিও অনুমোদন কিভাবে দ্রুত করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে প্রতারিত না হয় সে দিককে প্রাধান্য দিতে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির কাট অব প্রাইস নির্ধারণের প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে যোগ্য বিনিয়োগকারী যে দামে শেয়ার কেনার প্রস্তাব করবে ওই দামেই তাকে শেয়ার নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা