kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

সোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ৫০ বছরে সর্বোচ্চ

মুহাম্মদ শরীফ হোসেন   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ৫০ বছরে সর্বোচ্চ

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বেড়ে ৫০ বছরে সর্বোচ্চ হয়েছে।

২০১৮ সালে বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নেট সোনা ক্রয় হয় ৬৫১.৫ টন, যা আগের বছরের চেয়ে ৭৪ শতাংশ বেশি। ১৯৭১ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ ক্রয়। ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় ছিল ৩৭৪.৮ টন। ২০১৮ সালে সোনার চাহিদা নিয়ে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের (ডাব্লিউজিসি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে বর্তমানে ৩৪ হাজার টন সোনা রয়েছে।

বলা হয়, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি বিশ্বে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে তাদের রিজার্ভে সোনার পরিমাণ বাড়িয়েছে। সোনা ক্রয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মূলত রিজার্ভ ডলার মুক্ত করার প্রক্রিয়া থেকেই ২০১৮ সালে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২৭৪.৩ টন সোনা ক্রয় করে। এতে দেশটির সোনা ক্রয় বেড়ে হয় দুই হাজার ১১৩ টন।

গত বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সোনা ক্রয় করে তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশটির সোনা ক্রয় বাড়ে ৫১.৫ টন। তৃতীয় স্থানে থাকা কাজাখস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা ক্রয় করে ৫০.৬ টন। এ তিনটি দেশ এ বছর আরো সোনা ক্রয়ের কথা জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চীন, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড, ভারত, মঙ্গোলিয়া, ইরাক ও আজারবাইজান।

ডাব্লিউজিসির আরেকটি জরিপে বলা হয়, বিশ্বের ৭৬ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এর পাশাপাশি পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যায়ণে এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান। এমনকি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী এক বছরে সোনা ক্রয় বাড়ানোর ইচ্ছা তাদের আছে।

ডাব্লিউজিসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স প্রধান আলিস্তেয়ার হায়াত বলেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ধীর প্রবৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধে সোনায় বিনিয়োগ বেড়েছে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় এ বছর আরো বাড়বে। একই সঙ্গে দুই বৃহৎ বাজার চীন ও ভারতে চাহিদা দৃঢ় থাকবে। ২০১৯ সালে চীনে সোনার চাহিদা থাকবে ৯০০ থেকে ১ হাজার টন। ভারতে থাকবে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টন।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সাধারণত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকেই দীর্ঘ মেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকে সবাই ঝোঁকে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ থেকে শুরু করে অনেক সংস্থাই এ বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমিয়েছে, সেই সঙ্গে অনিশ্চয়তার কথাও বলছে। মূলত এসব কারণেই অনেক দেশ রিজার্ভকে ঝুঁকি থেকে রক্ষায় সোনায় বিনিয়োগ করছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ মুহূর্তে সোনা ক্রয়ের কোনো প্রয়োজন বা পরিকল্পনা আছে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আমাদের এত পরিমাণ রিজার্ভ নেই যে তা আমরা দীর্ঘ সময়ের জন্য ফেলে রাখতে পারি। পাউন্ড, ইউরো, ডলারে সাধারণত আমাদের বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাধারণত সরকারের নির্দেশনার আলোকে অনেক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা ক্রয় করে থাকে। তা ছাড়া বিশ্ববাজারে দাম কমলে কিংবা রিজার্ভ বৈচিত্র্যায়ণের উদ্দেশেও সোনায় বিনিয়োগ করে থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না তা সঠিকভাবে অবগত হওয়া ছাড়া আমি বলতে পারছি না।

ডাব্লিউজিসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত বছর বিশ্বে সোনার সরবরাহ ১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৪৯০.২ টন। ২০১৮ সালে বিশ্বে ব্যবহার হয়েছে চার হাজার ৩৪৫.১ টন সোনা, যা ২০১৭ সালের চার হাজার ১৫৯.৯ টনের চেয়ে বেশি। তবে গত বছর সোনার অলংকারের চাহিদা আগের মতোই দুই হাজার ২০০ টন ছিল। চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় চাহিদা বাড়লেও কমেছে মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা