kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

এনবিআরে অর্থমন্ত্রীর বৈঠক বৃহস্পতিবার

রাজস্ব বৃদ্ধির নির্দেশনা আসছে

ফারজানা লাবনী   

২৩ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজস্ব বৃদ্ধির নির্দেশনা আসছে

অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবেন বলে এনবিআর সূত্র নিশ্চিত করেছে। অর্থমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে গত কয়েক দিন থেকে এনবিআরের ভেতরে-বাইরে চলছে প্রস্তুতি।

এনবিআর সদস্য রেজাউল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী বৃহস্পতিবার বর্তমান অর্থমন্ত্রী এনবিআরে আসবেন বলে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এ দিন সাবেক অর্থমন্ত্রীকেও এনবিআরে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বর্তমান এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী এনবিআরে আসতে সম্মত হয়েছেন।’

এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমান অর্থমন্ত্রীর এনবিআরে আসার কথা আছে। ওই দিন বিশেষ কোনো কারণে হঠাৎ ব্যস্ত না থাকলে আমরা আশা করছি, অর্থমন্ত্রী এসে আগামী দিনের জন্য আমাদের দিকনির্দেশনা দেবেন।’

অর্থমন্ত্রীর আসা উপলক্ষে কয়েক দিন থেকে এনবিআর ভবন ঘষেমেজে আরো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ভবনের মূল ফটকের ভেতর থেকে সাময়িকভাবে যানবাহন সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এনবিআর কর্মকর্তারাও বিভিন্ন প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিশেষভাবে নতুন অর্থমন্ত্রী রাজস্ববিষয়ক কোনো প্রশ্ন করলে তা সঙ্গে সঙ্গে জানাতে তথ্য হালনাগাদ রাখছেন।

সূত্র জানায়, রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের মূল দপ্তরে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১১টায় বৈঠকের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় আ হ ম মুস্তফা কামালকে নতুন সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এনবিআর কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিক স্বাগত জানাবেন। একই সময়ে তারা সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে বিদায় জানাবেন। স্বাগত ও বিদায় জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য রাখার কথা আছে। আনুষ্ঠানিকতার পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এনবিআর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা আছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে এনবিআরের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কর্মকর্তাদের তৈরি প্রতিবেদন অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষভাবে করের জাল বিস্তারে এনবিআরের কার্যক্রম জানানো হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ে রাজস্ব দপ্তর স্থাপন, তৃণমূল পর্যায়ে করদাতা সংগ্রহ, উেস কর আদায়ে জোর দেওয়া, বড়মাপের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায়ে কঠোরতা, ইসিআর বা ইএফডি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। অনলাইনে ভ্যাট আদায়ের প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে আগামী অর্থবছরে ভ্যাট আইন ২০১২ বস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ প্রয়োজন বলে জানানো হবে। বিশেষভাবে ভ্যাট আদায় বাড়াতে দেশের বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে ইসিআর বা ইএফডি ব্যবহারে এনবিআর কী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করবে সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ প্রয়োজন বলে এনবিআর থেকে বলা হবে।

এনবিআর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মকর্তার পাস ব্যবহার করে বিল অফ এন্ট্রির বিপরীতে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি আলোচনায় আনা হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কী করণীয় তা নিয়েও এ আলোচনা হবে। এ ধরনের আর্থিক অনিয়ম বন্ধে বন্দরে ব্যবহৃত সফটওয়্যার এসাইকুডা ওয়ার্ড কিভাবে আরো আধুনিক করা যায় তাও উত্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বিনিয়োগে গতি আনতে সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের কী কী ছাড় দেওয়া হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে। শিল্পের অন্যান্য খাতে ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হবে প্রতিবেদনে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এনবিআরের রাজস্ব আদায় গতিশীল করতে যে নির্দেশনা দেবেন তা সামনে রেখে এনবিআর গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অনেকে রাজস্ব পরিশোধে সময় নিয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। আমি আশা করছি সকলে এখন স্বাভাবিক গতিতে রাজস্ব পরিশোধ করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা