kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এক বছরে যাত্রী বেড়েছে ১২%

প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে বিমান রাখার জায়গা বৃদ্ধি করা হয়েছে
এখন আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি বিমান একসঙ্গে রাখা যাচ্ছে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এক বছরে যাত্রী বেড়েছে ১২%

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৮ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ১৭ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫ লাখের মতো। এক বছরের ব্যবধানে যাত্রী বাড়ল দুই লাখ বা প্রায় ১২ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়ার পর বিদ্যমান অবকাঠামো অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে একই অবকাঠামোয় প্রায় তিন গুণ অর্থাৎ ১৭ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এ বি এম সারোয়ার ই জাহান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে আমরা বছরে ১৭ লাখ যাত্রীকে সেবা দিতে গত বছর খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। তবে প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে আমরা এরই মধ্যে বিমান রাখার জায়গা (টারমার্ক) বৃদ্ধি করেছি। এখন আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি বিমান একসঙ্গে রাখা যাচ্ছে। বিমানবন্দরের রানওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ বা ওভারলে করতে দরপত্র চূড়ান্ত হয়েছে। এটি চালু হলে বেশি ধারণক্ষমতার বিমান ওঠানামা করতে পারবে। এ ছাড়া নতুন টার্মিনাল ভবন এবং রানওয়ে বাড়াতে একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন আছে।’

চট্টগ্রামের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার বিমান যোগাযোগে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এই বিমানবন্দর উল্লেখ করে জুনিয়র চেম্বার চিটাগাংয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় এই বিমানবন্দরের গুরুত্ব অনেক বেশি বেড়েছে। বিমানবন্দরের কাজের পরিধি, যাত্রীসংখ্যা এবং ফ্লাইট সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক গুণ বাড়লেও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।’

সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে চট্টগ্রামকেই হাব বানাতে চায় দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ার। সংস্থাটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর সালমান হাবিব কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ অন্তত ছয়টি করা, বিমান রাখার জন্য একটি হ্যাঙ্গার নির্মাণ করা, বিমানে খাবার সরবরাহের জন্য ক্যাটারিং সার্ভিস তৈরি, আমদানি-রপ্তানি পণ্য রাখার জন্য একটি কার্গো কমপ্লেক্স এবং বিমান রাখার পার্কিং স্পেসটা আরো একটু বড় করা এবং একটি প্যারালাল রানওয়ে নির্মাণ করতে হবে। এতে করে পণ্য আসা-যাওয়া যেমন বাড়বে তেমনি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও বাড়বে।

ওই সুবিধা নিশ্চিত হলে চট্টগ্রাম থেকে প্রতিবছর যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে চট্টগ্রামকে ‘আঞ্চলিক হাব’ বানানো সম্ভব উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে আমরা সেই পথে এগোব।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৪ সালে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে মোট যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে ১০ লাখ ৬৫ হাজার জন। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭০ হাজার জন। আর ২০১৬ সালে বিমানবন্দর দিয়ে মোট ১২ লাখ ৫০ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে যাত্রী বেড়েছে প্রায় ৮০ হাজার জন, শতাংশের হিসাবে যা সাড়ে ৬ শতাংশ। আর ২০১৭ সালে ১৫ লাখ যাত্রী আসা-যাওয়া করেছে এই বিমানবন্দর দিয়ে। ২০১৭ সালে শতাংশের হিসাবে যাত্রী পরিবহন বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

চট্টগ্রামে যাত্রী পরিবহন বিপুল বাড়লেও সক্ষমতা এখনো অপ্রতুল উল্লেখ করে ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (মার্কেটিং ও জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একটি লাগেজ বেল্ট দিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ব্যাগ আসে; একসঙ্গে দুটি ফ্লাইট এলেই যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন লেগে যায়। বিমানের টারমার্ক থেকে ভবনের দূরত্ব হাঁটা পথ; ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই লাগেজ যাত্রীর হাতে পৌঁছার কথা কিন্তু সেটি হয় না। এ ছাড়া চট্টগ্রামে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপ্রতুল, ইমিগ্রেশন ও যন্ত্রপাতি স্বল্পতা রয়েছেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা