kalerkantho

এয়ারলাইনস রেটিংসে পাঁচতারা অর্জন

বিশ্বের নিরাপদ এয়ারলাইনসের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ

মাসুদ রুমী   

২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিশ্বের নিরাপদ এয়ারলাইনসের তালিকায় বিমান বাংলাদেশ

আকাশপথে নিরাপদ এয়ারলাইনসের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংস্থা এয়ারলাইন রেটিংস ডটকম বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইনসটিকে এ বছর যাত্রীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দিক দিয়ে পাঁচতারা রেটিং দিয়েছে। বিশ্বের ৪০৫টি বিমান সংস্থার তথ্য ব্যাপকভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিরাপদ এয়ারলাইনসের তালিকা তৈরি করেছে এয়ারলাইন রেটিংস। যাত্রী নিরাপত্তায় এই অর্জন বিমান বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন হবে বলে আশা করছেন এয়ারলাইনসটির কর্মকর্তারা। তবে সেবার মান বাড়িয়ে এয়ারলাইনসটির ব্র্যান্ডিংয়ের পরামর্শ দিয়েছেন এভিয়েশন বিশ্লেষকরা।

সরকারি, বিশ্ব এভিয়েশন গভর্নিং বডি ও এভিয়েশন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ সংগঠনগুলোর অডিটসহ ১২টি পৃথক মানদণ্ড ব্যবহার করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে প্রতিটি এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজের বয়স ও লাভজনকের হারের সঙ্গে দুর্ঘটনায় পড়া ও গুরুতর ঘটনার রেকর্ড দেখা হয়েছে বলে জানায় এয়ারলাইন রেটিংস ডটকম।

সংস্থাটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আইয়াটা অপারেশনাল সেফটি অডিট (আইওএসএ) সনদপ্রাপ্ত হওয়ায় তিন তারকা পেয়েছে বিমান। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) কালো তালিকাভুক্ত না হওয়ায় পূর্ণ তারকা বিমান বাংলাদেশ। এ ছাড়া গত ১০ বছরে দুর্ঘটনা এড়াতে সক্ষম হওয়ায় এবং কোনো আরোহীর মৃত্যু না হওয়ায় আরেকটি পূর্ণ তারকা পেয়েছে বিমান। তবে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন না থাকা ও আইকাওয়ের আটটি নিরাপত্তা প্যারামিটার সম্পন্ন না করায় দুটি তারকা পায়নি বিমান।

অন্যদিকে বাংলাদেশের একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ তালিকায় স্থান পেয়েছে নভো এয়ার। এ প্রতিষ্ঠানটি সাত তারকার মধ্যে তিন তারকা পেয়ে নিরাপদ বিমানের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এয়ারলাইন রেটিংস বিমান বাংলাদেশকে ফাইভস্টার এয়ারলাইনসের স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের।’ এ স্বীকৃতি বিগত কয়েক বছর ধরে বিমানের ধারাবাহিক নিরাপত্তা মান উন্নয়নের উদ্যোগের সুফল বলে জানান তিনি।

‘আমরা সাফল্যের সঙ্গে আইয়াটার সেফটি অডিট ছয়বার সম্পন্ন করেছি। বিমানে করপোরেট সেফটি কোয়ালিটি বিভাগ চালুর পাশাপাশি আইকাওর নির্দেশনা অনুযায়ী সেফটি মেজারমেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তবে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) অনুমোদন না থাকা ও আইকাওয়ের আটটি নিরাপত্তা প্যারামিটার সম্পন্ন না করায় দুটি তারকা পায়নি বিমান।

এ প্রসঙ্গে শাকিল মেরাজ বলেন, ‘এ দুটি বিষয়ে এয়ারলাইনস হিসেবে বিমানের একার কিছু করার নেই। দেশের এভিয়েশন অথরিটি ও এয়ারলাইনসের যৌথ পদক্ষেপ থাকতে হয়। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে বিমান। এখন আমাদের লক্ষ্য সর্বোচ্চ সেভেন স্টার স্বীকৃতি অর্জন।’

তিনি বলেন, গত ৪০ বছরে আমাদের বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। কোনো কারণে ফ্লাইট দেরি হলেও ত্রুটিমুক্ত না করে আমাদের বিমান গন্তব্যে যাত্রা করে না।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক বোর্ড সদস্য এবং বাংলাদেশ মনিটর সাময়িকীর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম গতকাল বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় এয়ারলাইনসগুলো এটাকে ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে কাজে লাগায়। এই রেটিং নিয়ে বিমানকে বসে থাকলে হবে না। তাদেরও এটির মাইলেজ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মান বাড়িয়ে বদনাম ঘোচাতে হবে।’

এ বছর নিরাপত্তা ও সেবার মান বিবেচনায় এ বছর বিশ্বের ৪০৫টি বিমান সংস্থার ওপর জরিপ করে সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ২০টি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছে এয়ারলাইন রেটিংস।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সম্পাদক জিওফ্রে থমাস বলেন, ‘এটি অসাধারণ যে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠিতে কানতাস রয়েছে। গত ৬০ বছরে প্রায় সব কার্যক্রমেই নিরাপত্তা ও মান উন্নয়ন ঘটিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি তাদের জেট যুগে কোনো দুর্ঘটনাই ঘটেনি।’

সবচেয়ে নিরাপদ হিসেবে ২০টি বিমান সংস্থাকে ক্রম আকারে না সাজিয়ে আদ্যাক্ষরের ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে। কারণ সব বিমান সংস্থাই সাতে সাত পেয়েছে। বিমান সংস্থাগুলো হলো এয়ার নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা এয়ারলাইনস, অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ, আমেরিকান এয়ারলাইনস, অস্ট্রেলিয়ান এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইভা এয়ার, ফিন্নেয়ার, হাওয়াই এয়ারলাইনস, কেএলএম, লুফথানসা, কানতাস, কাতার এয়ারওয়েজ, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন সিস্টেম (এসএএস), সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, সুইস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস, ভারগিন গ্রুপ অব এয়ারলাইনস (আটলান্টিক অ্যান্ড অস্ট্রেলিয়া)।

ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা বিবেচনায় সবচেয়ে খারাপ মানের পাঁচটি বিমান সংস্থার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো আরিয়ানা আফগান এয়ারলাইনস (আফগানিস্তান), ব্লু উইং এয়ারলাইনস (সুরিনেম), ক্যাম এয়ার (আফগানিস্তান), তারা এয়ার (নেপাল) এবং ত্রিগানা এয়ার সার্ভিস (ইন্দোনেশিয়া)।

এদিকে চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি বিমান সংস্থা নিরাপদ তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেশী ভারতের এয়ার এশিয়া ইন্ডিয়া ও স্পাইস জেট পেয়েছে তিন তারকা, গোএয়ার, ইন্ডিগো, জেট এয়ার, জেট কানেক্ট পেয়েছে ছয় তারকা, পাকিস্তানের এয়ার ব্লু চার তারকা, মিয়ানমারের এয়ার কেবিজে চার তারকা ও মিয়ানমার এয়ারলাইনস ইন্টারন্যাশনাল সাড়ে ছয় তারকা পেয়ে নিরাপদ তালিকায় রয়েছে।

এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্কের (এএসএন) হিসাব অনুযায়ী ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মোট ৫৫৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৯০০ শতাংশের বেশি। ওই বছর দুর্ঘটনায় ৫৯ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালকে এএসএন বিমান দুর্ঘটনা ও হতাহত বিবেচনায় সবচেয়ে নিরাপদ বছর হিসেবে অভিহিত করেছিল।

সংস্থা জানায়, বিমান দুর্ঘটনায় ৫৫৫ জনের মৃত্যু গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৪ সালে ৬৯২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছর সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল বোয়িং ৭৩৭ এমএএক্স দুর্ঘটনা। এতে ১৮৯ জনের প্রাণহানি হয়, যা ছিল ২০১৮ সালের বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশ। গত অক্টোবরে জাকার্তায় বিধ্বস্ত হয়েছিল লায়ন এয়ার ফ্লাইট ৬১০। এতে বিমানে থাকা কোনো মানুষই বাঁচতে পারেনি।

মন্তব্য