kalerkantho

শনিবার । ১৬ নভেম্বর ২০১৯। ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিটের ধাক্কায় চিংড়ি রপ্তানি কমার শঙ্কা

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রেক্সিটের ধাক্কায় চিংড়ি রপ্তানি কমার শঙ্কা

খুলনার একটি ঘেরে চিংড়ি চাষ। ছবি : কালের কণ্ঠ

বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান খাত হিসেবে বিবেচিত চিংড়ি রপ্তানিতে আরো একটি ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। ইউরোপে মন্দা এবং বেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্য সংকটে পড়ায় সেখানকার বাজারে চিংড়ির চাহিদা কমে যায়। স্বাভাবিকভাবে দামও কমে যায়। ফলে চিংড়ি রপ্তানিতে নতুন করে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানি হওয়া মোট চিংড়ির ৮০ শতাংশই যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয়। আর রপ্তানি হওয়া গলদা চিংড়ির ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাজ্য। সেখানকার হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি গলদার চাহিদা ও সুনাম বেশ। ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে ইইউ দেশগুলোয় চিংড়ির চাহিদা কমতে থাকে। কম দামে কিছু পণ্য যাচ্ছিল।

চিংড়ি রপ্তানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও এর দাম কমেছে। উৎপাদনকারীরা উৎপাদন খরচের তুলনায় বেশি দাম পাচ্ছেন না বলে তাঁদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা তৈরি হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চাষিরা গলদা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। একাধিক রপ্তানিকারক জানান, এমনিতেই বিদেশের চিংড়ির বাজার দখল করে আছে ‘ভেনামি’ নামের এক ধরনের হাইব্রিড চিংড়ি। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ায় এর ব্যাপক চাষ হয়। একরপ্রতি উৎপাদন আট থেকে ১০ হাজার কেজি। ততটা সুস্বাদু না হলেও পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহের কারণে সহজেই তা বাজার দখল করেছে। এ ছাড়া আছে অস্ট্রেলিয়ার রেড শ্রিম্প। এটিও এক ধরনের গলদা চিংড়ি। অস্ট্রেলিয়ায় এটি প্রচুর ধরা পড়ছে। দামও কম। ফলে আমাদের গলদা ভেনামি ও রেড শ্রিম্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।

জানতে চাইলে সাবেক মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার সরকার বলেন, ‘আমাদের গলদা ও বাগদা খেতে সুস্বাদু হলেও দাম বেশি; তুলনামূলকভাবে বিদেশিরা কম দামে চিংড়ি দিচ্ছে। ইউরোপের বাজার মন্দার কবলে পড়লে ক্রেতারা ওই কম দামের পণ্যের দিকে ঝোঁকে। যুক্তরাজ্যও এই সংকটে পড়ায় আমাদের বাজার সংকুচিত হয়। আর এখন তো যুক্তরাজ্য ব্রেক্সিট ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকটে পড়ল। ফলে আমাদের জন্য এটা মোটেই ভালো খবর নয়। আমাদের বাজারও বড় ধরনের ধাক্কার মুখোমুখি হতে পারে।’

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) পরিচালক এস হুমায়ুন কবিরও একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। অবশ্য তিনি আশার কথাও বলেন। তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালায় পরিবর্তন এনে উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধিতে উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে হ্যাচারির মাধ্যমে পোনার সরবরাহ বৃদ্ধি, আধুনিক পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ প্রদান ও ঝুঁকি কমাতে ‘চিংড়ি বীমা’ চালু করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আনা ও উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব। তাহলে রপ্তানিক্ষেত্রে আসন্ন ঝুঁকি আমরা কমিয়ে আনতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা