kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

লন্ডনে প্রযুক্তি বিনিয়োগ কমেছে ৩০ শতাংশ

আর্থিক খাতের পাঁচ হাজার চাকরি চলে যাবে

বাণিজ্য ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লন্ডনে প্রযুক্তি বিনিয়োগ কমেছে ৩০ শতাংশ

ব্রিটেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে পৃথক হয়ে যাচ্ছে এ সম্ভাবনা থেকে প্রযুক্তি কম্পানিগুলো এখন ইউরোপ নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করছে। এর আগে লন্ডনকে ইউরোপে ব্যবসা সম্প্রসারণের হাব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হতো লন্ডনে। কিন্তু ২০১৬ সালে এক গণভোটে ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এখন সেই বিনিয়োগ চলে যাচ্ছে বার্লিন, প্যারিস ও রোমের দিকে। আগামী ২৯ মার্চ চূড়ান্তভাবে ইইউ ত্যাগ করবে যুক্তরাজ্য।

গতকাল বুধবার প্রমোশনাল এজেন্সি লন্ডন অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি স্টার্ট-আপসের জন্য ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহর লন্ডন। কিন্তু ব্রেক্সিট ঘনিয়ে আসায় এ খাতে বিনিয়োগ কমছে। ২০১৮ সালে প্রযুক্তি ব্যবসায় বিনিয়োগ হয় ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ড (২.৩ বিলিয়ন ডলার), যা ২০১৭ সালের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম। এমনকি গত ছয় বছরের মধ্যে এই প্রথম বিনিয়োগ কমল।

তবে ২০১৮ সালে লন্ডনের এ বিনিয়োগ এখনো ইউরোপীয় অন্যান্য শহরের চেয়ে দ্বিগুণ। প্রযুক্তি স্টার্ট-আপস বিনিয়োগের দিক থেকে ইউরোপে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বার্লিন। এ শহরে গত বছর বিনিয়োগ হয় ৯৩৬.৫৩ মিলিয়ন পাউন্ড। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা প্যারিসে বিনিয়োগ হয় ৭৯৭.০৪ মিলিয়ন পাউন্ড।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ছে মূলত কয়েকটি উদীয়মান খাতকে কেন্দ্র করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ফিনটেক বা আর্থিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ব্লকচেইন। ২০১৮ সালে ব্রিটেনের পুরো টেক স্টার্ট-আপ খাত বেড়ে হয় প্রায় ২.৫ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০১৭ সালের চেয়ে ২০.২ শতাংশ কম।

এ দিকে ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ-পরবর্তী দেশটির অর্থনীতিতে কী ক্ষতি হতে পারে এ নিয়ে হিসাব কষছেন নীতিনির্ধারকরা। ব্রিটেনের আর্থিক সেবা মন্ত্রী জন গ্লেন বলেন, ইইউ ত্যাগ করার পরও যাতে আর্থিক খাতের একটি বৃহৎ কেন্দ্র হিসেবে লন্ডন ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করার জন্য যা দরকার সবই তিনি করবেন।

তিনি বলেন, আগামী মার্চে ব্রিটেন ইইউ ত্যাগ করার পর আর্থিক খাত থেকে পাঁচ হাজার চাকরি ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে যাওয়ার যে হিসাব ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কষেছে তার সঙ্গে আমি একমত। তিনি আরো বলেন, ‘আমার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে লন্ডনের গুরুত্ব রক্ষা করা। তবে এখনো পর্যন্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপকভাবে অন্যান্য শহরে চলে যাচ্ছে তা আমরা দেখিনি। তিনি বলেন, চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট আমাদের জন্য কঠিন হবে, তবে কিছু ক্ষতি হয়তোবা এড়ানো যাবে। এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা