kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেলিনর গ্রুপের গবেষণা প্রতিবেদন

জীবনযাত্রা বদলে দেবে ৭ প্রযুক্তি

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবনযাত্রা বদলে দেবে ৭ প্রযুক্তি

প্রতিবেদন প্রকাশে গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল পি ফোলিসহ অন্যরা

চলতি ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাইজেশনে প্রভাব ফেলবে সাতটি প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তিপণ্য ও সেবা ব্যবহার, অভ্যস্ততা ও চিন্তার ধরন বদলে দেবে। প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিপফেক, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ৫জির প্রসার, আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংসের বিস্তৃত ব্যবহারের উত্থান, বাসায় ব্যবহারে ভয়েস অ্যাক্টিভেটেড চ্যাটবটস এবং সচেতনতামূলক বিষয় যেমন—ডিজিটাল স্ক্রিনে থাকার সময়ের নিয়ন্ত্রণ ও মোবাইলচালিত গ্রিন টেকনোলজি।

টেলিনর গ্রুপের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘টেলিনর রিসার্চ’-এর বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ও বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এমন সব প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গতকাল সোমবার রাজধানীর জিপি হাউসে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টেলিনর রিসার্চের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিয়র্ন হ্যানসেন।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি ফোলি, ডাটাসফট ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বল ইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান রহমান রতন, পাঠাওয়ের সিইও হোসাইন ইলিয়াস, গ্রামীণফোনের হেড অব আইসিটি বিজনেস রেদওয়ান হাসান খান এবং হেড অব ডিজিটাল অ্যান্ড অ্যানালাইটিকস অপারেশন সোয়াইবা সারওয়াত সিনথিয়া।

হেড অব টেলিনর রিসার্চ বিয়র্ন টালে স্যান্ডবার্গ বলেন, ‘প্রযুক্তি বিশ্ব প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। চলতি বছর যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ব্যাপক পরিসরে হবে বলেই আমরা মনে করি। এই উদ্ভাবন প্রতিফলন, বাস্তবিক প্রয়োগ ও পরিপ্রেক্ষিতের প্রয়োজনকেই তুলে ধরবে এবং ২০১৯ সালের প্রযুক্তির কাঁটা সেদিকেই যাচ্ছে। যত পথই পাড়ি দিতে হোক না কেন, আমরা চাই আমাদের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতভাবে নিরাপদ, বাস্তব ও ইতিবাচক হোক।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, অতি উন্নত অ্যালগরিদম সহজেই জাল ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে পারবে এবং ডিপফেক কন্টেন্টগুলো এতটাই অত্যাধুনিক হবে যে ডিজিটাল বিশ্বের কোনটা আসল আর কোনটা নকল তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এরই মধ্যে পুরো বিশ্ব ৫জি প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করেছে। কিন্তু ২০১৯ সালেই এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা পুরোপুরি উপলব্ধি করা যাবে। এ বছরেই বাণিজ্যিকভাবে ৫জি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হবে এবং এসংক্রান্ত বিভিন্ন বিপণন প্রচারণাও লক্ষ করা যাবে। স্বচালিত ও স্বয়ংবাহিত বাস থেকে অটোমেটেড ফিশারিজ, ডেটানির্ভর টিভি ও ফিক্সড ব্রডব্যান্ড থেকে ৫জি ক্ষমতাসম্পন্ন রিমোট সার্জারির সম্ভাব্য অ্যাপ্লিকেশন—এসব মিলে বলা যেতে পারে ২০১৯ সালে ৫জির অবাধ দ্বার উন্মোচিত হবে। ২০২০ সালে বাণিজ্যিকভাবে এ প্রযুক্তির নানা ব্যবহার গ্রাহকের জন্য বাজারে চলে আসবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে লো-পাওয়ার ওয়াইড-এরিয়া  ইকোসিস্টেমে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটির মাধ্যমে প্রোটোটাইপ থেকে বৃহৎ পর্যায়ে কমার্শিয়াল ডেপয়মেন্ট ঘটবে। বৃহদায়তনে আইওটি শিল্প বিশেষ করে স্মার্ট সিটি, শিল্প উত্পাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প যেমন—শিপিং, ট্রাফিক ও ট্রান্সপোর্ট মনিটরিং এবং ফিশারিজ গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী মাইকেল পি ফোলি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত ও একীভূত হচ্ছে, যা সত্যিই ইতিবাচক। নতুন প্রযুক্তিপ্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশব্যাপী শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও স্টার্টআপগুলো কিভাবে প্রস্তুত হওয়া উচিত তা স্পষ্টভাবেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা