kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিদেশি পর্যটকবাহী তিন জাহাজ আসছে দেশে

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি পর্যটকবাহী তিন জাহাজ আসছে দেশে

বিদেশি পর্যটক নিয়ে আবারও বাংলাদেশে আসছে আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী জাহাজ ‘সিলভার ডিসকভারার’। প্রায় ৬৬ জন বিদেশি পর্যটক নিয়ে ২০১৭ সালে প্রথমবার দেশে এসেছিল এই বিলাসবহুল জাহাজ। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক অনেক রুটে চললেও জাহাজটি বাংলাদেশে আসেনি।

এবার জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে পর পর তিনটি বিলাসবহুল জাহাজ আসছে বিদেশি পর্যটক নিয়ে। আগে কলকাতা, থাইল্যান্ড হয়ে বাংলাদেশে এলেও এবার আসছে চেন্নাই-মিয়ানমার রুটে। উদ্দেশ্য, বাংলাদেশের পর্যটনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ। তবে এই প্রথম জাহাজের পর্যটকরা একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনস ভ্রমণ করবে।

প্রথম জাহাজে অন্তত ৬১ পর্যটক থাকবে; যাদের বেশির ভাগই ইউরোপ-আমরিকা-অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসী; যারা প্রথমবার বাংলাদেশ ভ্রমণে আসছে। প্রথম জাহাজটি ২২ জানুয়ারি ভারতের চেন্নাই থেকে রওনা দিয়ে ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের মোংলা সমুদ্রবন্দরে বহির্নোঙরে পৌঁছবে। সেখানে তিন দিন সুন্দরবনের অপরূপ সৌন্দর্য ভ্রমণ শেষে ২৯ জানুয়ারি কক্সবাজারের মহেশখালী এবং ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনস ঘুরে দেখবে। এরপর জাহাজটি মিয়ানমার যাবে।

দ্বিতীয় জাহাজটি ৫ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমার থেকে রওনা দিয়ে ভারতের পোর্ট ব্লেয়ার ও আন্দামান দ্বীপ হয়ে মিয়ানমারের সিটওয়ে বন্দর হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি সেন্ট মার্টিনস দ্বীপ হয়ে সুন্দরবন এবং মোংলা বন্দর হয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই বন্দরে পৌঁছবে। আর তৃতীয় জাহাজটি ১৯ ফেব্রুয়ারি চেন্নাই থেকে রওনা দিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবন হয়ে মহেশখালী, সেন্ট মার্টিনস ঘুরে মিয়ানমারে যাবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ আসার ঘটনা এই প্রথম। এটি দেশের পর্যটনশিল্পের বড় অর্জন। প্রতিটি ট্যুরই ১৪ দিন মেয়াদি এবং থাকা-খাওয়াসহ ভ্রমণের সর্বনিম্ন খরচ ১০ হাজার ইউএস ডলার (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে আট লাখ টাকা)। জাহাজটির স্যুটে ভ্রমণে খরচ ১৪ থেকে ১৬ হাজার ডলার।

২০১৬ সালে তৈরি ‘সিলভার ডিসকভারার’ জাহাজটিতে ১২০ জন পর্যটক ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে; আর পুরো জাহাজের ক্রু রয়েছে ৯৬ জন। জাহাজটিতে আন্তর্জাতিক মানের রেস্টুরেন্ট, লাউঞ্জ, স্যুট ও বিশাল ডেকে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন প্রতিমন্ত্রী পাওয়ার পর এখনো আমরা বিদেশি পর্যটকবাহী জাহাজ আসার প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে বসিনি। আগামী সপ্তাহে বসতে পারি।’

সিলভার ডিসকভারার জাহাজটির দেশীয় ট্যুরিজম পার্টনার জার্নি প্লাসের সিইও তৌফিক রহমান বলেন, ‘গতবারের অভিজ্ঞতায় আমরা বলেছি বিদেশি যাত্রীদের অনবোর্ড ইমিগ্রেশন ও অনবোর্ড কাস্টমস এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা দিতে। এতে ভবিষ্যতে বিদেশি যাত্রীরা আসতে অনেক বেশি আগ্রহী হবেন।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে জানতে আমি গত সপ্তাহেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। আশা করছি আগামী সপ্তাহে একটি সিদ্ধান্ত পাব।’ 

জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রথমবার যখন জাহাজটি পর্যটক নিয়ে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে এসেছিল, তখন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না। অভিজ্ঞতা না থাকায় পর্যটকদের ইমিগ্রেশন করতে গিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল। পর্যটকদের ভিসা দিতে ভোগান্তি হয়েছিল। তবে এবার বেশ আগেভাগেই প্রস্তুতিসভা হয়েছে; এবার বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ নিরবচ্ছিন্ন করতে টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছে। এরপর আর অগ্রগতি হয়নি।

পর্যটকরা মোংলা বন্দর দিয়ে ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করে আর টেকনাফ স্থলবন্দরের মাধ্যমে ‘এক্সিট ভিসা’ নিয়ে বাংলাদেশ ভ্রমণ সম্পন্ন করেছিল। সে সময় পর্যটকপ্রতি ৫১ ডলার করে রাজস্ব পেয়েছিল বাংলাদেশ।

জুনিয়র চেম্বার চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমবার বাংলাদেশ ভ্রমণে আমরা তাদের যথেষ্ট সহযোগিতা দিতে পারিনি। এর পরও এবার তিনটি জাহাজ আসছে। এর অর্থ বাংলাদেশ ভ্রমণে তাদের প্রচুর আগ্রহ রয়েছে। পর্যটকদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কত টাকা রাজস্ব পেল সেটি বড় কথা নয়। তাদের সন্তুষ্টির মাধ্যমে যে প্রচার হবে তার মূল্য দেশের পর্যটনশিল্পের বিকাশে বিরাট ভূমিকা রাখবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা