kalerkantho

রবিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০২০। ৫ মাঘ ১৪২৬। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

চাল ব্যবসায়ীদের কাছে ইজ্জত রক্ষার অনুরোধ খাদ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাল ব্যবসায়ীদের কাছে ইজ্জত রক্ষার অনুরোধ খাদ্যমন্ত্রীর

চালকল মালিক এবং চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

চালের দাম স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ইজ্জত রক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি চাল ব্যবসায়ীদের বলেন, ‘চালের বেশির ভাগ ব্যবসায়ী উত্তরবঙ্গের। আমরা দুই মন্ত্রীও (বাণিজ্যমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রী) উত্তরবঙ্গের। তাই আপনাদের কাছে আমাদের দাবি, আপনারা আমাদের ইজ্জত রাখবেন।’

গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য ভবনে চালকল মালিক এবং চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনাসভায় এ মন্তব্য করেন খাদ্যমন্ত্রী। এ সময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, দেশে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমানে ১৩ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুদ রয়েছে। কোনো ঘাটতি নেই। তার পরও কেন চালের দাম বাড়ছে আমরা তা জানি না।

চাল ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যমূল্য স্থিতিশীলতায় আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন। এ সময় বিভিন্ন জেলার চাল ব্যবসায়ীরা চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করতে মন্ত্রীকে আশ্বাস দেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা যখন মূল্য বাড়ার বিষয়ে নিউজ লিখবেন; তখন প্রকাশের আগে আমাদের জানান। আমরা ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করব।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পর্যাপ্ত মজুদও আছে। কোনো খাদ্যে সমস্যা নেই। যদি কোনো অসাধু উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে চালের মূল্যবৃদ্ধির কোনো কারণ নেই।

সভায় চালকলের মালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠন বাংলাদেশ অটোমিলার অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী খান বলেন, মিলগুলোতে চালের দাম বাড়েনি। নির্বাচনের সময় কিছু কিছু জায়গায় চিকন চালের দাম বেড়েছিল। তাও সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা। তবে কোনো মিলে মোটা চালের দাম বাড়েনি বলে দাবি করেন তিনি।

যদিও কয়েক দিন ধরেই এই চাল ব্যবসায়ী নেতা বিভিন্ন মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন মিলপর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে।

নওগাঁর চাল ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, নাওগাঁয় মিনিকেট চাল ৪৭ টাকা ৮০ পয়সা, এই চাল ঢাকায় কিভাবে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা বিক্রি হয় এটা খতিয়ে দেখেন।

নির্বাচনের কারণে সরবরাহ ঘাটতি থাকায় দুই-তিন দিন চালের দাম সামান্য বেড়েছিল। এটা সর্বোচ্চ ৫০ পয়সা। তবে মোটা চালের কোনো দাম বাড়েনি। বর্তমানে মিলে ৩০ টাকা ৬০ পয়সা দামে মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে বলে জানান মিল মালিকরা।

ঢাকার বাবুবাজার-বাদামতলী আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজি নিজাম উদ্দিন বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন কারণে মোটা ও চিকন চালের দাম দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। দেশে বড় বড় মিল ও আড়তদাররা আছেন।

তাঁরা যদি সিদ্ধান্ত নেন চালের দাম আর বাড়াবে না। তাহলে আর বাড়ার সুযোগ নেই। তাঁরা যদি বলেন এক থেকে দুই টাকা চালের দাম কমবে তাহলে কাল থেকেই কমে যাবে। কারণ সারা বাংলাদেশে তারাই চাল জোগান দিয়ে থাকেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা