kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

নিষিদ্ধ হলো এমবিএম আমদানি

শওকত আলী   

৪ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিষিদ্ধ হলো এমবিএম আমদানি

প্রাণী খাদ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য উপকরণ ‘মিট অ্যান্ড বোন মিল’ (এমবিএম) আমদানি নিষিদ্ধ করতে একটি নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এমবিএম বিদেশ থেকে আমদানি আবশ্যিকভাবে বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে এ মন্ত্রণালয়। এমবিএম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি পশুখাদ্য প্রস্তুতে ফিস মিলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিকল্প অন্যান্য উদ্ভিদ প্রাণিখাদ্য উপকরণ ও খনিজ ব্যবহার করে প্রাণিখাদ্য প্রস্তুতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ফার্মের মুরগি এবং অন্যান্য প্রাণীর খাবার তৈরিতে ব্যবহার হয় এমবিএম। প্রাণিজ মাংস এবং হাড়ের গুঁড়া দিয়ে তৈরি এই এমবিএম প্রোটিনের বড় উৎস এবং এটি শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা মূলত ম্যাড কাউ ডিজিজ (বিএসই) এবং প্রিয়ন ডিজিজ (টিএসই) এর অন্যতম বাহক এবং কারণ, যা পশুর মাধ্যমে ছড়াতে পারে মানুষের দেহে। এ রোগ মস্তিষ্ক, স্পাইনাল কর্ড এবং নার্ভাস সিস্টেমকে ধ্বংস করে দেয়। বাংলাদেশে প্রচলিত পশু-পাখির খাদ্যগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা করা যায় এমন কোনো ব্যবস্থাও নেই। যে কারণে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে ছিল বাংলাদেশ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই অবস্থা থেকে বের হতে চায় বাংলাদেশ। যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে বন্ধ করা হলো এমবিএমের আমদানি।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এমবিএম তৈরিতে ট্যানারির বর্জ্য এবং শুয়োরের মাংসও ব্যবহার করা হয়, যা রোগ ছড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক, ক্লোরামফেনিকল, ক্রোমিয়াম এবং বিএসই ও টিএসই রোগের জীবানু নেই এমন প্রমাণ আমদানিকারকরা সঠিকভাবে দিতে পারছে না। যে কারণে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমবিএম মূলত প্রোটিনের উৎস বলে এটি দূষিত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। আর দূষিত হলে এমবিএমের সঙ্গে কোনো জীবাণু থাকে না, এমবিএম পুরোটাই জীবাণু হিসেবে কাজ করে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের পশু খাদ্যের গুণগত মান, দাম, সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়াদি বিবেচনায় নিয়ে প্রাণী খাদ্যে ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য উপকরণ এমবিএম বিদেশ থেকে আমদানি করা আবশ্যিকভাবে বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। সে ক্ষেত্রে পশুখাদ্য প্রস্তুতে ফিস মিল ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। এ ছাড়া বিকল্প অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রাণিখাদ্য উপকরণ সয়াবিন মিল, ডিডিজিএস, কর্ন গ্লুটেন মিল, রেপ সিড মিল আমদানি ও প্রয়োজন মতো অ্যামাইনো এসিড ও খনিজ পদার্থ (ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস) মিশিয়ে প্রাণিখাদ্য প্রস্তুত কিংবা বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিরাপদ খাদ্যমান ও সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য এমন খাদ্য প্রস্তুত-প্যাকিং ও বাজারজাতকরণে উৎসাহী করতে বলা হয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে। এসব বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এমবিএম আমদানি বন্ধে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেয়েছি এবং কাজও শুরু করেছি। বিকল্প খাদ্যের উৎপাদন, প্রচার ও বাজারজাত করা নিয়ে কাজ চলছে।’

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে এমবিএম আমদানি বন্ধ করতে আমদানি নীতি আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্যও সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরকে।

এমবিএম আমদানি, বাজারজাত, পরিবহন, মজুদ, বিক্রি থেকে শুরু করে সব ধরনের ব্যবহার বন্ধে সহযোগিতা করবে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি দ্রুতই কাস্টমসে চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনার বিষয়টি জানিয়ে দেবে।

এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. মাহবুব কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এমবিএম আমদানি, বাজারজাত, পরিবহন, মজুদ, বিক্রি বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। পত্রিকাগুলোতেও গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে সবাইকে বিষয়টি অবহিত করব।’

বাংলাদেশে ২০০০ সালের পরপর একটি গবেষণা হলেও ম্যাড কাউ রোগের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে তখন থেকেই এই রোগের ঝুঁকিতে ছিল বাংলাদেশ। সারা বিশ্বের প্রাণী স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন ফর এনিম্যাল হেলথের কালো তালিকাভুক্ত হিসেবে রয়েছে। সেখান থেকে এখনো বের হতে পারেনি।

একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এমবিএম আমদানি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা সাম্প্রতিক সময়ে এমবিএম আমদানির বিষয়ে কিছু বলতে চাননি। প্যারাগুয়ে, ক্রোয়েশিয়া, আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশ থেকে এমবিএম আমদানি হয়ে আসছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা