kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

ব্যাংক খাতে সংস্কার চান পরিকল্পনামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যাংক খাতে সংস্কার চান পরিকল্পনামন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দুই মেয়াদে ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে—বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির এমন তথ্য দেওয়ার এক দিন পর পরিকল্পনমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমান উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে ব্যাংকিং খাত মেরামত করে চালানো যাবে না। আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। সংস্কার ছাড়া ব্যাংক রক্ষার বিকল্প নেই। এটি এখন সময়ের দাবি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এ সময় চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এডিপি বাস্তবায়নে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে কখনো এত বেশি টাকা ব্যয় করা সম্ভব হয়নি। চলতি অর্থবছরে জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ২০.১৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ২০.১১ শতাংশ। এর আগের অর্থবছরে ১৯.১৩ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল। অর্থ ব্যয়ের দিক থেকেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব জিয়াউল ইসলাম, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামিমা নার্গিসসহ অন্যরা।

গত শনিবার সিপিডি আয়োজিত এক সংলাপে বলা হয়, আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরে ১০ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ২২ হাজার ৫০২ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে নীতির দুর্বলতা ছিল না। কিন্তু তদারকির দুর্বলতা ছিল। যদি শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা থাকত, তাহলে এসব অনিয়মের ঘটনা ঘটত না।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জন্য দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকিং খাতের ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রথমে আমরা ইনক্লুসিভ ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংসহ এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি। গ্রামগঞ্জে ব্যাপক আকারে ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। মানুষকে ব্যাংকিংয়ে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এখন সংস্কার আনতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৩৬ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৩২ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যয় হয় ২৩ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৭ হাজার ১১ কোটি টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রপ্তানি, রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, রাজস্ব আয় সব ক্ষেত্রেই ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৮.২৫ থেকে ৮.৩০ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২১ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ১০ শতাংশে। তবে এই অর্জন ধরে রাখতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন এবং মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন শেষ করতে হলে সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। কেননা উন্নত দেশে এক সরকার যেখান থেকে শেষ করে নতুন সরকার এসে সেখান থেকেই শুরু করে। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো চিত্র। নতুন সরকার এলে সব কিছুই নতুন করে চিন্তাভাবনা করে। এতে অনেক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ সময় তিনি বর্তমানে সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকায় আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের কারণে অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেড়েছে। শিল্প-কারখানায় বিদ্যুৎ পেতে আর সমস্যা নেই। তাই কর্মসংস্থানও বাড়বে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ বাড়ছে। সেগুলো ব্যাপক কর্মসংস্থান হবে।

আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ০.৯১ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ২.৩৩ শতাংশ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৩.৯৫ শতাংশ, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ৮.৩৮ শতাংশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ৮.৬৭ শতাংশ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণায় ৩.৮০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।

অন্যদিকে এডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ৪১.৪২ শতাংশ, আইএমইডি ৪০.৮৫ শতাংশ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ৩৯.৬৭ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিভাগ ৩৬.৮৭ শতাংশ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ৩৪.৭৬ শতাংশ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ৩০.৬৫ শতাংশ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ৩০.৫০ শতাংশ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ৩০.৪১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে।

মন্তব্য