kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

দুধ উৎপাদনে ৪% সুদে ঋণ পাবেন খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুধ উৎপাদনে ৪% সুদে ঋণ পাবেন খামারিরা

প্রকৃত খামারিরা ব্যাংক থেকে এ ঋণ নিতে পারবেন

দুধ উৎপাদনে এখন থেকে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনরর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় এত দিন এই ঋণের সুদ নেওয়া হতো ৫ শতাংশ। অর্থাৎ এখন থেকে আরো কম সুদে গাভি-বকনা বাছুর কেনা ও লালন-পালনের জন্য ব্যাংক ও বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ঋণ নিতে পারবেন দুধ উৎপাদন এবং কৃত্রিম প্রজননের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত খামারিরা। একক ও যৌথ নামে এই ঋণ নেওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

এই সুদের হার আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

এই ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে ব্যাংক ও বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারের প্রচলিত সুদের তুলনায় কম সুদে ঋণ বিতরণ করায় তাদের যে পরিমাণ সুদ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে, সেই পরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংক ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশকে দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য ২০১৫ সালে ৫ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে একটি পুনরর্থায়ন কর্মসূচি হাতে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই সময় এসংক্রান্ত নীতিমালায় ঋণের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছিল, এ স্কিমের আওতায় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংক রেটে পুনরর্থায়ন সুবিধা পাবে (বর্তমানে ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ, যা পরিবর্তনশীল)। অর্থাৎ গ্রাহক পর্যায়ে তখন এই ঋণের সুদের হার ছিল সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিতরণ করা ঋণের বিপরীতে সুদ ক্ষতি বা ভর্তুকি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ দাবি করতে পারত।

গতকালের নির্দেশনায় গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার ১ শতাংশীয় মাত্রা কমিয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং সরাসরি ৫ শতাংশ সুদ ক্ষতি দাবির বিষয়টি উঠিয়ে দিয়ে সেখানে কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালায় প্রযোজ্য সুদহারের তুলনায় প্রকৃত সুদ ক্ষতি বাবদ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি করা যাবে বলে জানানো হয়। জানা গেছে, এই ঋণের তহবিল জোগান দিতে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিলও গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দুধের আমদানিনির্ভরতা কমাতে এর উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে ওই তহবিল থেকে দুগ্ধ খামারের পরিধির ওপর ভিত্তি করে ঋণ দেওয়া হয়। একটি বকনা বাছুর কেনার জন্য ৪০ হাজার টাকা এবং লালন-পালনের জন্য ১০ হাজার টাকা হারে একজন সর্বোচ্চ চারটি বকনা বাছুরের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ নিতে পারেন।

পুনরর্থায়ন কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উনয়ন ব্যাংক, বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক, আইএফআইসি, মিডল্যান্ড, ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে এই ঋণ পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকেও এই ঋণ পাওয়া যাবে।



সাতদিনের সেরা