kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

তামার দাম কমেছে ২০ শতাংশ

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা

বিশ্ববাজারে গত জুন থেকে এ পর্যন্ত তামার দাম কমেছে ২০ শতাংশ। বিষয়টি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে বিশ্লেষকদের। তাঁরা এটিকে বিশ্বমন্দার পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রবাহ বলতে পারে এই তামা। সে কারণেই এটিকে ‘ডক্টর তামা’ নামেও অভিহিত করা হয়।

আধুনিক যুগে ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই তামার ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে তামা বলতে পারে কখন বিশ্ব অর্থনীতি রুগ্ণ হওয়ার দিকে যাচ্ছে আর কখন ভালোর দিকে যাচ্ছে। প্লাম্বিং, হিটিং, বৈদ্যুতিক এবং টেলিকমিউনিকেশন তারে তামা ব্যবহার হয়। এজে বেল এর বিনিয়োগ পরিচালক রাস মল্ড বলেন, ট্রেন, বিমান, গাড়ি এগুলো পুরোপুরিই তামার ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি বাসা-বাড়িতে এবং গৃহস্থালি পণ্যে তামা ব্যবহার হয়। ফলে তামা ছাড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনুমান করা কঠিন। তামার বাজারমূল্য এর চাহিদার বিষয়টি স্পষ্ট করে।

মুদ্রানীতি ঠিক করতে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের যে অর্থনীতিবিদরা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা তাঁদের ব্লগে লিখেছেন—বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে কী ঘটছে তা কার্যত মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে তামার মূল্য সত্যিকার অর্থে একটি অশনিসংকেত দিচ্ছে।

তামার এ সংকেত কতটুকু বাস্তবসম্মত তা অতীতের কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়। গত বছর বিশ্ব প্রবৃদ্ধির নাটকীয় উত্থান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদেরও বিস্মিত করেছিল। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের অর্থনীতিবিদরা লেখেন— গত বছর তামার দাম বেড়েছিল ৩০ শতাংশ, যা বিশ্ব প্রবৃদ্ধির বিস্ময়কর উত্থানের একটি সংকেত ছিল।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান বৈশ্বিক অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রো কেনিংহাম বলেন, ২০০৯ সালের বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের সময় তামার দাম ব্যাপকভাবে কমেছিল। যদি এখন এই লাল ধাতুর দাম দীর্ঘ মেয়াদে পড়তে থাকে তবে এটিকে অবশ্যই অলক্ষুণে হিসেবেই দেখতে হবে। তিনি বলেন, তবে তামার মূল্য অর্থনীতির ভালো-মন্দের ক্ষেত্রে পুরোপুরি নির্ণায়ক বলা যায় না, কারণ সরবরাহ ফ্যাক্টরের কারণেও অনেক সময় দাম ওঠানামা করে।

এ ছাড়া তামা যেহেতু ডলারে লেনদেন হয় সেহেতু চীনা ইউয়ান বা উদীয়মান অন্যান্য মুদ্রার দরপতনে তামা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, যা চাহিদা কমিয়ে দেয়। ফলে চাহিদা কমায় এ ধাতুর দাম পড়ে যায়।

এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন হচ্ছে তামার বাজার বর্তমানে দুর্বল হওয়ার কারণ কী? চলতি মাসেও তামার দাম কমেছে ৩.৭১ শতাংশ। জুনের শুরুতে তামার দাম ছিল প্রতি টন সাত হাজার ২০০ ডলার। নিউ ইয়র্কে বর্তমানে দাম কমে হয়েছে পাঁচ হাজার ৬৮৮ ডলার।

এএনজি ব্যাংকিং গ্রুপের এক বিশ্লেষণে লেখা হয়েছে, বিশ্ববাণিজ্যে শুল্ক আরোপের উদ্বেগ থেকে তামার দাম কমেছে। এজে বেলের রাস মল্ড বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তামাকে একটি সতর্কঘণ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুতরাং তামা দুর্বল হওয়া মানে বিশ্ব অর্থনীতি দুর্বল হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্ববাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাঁরা বলছেন, এতে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিশ্ব অর্থনীতি গতি হারাতে পারে।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো ২০০ বিলিয়ন ডলার চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর আগে তিনি চীনের ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক আরোপ করেছেন। পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে চীনও। এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিবেশী কানাডা ছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে বড় অঙ্কের আমদানি পণ্যের ওপরও শুল্ক আরোপ করেছে। এসব শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে শতভাগ পর্যন্ত। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপও শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে এক দেশের অন্য দেশের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এ নিয়ে এক পূর্বাভাসে রেটিং এজেন্সি মুডিস জানায়, চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য উত্তেজনা এ বছর আরো খারাপের দিকে যাবে এবং ২০১৯ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে।

মুডিসের ম্যাক্রো ইকোনমিক বোর্ডের চেয়ার এলেনা ডাগার প্রান্তিক বৈশ্বিক পূর্বাভাস প্রকাশ অনুষ্ঠানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে চীনা কম্পানিগুলোর নতুন কম্পানি অধিগ্রহণে আরো সীমাবদ্ধতা আরোপ হবে বলে আমরা মনে করছি। এর পাশাপাশি চীনা পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা আরো কার্যকর হবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে বাণিজ্য যুদ্ধ চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডকে ধীর করে দেবে। এতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা