kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জিডিপিতে বীমার অবদান মাত্র ০.৯ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আর্থিক খাতগুলোর মধ্যে বীমা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বীমার অবদান মাত্র ০.৯ শতাংশ। তবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) গতিশীল নেতৃত্বে দেশের বীমা খাত অতি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়িত হলে বীমা খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা সম্মেলন-২০১৮’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম।

বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেলে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুল ইসলাম আরো বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যা মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার অংশ হিসেবে এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এ সমস্যা মোকাবেলায় সময় সময় বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করে আসছে। এসব কার্যক্রম সফল করার ক্ষেত্রে আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নমুক্ত একটি সুসংহত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার স্বার্থে তিনি পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে বীমা কম্পানিগুলোর মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কাঠামো উন্নয়ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি আইডিআরএ চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের কাঠামো উন্নয়নে কাজে লাগবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং কোনো বীমাকারী যেন মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকার জন্য পরামর্শ দেন। এ ছাড়া পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে সব শক্তি দিয়ে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নমুক্ত একটি সুসংহত আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বিএফআইইউর পরামর্শক দেবপ্রসাদ দেবনাথ বলেন, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্সের যতগুলো সূচক রয়েছে তার প্রত্যেকটিতেই বাংলাদেশ কমপ্লায়েন্স এবং বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ের টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্স অর্জন করেছে। তিনি মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনের রিপোর্টে উল্লিখিত মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ইফেক্টিভনেসের মানকে উন্নত করার জন্য অন্যান্য খাতের মতো ইনস্যুরেন্স খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপপ্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস বলেন, বীমা খাতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার না করা গেলে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বীমা খাতে প্রবেশ করে এ খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট করবে। বীমা খাতকে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়নমুক্ত রাখা এবং এ খাতের সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ খাতের টেকসই উন্নয়ন করার বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা