kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

ফাইভজি থেকে হুয়াওয়ে ও জেডটিইকে বাদ দিল ভারত

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে একই পথে অস্ট্রেলিয়া সরকার

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফাইভজি থেকে হুয়াওয়ে ও জেডটিইকে বাদ দিল ভারত

পরীক্ষামূলক পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম সেবা বা ফাইভজি চালু করতে যাচ্ছে ভারত সরকার। এতে যোগ দিচ্ছে এরিকসন, নকিয়া, স্যামসাং ও সিসকো। কিন্তু প্রকল্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে ও জেডটিইকে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইটি টেলিকম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

টেলিকম সেক্রেটারি অরুণা সুন্দারারাজন ইটি টেলিকমকে বলেন, ‘সরকার ফাইভজি প্রযুক্তি পরীক্ষামূলক চালু করতে যাচ্ছে। তাতে আমরা সিসকো, স্যামসাং, এরিকসন, নকিয়া ও টেলিকম সেবাদাতা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আমাদের অংশীদার হতে। তাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়াও পেয়েছি। কিন্তু পরীক্ষামূলক প্রকল্প থেকে হুয়াওয়েকে বাদ দিয়েছি।’

ইটি টেলিকম জানায়, এ ব্যাপারে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে হুয়াওয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, গত মাসে অস্ট্রেলিয়া সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে হুয়াওয়ে ও জেডটিইকে ফাইভজি প্রকল্পে রাখেনি। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামোতে বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপ ঘটতে পারে। অস্ট্রেলীয় সরকারের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে হুয়াওয়ে বলেছে, এটা কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় করা হয়নি বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে প্রভাবিত হয়েই করা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকার আমেরিকান কম্পানিগুলোর সঙ্গে চীনা কম্পানির সংশ্লিষ্টতাকে নিরুৎসাহিত করছে। জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট পণ্য চীনা কম্পানির কাছে যাতে বিক্রি করা না হয়, এ জন্য আইনের খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে হুয়াওয়ে ও জেডটিইর টেলিকম সরঞ্জাম না কেনে, সেটিও বন্ধ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় কম্পানিটিও ঘোষণা দিয়েছে তাদের ফাইভজি পণ্যের বিক্রেতা হবে এরিকসন, নকিয়া ও স্যামসাং। হুয়াওয়েকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভারতের ফাইভজি চালুতে চীনা প্রতিষ্ঠানকে না রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। তারা বলেছে ভারতে যেকোনো প্রতিযোগিতায় সমান অধিকার, স্বচ্ছ এবং ন্যায্য পরিবেশ চায় চীন। বেইজিংয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেংগ সুয়াংগ বলেন, ‘চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ফাইভজি প্রতিযোগিতায় নেওয়া হচ্ছে না, এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন আমরা দেখেছি। চীন সরকার সব সময় নিজেদের বহুজাতিক কম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন এবং স্থানীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলতে উৎসাহিত করে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তারা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে।’

জেংগ সুয়াংগ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সংশ্লিষ্ট দেশটি প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র তৈরি করবে এবং চীনা কম্পানিগুলোকে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ার সুযোগ দেবে।’ তিনি বলেন, চীন ও ভারতের মধ্যে যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে তা দুই পক্ষেরই অনুকূলে এবং এতে উভয়েই উপকৃত হচ্ছে। এ সম্পর্ক সুন্দরভাবেই যাচ্ছে।’

গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে হুয়াওয়ে জানায়, আমরা স্থানীয় টেলিকম অপারেটর, ভারত সরকার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছি। আমরা আশা করছি ফাইভজি নেটওয়ার্ক তৈরিতে আমাদেরও সঙ্গে নেওয়া হবে। ইটি টেলিকম, লাইভ মিন্ট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা