kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘বকশিশ’ দ্বন্দ্বে টানা তিন দিন বন্ধ বেনাপোল

পেট্রাপোলে আটকা শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বকশিশ’ দ্বন্দ্বে টানা তিন দিন বন্ধ বেনাপোল

ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের প্রধান গেটে তালা। ছবি : কালের কণ্ঠ

শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে দুর্ব্যবহার, বকশিশের টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিরোধে টানা তিন দিন বন্ধ রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। বন্দরে আমদানীকৃত পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাকচালকদের সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারী কয়েকটি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের সূত্র ধরে গত শনিবার থেকে ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক সংগঠন এবং মালিক সমিতি দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে শনি, রবি ও সোমবার ভারত থেকে কোনো পণ্য বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি এবং বেনাপোল বন্দর থেকে কোনো পণ্য ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে যায়নি। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় উভয় পাশে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবোঝাই ট্রাক। যার অধিকাংশই রয়েছে বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী গার্মেন্টশিল্পের কাঁচামাল, মাছ, পানসহ বিভিন্ন ধরনের পচনশীল পণ্য। তবে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলে বেনাপোল বন্দরে খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। কাস্টমসেও কাজ চলছে স্বাভাবিকভাবে।

গতকাল সোমবার সকালে দুই দেশের ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তিন ঘণ্টার যৌথ সভা থেকেও কোনো সমাধান আসেনি। ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকদের অভিযোগ, সে দেশ থেকে রপ্তানি করা পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসার পর তাদের ওপর শুরু হয় নানা হয়রানি। নিয়মমাফিক বকশিশের টাকা দিলেও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। এসব জটিলতা নিরসনে দুই দেশের বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে সম্প্রতি দুটি আলোচনাসভা বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পণ্যবাহী ট্রাকবিশেষ বকশিশের হার বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু বেনাপোল বন্দরের কয়েকটি সংগঠনের সদস্যরা এই সিদ্ধান্ত না মেনে ইচ্ছামাফিক বকশিশ আদায়ের ব্যাপারে অনড় রয়েছেন। সেই কারণে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারতীয় ট্রাক শ্রমিক ও মালিকদের সংগঠনগুলো।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কামাল উদ্দিন শিমুল জানান, ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বনগাঁও পৌর মেয়রের যোগসাজশে কিছু স্থানীয় ট্রাক মালিক ও শ্রমিক নেতা পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অজুহাতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে ট্রাকজট সৃষ্টি করে ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা করে ডেমারেজ আদায় করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। ডেমারেজের পুরো টাকা বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। ফলে এক ট্রাক পণ্য বেনাপোল বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগত ১৫-২০ দিন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আমিনুল ইসলাম বলেন, গতকাল দুই পক্ষের যৌথ সভায় বন্দর চালুর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দেশের শ্রমিকদের কোন্দলের কারণে শনিবার দুপুর থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। তবে বন্দরে মালপত্র খালাস প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা