kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি

চার মাস জ্বালানিশূন্য চিলমারী ডিপো

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চার মাস জ্বালানিশূন্য চিলমারী ডিপো

চিলমারী ভাসমান ডিপোর মেঘনা ও যমুনার তেল মজুদ রাখার বার্জ

কুড়িগ্রামের চিলমারীর ভাসমান তেল ডিপো জ্বালানিশূন্য অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘ চার মাস ধরে। ডিপোর যমুনা পেট্রোলিয়াম কম্পানিতে চার মাস এবং মেঘনা কম্পানিতে দুই মাস ধরে জ্বালানিশূন্য থাকায় চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে লিটারপ্রতি পাঁচ টাকা হারে। ফলে জ্বালানিনির্ভর কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। ওই তিন উপজেলার জ্বালানি ব্যবসায়ীরা দ্রুত ডিপোতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে। যমুনা ও মেঘনা কম্পানি চিলমারী ডিপোতে কেন জ্বালানি সরবরাহ করছে না, তার সঠিক কোনো কারণ জানানো হচ্ছে না।

ডিপোসংশ্লিষ্ট একজন লোক বলেন, ‘যমুনা অয়েল কম্পানির ডিপো ইনচার্জ (ডিএস) আমজাদ হোসেনের তেল চুরি ও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হওয়ার পর তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। কেননা ওই তেল চুরি ও দুর্নীতির সঙ্গে রংপুর ও বগুড়া অফিসের দুজন কর্মকর্তাও জড়িত। এখন নদীতে পানিও রয়েছে। জ্বালানিভর্তি জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা না থাকলেও শুধু তেল চুরি ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে সারা দেশের ডিপো অপারেশন থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

তবে ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সারা দেশের ডিপো অপারেশন ও জ্বালানি সরবরাহ বিভাগের এজিএম মো. মহিদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাহাজের সমস্যার কারণে চিলমারীতে জ্বালানি পাঠানো যাচ্ছে না। জাহাজের সমস্যা দূর হলে চিলমারীতে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।’ জাহাজের সমস্যা কত দিন থাকতে পারে—এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটা বলতে পারব না।’

কুড়িগ্রাম ও লামনিরহাট জেলায় জ্বালানির চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গত ১৯৮৯ সালে ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী ভাসমান ডিপো চালু করে। ডিপোর অধীনে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কম্পানি জ্বালানি বিক্রি কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। কিছুদিন পর অজ্ঞাত কারণে পদ্মা অয়েল কম্পানি তাদের বার্জ মেরামতের অজুহাতে সরে গিয়ে গাইবান্ধা বালাসিতে স্থানান্তর করে। এর পর থেকে মেঘনা ও যমুনা অয়েল কম্পানি এই এলাকার জ্বালানির চাহিদা পূরণ করে আসছে।

রাজীবপুর উপজেলার জ্বালানি পরিবেশক (এজেন্সি) তৈয়ব আলী বলেন, ‘যমুনা কম্পানিতে চার মাস এবং মেঘনা কম্পানিতে দুই মাস থেকে জ্বালানি নেই। আমরা ব্যবসায়ীরা পার্বতীপুর ও সিরাগঞ্জের বাঘাবাড়ী থেকে ডিজেল সংগ্রহ করে আনছি। এতে আমাদের পরিবহন খরচ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল সরবরাহ করতে সমস্যা হচ্ছে।’ একই ধরনের কথা জানান রৌমারীর জ্বালানি পরিবেশক প্রদীপ কুমার সাহা। তিনি বলেন, ‘চিলমারী ডিপো থেকে তেল কিনলে নৌপথে সহজেই পরিবহন করা যায়। কিন্তু চিলমারীতে না থাকলে আমাদের পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে যায়। সেই বাঘাবাড়ী ও পার্বতীপুর থেকে তেল আনতে হয়। পরিবহন খরচের কারণে লিটারে এক টাকা বেশি বেচতে হচ্ছে আমাদের।’

এদিকে স্থানীয় হাট-বাজারে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, খুচরা বিক্রেতারা লিটারে চার-পাঁচ টাকা করে বাড়িয়ে ৭০ টাকা লিটার বিক্রি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজীবপুরের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘চিলমারীতে তেল নেই। এ কারণে এজেন্সি প্রতিনিধিরাও আমাদের কাছে দাম বেশি নিচ্ছে। আমাদের তো লাভ করতে হবে।’ কর্তিমারী বাজারে কথা হয় খেওয়াচরের কৃষক আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে ৬৫ টাকা লিটার ডিজেল কিনতাম। এখন ৭০ টাকার কমে দেয় না। এতে আমাদের বোরো আবাদে খরচের বোঝা চাপছে।’ রৌমারী বাজারের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, ‘আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। তাই একটু বেশি দামে বিক্রি করছি। চিলমারীতে তেল এলে এ সমস্যা থাকবে না।’

জ্বালানিশূন্যতা প্রসঙ্গে চিলমারী ডিপোর যমুনা কম্পানির ডিপো ইনচার্জ (ডিএস) তফাজ্জল হক বলেন, ‘আমি সবেমাত্র যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।’ তবে ডিপোসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে চিলমারীর যমুনা কম্পানির ডিএস আমজাদ হোসেন জ্বালানি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন। কম্পানির ক্ষতি করেছেন। এ অভিযোগে তাঁকে কম্পানি থেকে বরখাস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। অন্যদিকে মেঘনা অয়েল কম্পানি ডিপো ইনচার্জ (ডিএস) আবু সাঈদ বলেন, ‘জ্বালানিশূন্যের বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা