kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

বন্দরগুলোতে এনবিআরের নির্দেশনা

বীমা ছাড়া পণ্য খালাস আর নয়

দীর্ঘদিন ধরেই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বীমা ছাড়া পণ্য খালাস করে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছিল ♦ নির্দেশনায় বলা হয়—বীমা পলিসি ছাড়া কাভার নোটের বিপরীতে কেউ যাতে পণ্য খালাস না করতে পারে, বিষয়টি যথাযথভাবে নজরদারি করতে হবে

শওকত আলী   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বীমা ছাড়া পণ্য খালাস আর নয়

আমদানি পণ্যের বিপরীতে বীমা বাধ্যতামূলক হলেও তা মানছিলেন না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। পলিসি ইস্যু না করে শুধু কাভার নোট দেখিয়েই পণ্য খালাস করছিলেন। তবে এই সুযোগ এবার বন্ধ হচ্ছে। এখন থেকে কাভার নোট নয়, বীমা পলিসি ছাড়া কোনো পণ্য খালাস করতে পারবেন না সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি নির্দেশনাও জারি করেছে। 

জানা গেছে, সম্প্রতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) ও বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) এনবিআরকে চিঠি দেয়। এতে বলা হয়, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বীমা পলিসি ইস্যু করছেন না। শুধু কাভার নোট দিয়েই পণ্য খালাস করে নিচ্ছেন। বাধ্যতামূলক হলেও বীমা পলিসি করছেন না। আর বীমা পলিসি না করার কারণে সরকারও এ থেকে নির্ধারিত রাজস্ববঞ্চিত হচ্ছে।

জানা গেছে, এলসি খোলার সময় বীমা কম্পানির একটি নির্ধারিত ফরমে আমদানি করা পণ্যের সব তথ্য প্রদান করতে হয়, যা বীমা কম্পানিগুলো সরবরাহ করে থাকে। এটি কাভার নোট হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে এই কাভার নোট দিয়েই বীমা করার কথা। কিন্তু সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বীমা কম্পানি থেকে কাভার নোটটি নিলেও বীমা করছিলেন না। আবার পণ্য খালাসের সময় কাভার নোট দেখিয়েই পণ্যগুলো খালাস করে নেন।

নন-লাইফ সাধারণ বীমা খাতের রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ করতে আইডিআরএ এবং বিআইএ এনবিআরের সহযোগিতা চায়। তাদের চিঠিতে বলা হয়, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা পলিসি ইস্যু না করে কভার নোট দিয়ে পণ্য খালাস করছেন। অন্যদিকে বীমা কম্পানিগুলো পলিসি ইস্যু না করে এজেন্টদের নিয়মবহির্ভূতভাবে সহযোগিতা করছিলেন। ফলে নন-লাইফ বীমা কম্পানিগুলো প্রিমিয়াম কম দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় পলিসি ইস্যুর পরই যেন পণ্য খালাসের নির্দেশ প্রদান করা হয় সে জন্য এনবিআর চেয়ারম্যানের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর বন্দরগুলোতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা প্রদান করেছে। তাদের চিঠিতে বলা হয়েছে, বীমা পলিসি ছাড়া কাভার নোটের বিপরীতে কেউ যাতে পণ্য খালাস না করতে পারে, বিষয়টিতে যথাযথভাবে নজরদারি করতে হবে।

জানা গেছে, আইডিআরএর চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, নন-লাইফ বীমা খাতের পলিসিতে স্ট্যাম্প শুল্ক প্রদানের আইন থাকলেও তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বীমা কম্পানিগুলো প্রিমিয়াম কম দেখিয়ে সরকারের মূল্য সংযোজন কর ফাঁকি দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএর জারি করা ৬৫ নম্বর সার্কুলার বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আইডিআরএর ৬৫ নম্বর সার্কুলারটিতে নন-লাইফ বীমা কম্পানিগুলোর বীমা পলিসির স্ট্যাম্প শুল্ক আদায়ের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বীমা পলিসির স্ট্যাম্প শুল্ক খাতে সরকারি রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার জন্য ‘বীমা পলিসির ওপর প্রদেয় স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ বিধিমালা ২০০২’ ও অন্যান্য বিধি-বিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক পরিশোধ বিধিমালা ৩(২) অনুযায়ী পরিশোধিত চালানে বর্ণিত তথ্য যথা—বীমা গ্রাহকের নাম-ঠিকানাসহ বীমা পলিসি নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। যেকোনো বীমা পলিসিতে ২০ হাজার টাকার ওপর বীমা স্ট্যাম্প প্রযোজ্য হলে তা অন্য বীমা পলিসির চালানের সঙ্গে একত্রিত না করে পৃথক চালানের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে।

জানা গেছে, বীমা কম্পানিগুলো ১৫ শতাংশ কমিশনের জায়গায় ৭০-৮০ শতাংশ কমিশন প্রদান করত। আইডিআরএ চাইছে বীমা কম্পানিগুলো যেন কোনোভাবেই বাড়তি কমিশন দিতে না পারে। একই সঙ্গে পলিসি ছাড়া যেন কোনো পণ্য খালাস না হয়। এ কারণে বিষয়টির নজরদারিতে এনবিআরকে নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরগুলোতে নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আইডিআরএর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা এখানে চালাকির আশ্রয় নিচ্ছে। পণ্য আমদানি করার সময় বীমা পলিসি বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেখানে শুধু কাভার নোট কেনে, কিন্তু পলিসি করে না। এ বিষয়ে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এনবিআরের। এনবিআর যদি পণ্য খালাসের আগে পলিসি চেক করে তাহলে আর এই ফাঁকি দেওয়া সম্ভব হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা