kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

এনবিআরকে বিএসটিআইয়ের চিঠি

নীতির ফাঁকে পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য খালাস

শওকত আলী   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীতির ফাঁকে পরীক্ষা ছাড়াই পণ্য খালাস

আমদানীকৃত পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং পণ্য দুটি বন্দর থেকে খালাসের আগে এর নমুনা বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে হবে

নীতিমালার ফাঁকফোকর কখনো কখনো বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। যখন এই ফাঁক গলে ব্যবসায়ীরা সুবিধা নেওয়া শুরু করে তখন দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। এমন ঘটনাই ঘটেছে পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং (মিক্সড ফ্যাব্রিকস) আমদানির ক্ষেত্রে। 

আমদানিনীতিতে ফ্যাব্রিকস দুটি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষাপূর্বক সেগুলোর অনুকূলে সার্টিফিকেশন মার্কস লাইসেন্স (সিএম সনদ) গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তবে ব্যবসায়ীরা পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিংয়ের ক্ষেত্রে শুধু পলিয়েস্টার বা পলিয়েস্টার শার্টিং নামে পণ্য আমদানি করছে। যেখানে বিএসটিআইয়ের নীতিতে উল্লেখ রয়েছে ‘পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং’। আর তাতেই কিছু করতে পারছে না বিএসটিআই বা কাস্টমস। এই মিথ্যা ঘোষণায় যাতে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করতে না পারে সে জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সহযোগিতা চেয়েছে বিএসটিআই। সম্প্রতি এনবিআরকে এক চিঠির মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিএসটিআইয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, পণ্যের জনগুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার বিভিন্ন সময়ে এসে এসআরও জারির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১৯৪টি পণ্য বিএসটিআই থেকে পরীক্ষণপূর্বক সেগুলোর অনুকূলে সার্টিফিকেশন মার্কস লাইসেন্স (সিএম সনদ) গ্রহণ বাধ্যতামূলক করেছে। পণ্যগুলোর মধ্যে পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং (মিক্সড ফ্যাব্রিকস) নামের পণ্য দুটি বাধ্যতামূলক সার্টিফিকেশন মার্কস বা সিএম লাইসেন্সের অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া আমদানিনীতি আদেশ, ২০১৫-২০১৮ এর অনুচ্ছেদ-২৬ এর উপ অনুচ্ছেদ ২৮(ক) অনুযায়ী যে ৫৫টি পণ্যের বিএসটিআই থেকে পরীক্ষান্তে ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং (মিক্সড ফ্যাব্রিকস) নামের পণ্য দুটি তার অন্তর্ভুক্ত।

আমদানিনীতি আদেশ, ২০১৫-২০১৮ অনুযায়ী আমদানীকৃত পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং পণ্য দুটি বন্দর থেকে খালাসের আগে তার নমুনা বিএসটিআই ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করতে হবে। তারপর পরীক্ষার ছাড়পত্র দাখিল সাপেক্ষে পণ্য খালাসের নিয়ম রয়েছে।

তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানীকৃত বর্ণিত পণ্য দুটির অনুকূলে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মান অনুযায়ী গুণগত মান পরীক্ষণপূর্বক ছাড়পত্র গ্রহণ না করে বিভিন্ন বন্দর থেকে মালপত্র খালাস করে। এর ফলে একদিকে বিএসটিআই তথা সরকার রাজস্ব আয়বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তা, ক্রেতাসাধারণ মানসম্মত পণ্য কিনতে পারছে না। এ অবস্থা নিরসনের জন্য পণ্য দুটি বিএসটিআই থেকে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি এ ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিএসটিআই অবহিত হয়নি। এ অবস্থায় আমদানীকৃত পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং নামের পণ্য দুটি বিএসটিআই থেকে পরীক্ষণপূর্বক গুণগত মান সনদ/ছাড়পত্র গ্রহণ ছাড়া যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে সে লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।

এনবিআর বিএসটিআইয়ের এ চিঠি পেয়ে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কাজ করছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসটিআইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং হলো এমন একটি ফ্যাব্রিকস যাতে ৬৫-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কটন থাকে। পরীক্ষা এড়াতে এবং মানহীন পণ্য দেশে আমদানি করতে ব্যবসায়ীরা শুধু পলিয়েস্টার শার্টিং নামেই পণ্যটি নিয়ে আসছে। এতে করে কাস্টমস বা এনবিআর খুব একটা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারছে না। এ জন্য আসলে প্রয়োজন পণ্যগুলোর যত সম্ভাব্য নাম রয়েছে সবগুলো নীতিতে ঢুকিয়ে দেওয়া। তাহলে আর ভুল ঘোষণায় পণ্য আনতে পারবে না ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং ফ্যাব্রিকসগুলো মূলত দেশের টেইলার্সগুলোর জন্যই আমদানি করা হয়। টপ টেন, রেমন্ডস, সানমুনসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড গড়ে উঠেছে টেইলার্সগুলোর মধ্যে। মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনায় দেশের বাজারে নিম্নমানের কাপড় আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) এস এম ইসহাক আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একাধিকবার চিঠি দিয়েছি এনবিআরকে। যাতে করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কেউ পণ্য আনতে না পারে। এভাবে যাতে কেউ পণ্য খালাস না করতে পারে এ বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পলিয়েস্টার ব্লেন্ড শার্টিং ও স্যুটিং নামগুলোর মধ্যে ফাঁক বের করে ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানি করছে। কাস্টমসের পদক্ষেপের পাশাপাশি আইনগতভাবেও কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমদানিনীতিতে নামগুলো নিয়ে যাতে ফাঁক বের করতে না পারে সে বিষয়ে বিএসটিআই কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা