kalerkantho

কোরিয়ান কারখানায় ৮৮৫৬৪ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান

বেপজায় বিদেশি বিনিয়োগে নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া

রাশেদুল তুষার, চট্টগ্রাম   

১৫ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেপজায় বিদেশি বিনিয়োগে নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (ইপিজেড) পথচলার শুরু থেকেই বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে। এরপর দিন দিন শিল্প ও রপ্তানি খাতে ইপিজেড যেভাবে বিকশিত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগও সেভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এ সম্প্রসারণের গতি এতটাই যে দেশের আটটি সরকারি ইপিজেডে ৩৭টি দেশের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান আর রপ্তানির প্রত্যেকটি শাখায় একক দেশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষস্থানে। শুরু থেকে বাংলাদেশের ইপিজেডে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে অনেকটা ‘দূত’ এর ভূমিকা পালন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ান কম্পানিগুলো। এ কারণে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশেও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশাল ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন এই খাতের ব্যবসায়ীরা।

১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম ইপিজেডের মধ্য দিয়ে দেশে ইপিজেড সংস্কৃতির যাত্রা শুরু হওয়ার এক বছর পর ইয়াংওয়ানের কারখানা স্থাপনের মধ্য দিয়ে ইপিজেডে কোরিয়ান বিনিয়োগ শুরু হয়। এর পর থেকে বিনিয়োগ শুধু বেড়েই চলেছে। এই সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় বেপজায় অবস্থিত ৭৭টি কারখানার মালিক দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যবসায়ীরা। যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৮৮ হাজার ৫৬৪ জন বাংলাদেশির। এসব কারখানায় কোরিয়ানরা মোট ৮৩১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। মূলত পোশাক খাত দিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে তাঁবু, ইলেকট্রনিকস শিল্পেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ এসেছে কোরিয়া থেকে।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ইপিজেডে ৩৭ দেশের ৪৬৯টি কারখানা চালু রয়েছে। বাস্তবায়নাধীন আছে আরো ১০৬টি কারখানা। এসব কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। আর এই বিদেশি কারখানাগুলোতে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ লাখ ১৯ হাজার ৮১৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের।

আট ইপিজেডে বাংলাদেশের মধ্যে এককভাবে শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান গ্রুপ। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা ইপিজেডে এই গ্রুপের মালিকানাধীন ১৭টি কারখানায় প্রায় ৫০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করে বলে জানালেন ইয়াংওয়ানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। বাংলাদেশে বিনিয়োগে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার কারণেই দেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেডের অনুমোদন দেওয়া হয় কোরিয়ান বিনিয়োগকারীদের। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার একর জায়গা নিয়ে ‘কোরিয়ান ইপিজেড’ গড়ে তোলা হয়। দীর্ঘ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার পরেও বর্তমানে সেখানে ২৫টি পোশাক ও জুতা কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত আছেন ২০ হাজার বাংলাদেশি। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে ইপিজেডটিতে। ২০১৮ সালে এই প্রাইভেট ইপিজেড থেকে ২২০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে বলে কোরিয়ান ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়।

২০২১ সালের মধ্যে আরো ৪৫টি কারখানা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এই ইপিজেডের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান করপোরেশনের। যেখানে মোট বিনিয়োগ হবে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেপজার এক শীর্ষ কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, কোরিয়ানরা বাংলাদেশে ব্যবসা করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সস্তা শ্রম এবং বিদেশি বিনিয়োগে সরকারি সহায়তার সুযোগ নিয়ে শুরু থেকেই তারা শীর্ষস্থানে। পাশাপাশি শ্রমিকদের সুযোগ সুবিধা ও কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে অন্যান্য দেশের কারখানার তুলনায় কোরিয়ান কর্তৃপক্ষ তুলনামূলকভাবে উদার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জীবনমানের উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার অবদান অন্য যেকোনো দেশের চাইতে বেশি।’

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তাঁবু কারখানা কোরিয়ান মালিকানাধীন ‘এইচকেডি ইন্টারন্যাশনাল’ বাংলাদেশের সিইপিজেডে। ২৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম ইপিজেডে উৎপাদিত তাঁবু দিয়েই বিশ্বের ২০০টি তাঁবু কারখানার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এইচকেডি। যাদের দখলে রয়েছে বিশ্বের ২৫ শতাংশ তাঁবু বাজার।

বেপজার মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাজমা বিনতে আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরিয়ান কম্পানির ম্যানেজমেন্ট খুব ভালো। ফ্যাক্টরির ভেতরে মেডিক্যাল সুবিধা, ক্যান্টিন চালুর মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ কোরিয়ানদেরই আইডিয়া। কোরিয়ান মালিকানাধীন কম্পানির কমপ্লায়েন্স নিয়ে তেমন কোনো অভিযোগ নেই। না হলে ছোট্ট পরিসরে সিইপিজেডে চালু হওয়া ইয়াংওয়ান আজ এত বড় গ্রুপ হয়ে উঠতে পারত না।’

মন্তব্য