kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রাশেদুল ইসলামের সাফল্যে উৎসাহী অন্যরাও

গ্রামে দারিদ্র্য জয়ের পথ দেখাচ্ছে ভেড়া পালন

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রামে দারিদ্র্য জয়ের পথ দেখাচ্ছে ভেড়া পালন

রাশেদুলের সাতটি ভেড়া বেড়ে এখন ১৫০টিতে উন্নীত হয়েছে

শুরু সাতটি ভেড়া নিয়ে। অনেকটা শখের বশেই ২০০৬ সালে ভেড়াগুলো কেনেন যশোরের কেশবপুরে উপজেলার পরচক্রা গ্রামের রাশেদ আলী খাঁ। রাশেদুল ইসলামের ওই সাতটি ভেড়া বেড়ে এখন ১৫০টিতে উন্নীত হয়েছে। জানান, জাদু নয়, নিয়মিত পরিশ্রম আর চেষ্টার ফলেই এ সাফল্য এসেছে। তাঁর দেখাদেখি ওই গ্রামের আরো অনেকে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভেড়া পালনে উৎসাহী হয়েছে।

ভেড়া পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন রাশেদুল ইসলাম। কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ না থাকা, জায়গা সংকট ও ভেড়া পালনে কোনো প্রশিক্ষণ না থাকায় প্রতিবছর তাঁর খামারে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে একাধিক ভেড়া। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক পদ্ধতিতে ভেড়া পালনে প্রশিক্ষণ পেলে তাঁর খামারটি হতে পারে কেশবপুরের মডেল।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের পরচক্রা গ্রামটি প্রায় প্রতিবছরই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। যে কারণে ছয় মাস এলাকায় কোনো কাজ থাকে না। এ সময় গ্রামের হতদরিদ্র নারী-পুরুষকে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন গ্রামে যেতে হয়। এ গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মৃত কওছার আলী খাঁর ছেলে রাশেদুল ইসলাম। বাস্তুভিটা দুই শতক জমি ছাড়া তাঁর আর কিছুই নেই। কৃষিকাজে সংসারে সচ্ছলতা না আসায় তিনি ভাবতে থাকেন বিকল্প কিছু করার। এ পরিস্থিতিতে ২০০৬ সালে তিনি পাটকেঘাটায় খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ভেড়ার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হন। কিন্তু নিজের কাছে কোনো টাকা না থাকায় তিনি ২০০৭ সালে বেসরকারি সংগঠন আদ-দ্বীন থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সাতটি ভেড়া কিনে লালন-পালন করতে থাকেন। এর পর থেকে প্রতিটি ভেড়া দুটি থেকে চারটি করে বাচ্চা দিতে শুরু করে। পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর খামারে ভেড়ার সংখ্যা বৃদ্ধি হতে থাকে।

রাশেদুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টার দিকে তিনি ভেড়া নিয়ে মাঠে যান। মাঠে ঘাস খাওয়ানোর পর সন্ধ্যার আগে তিনি ভেড়ার পাল বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাঁর খামারের ভেড়া দুই বছরে পাঁচবার বাচ্চা প্রসব করে। খামারে উৎপাদিত ছয় মাস বয়েসের একটি বাচ্চা তিনি তিন হাজার টাকায় বিক্রি করে থাকেন। এতে তাঁর সংসারে সচ্ছলতা এসেছে। মাংস উৎপাদনে অবদান রাখায় তিনি গত জুন মাসে শ্রেষ্ঠ খামারি হিসেবে বিভাগীয় পুরস্কারও পান। তাঁর ভেড়ার পালের অন্যতম দিক হচ্ছে, মাঠে ঘাস খাওয়ানোর সময় কোনো ভেড়া দলছুট হয় না এবং কৃষকের ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। বর্তমান তিনি ৪৭টি ভেড়া পালন করছেন। ২০১৬ সালে তাঁর ৩৭টি ভেড়া বিভিন্ন রোগে মারা যায়। ভেড়া বিক্রি থেকে তাঁর সংসার চলে।

রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, দুই শতক জমির ওপর তাঁদের বসবাস। বাড়ির এক কোণে বাঁশের চালার ওপর টালির ছাউনির একটি ছোট্ট ঘর করে তার মধ্যে সব ভেড়া রাখা হয়। খামারের ভেড়াগুলো নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ২০১৫ সালে পিপিআর রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর খামারের ৭০ থেকে ৮০টি ভেড়া মারা যায়। তবে তাদের দেখাদেখি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভেড়ার চাষ। কেশবপুর পৌর সভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শেখ শাহীন ১৭টি ভেড়ার চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আজিজ আল মামুন বলেন, রাশেদুল ইসলামের খামারটি পরিদর্শন করা হয়েছে। তাঁর অফিস থেকে ফ্রি ওষুধ সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি তাঁকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে ছয় হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাঁকে ভেড়া পালনে উন্নত পরামর্শ প্রদান করা হয়।



সাতদিনের সেরা