kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেসরকারি খাতের উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে আরো ১৩ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (এক ডলার সমান ৭৮ টাকা) এর পরিমাণ এক হাজার ১৪ কোটি টাকা। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়নে এই অর্থ খরচ হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরে বাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশন সম্মেলন কক্ষে এ-সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম ও বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রতিনিধি রাজশ্রী এস পারলাকার চুক্তিতে সই করেন। ইআরডি এবং বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে এ-সংক্রান্ত প্রকল্পে ৩১২ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থাটি। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন সহায়তা (পিএসডিএসপি) প্রকল্পের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের পাশাপাশি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও হাইটেক পার্ক নির্মাণেও অর্থ খরচ হবে। বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাজ্যের সাহায্য সংস্থা ডিএফআইডির অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আওতায় চারটি উপপ্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (বেপজা) ও অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক প্রকল্পের উন্নয়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। গুচ্ছ প্রকল্পটি ২০২১ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, এখন পর্যন্ত যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন পেয়েছে, সেসব অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন হবে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে। সংস্থাটির দেওয়া বাড়তি টাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে সহযোগিতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ভবন নির্মাণ, কারখানাগুলোতে পরিবেশের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা হবে। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে সেখানকার সুষ্ঠু পরিবেশও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

রাজশ্রী এস পারলাকার বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এস পারলাকার আরো বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আরো বেশি করে কর্মসংস্থান দরকার। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণে অর্থনৈতিক অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কেউ বিনিয়োগ করতে এলে নিবন্ধনের সময় অনেক কম হবে বলে জানান তিনি। 

পারলাকার বলেন, বাংলাদেশ সরকার আগামী ১৫ বছরের মধ্যে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ওই সব অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিবেশসম্মত করতে এ ঋণের অর্থ কাজে লাগবে। বিশ্বব্যাংকের বাড়তি ঋণের মাধ্যমে শিল্প-কারখানার বাইরের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে সংযোগ সড়ক, ইউটিলিটি নেটওয়ার্ক, ভবন নির্মাণ, রেল সংযোগ, সেন্ট্রাল ইটিপি স্থাপনসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাংকের এ ঋণ ছয় বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে পরিশোধ করতে পারবে বাংলাদেশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা