kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাজেটে ন্যায্যতা পায়নি মোটরসাইকেল শিল্প

বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে গুচ্ছ প্রস্তাব আইবিএফবির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে গুচ্ছ প্রস্তাব আইবিএফবির

শিল্প মন্ত্রণালয়ে বেসরকারি খাতবিষয়ক বিভাগ চালুর প্রস্তাব আইবিএফবির

আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সব উন্নয়ন ব্যয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোকেই মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)। এ জন্য বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে আরো বেশি বিনিয়োগ, আর্থিক খাতে সংস্কার, ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা, ব্যবসা করার খরচ কমানো, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাসমূহ নিরসনে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বেসরকারি শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ তরান্বিত করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি খাতবিষয়ক পৃথক দুটি বিভাগ চালুর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় বাজেট ২০১৬-১৭-এর ওপর আইবিএফবির প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আইবিএফবি সভাপতি হাফিজুর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বাজেট প্রতিক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআর ও বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মজিবর রহমান, ঢাকা চেম্বারের পরিচালক এম এস সিদ্দিক প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবি সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘গত ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পূর্ববর্তী বছরের বাজেটের তুলনায় যথাক্রমে ১২.৫৯ ও ১৭.৮০ শতাংশ বেশি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ গড়তে ভবিষ্যতেও বাজেটের আকার বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান ধারা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৫ শতাংশের বেশি রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিসহ (এডিপি) সব উন্নয়ন ব্যয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

 

সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবির কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর অন্যতম হচ্ছে প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা, বিদ্যমান ভ্যাটব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, রপ্তানি মূল্যের ওপর উেস কর প্রস্তাবিত ১.৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে আনা, ভ্যাটের পরিবর্তে আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়ানোর ব্যাপারে জোর দেওয়া, বাজার অর্থনীতিতে পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট দূর করতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে করের পরিধি বাড়ানো এবং রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের রাজস্ব আয় আহরণ এবং এডিপি ব্যয় করার মতো সক্ষমতা নেই। রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে জনগণকে মোটিভেট করতে হবে, আর এটা করা গেলেই ১২ লাখ আয়করদাতা থেকে বাড়িয়ে ৩০ লাখ করদাতা করা সম্ভব।

ড. মজিবর রহমান বলেন, ‘বাজেটে দাম বাড়ুক না বাড়ুক, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী আছে, যারা বাজেটকে উপলক্ষ করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। এমনকি কোনো বড় উৎসবের সময়ও তারা দাম বাড়ায়। অথচ পৃথিবীর সব দেশে রমজান, পূজা, ঈদ ও বড়দিন উপলক্ষে দাম প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনে। কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো। ’ দেশে মোটরসাইকেল উৎপাদনে ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করায় হতাশা প্রকাশ করে আইবিএফবির সভাপতি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে দেশীয় শিল্পে উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন ২০১৭ পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, শুধু মোটরসাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা উৎপাদক ও ভোক্তাদের হতাশ করেছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইবিএফবি মোটরসাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও একই বিবেচনায় ভ্যাট অব্যাহতির বিদ্যমান সুযোগ বহাল রাখার দাবি করে।



সাতদিনের সেরা