kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

প্রগতির বহরে নতুন জিপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রগতির বহরে নতুন জিপ

মাত্র এক বছর আগেও রাষ্ট্রায়ত্ত গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (পিআইএল) বিক্রয়যোগ্য গাড়ি বলতে ছিল মিত্সুবিশি করপোরেশনের পাজেরো স্পোর্ট। ব্যবসা মাত্র একটি গাড়িনির্ভর হওয়ায় ২০১৩ সালের শেষভাগে ব্যাংকের ঋণপত্র (এলসি) ছাড় নিয়ে জটিলতার কারণে জাপানের মিত্সুবিশি মোটরস থেকে সিকেডি গাড়ি আমদানি

না হওয়ায় সেই অর্থবছরের প্রথম চার মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল প্রগতির কারখানায়। তবে ধীরে ধীরে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসছে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে প্রগতির গাড়ি সংযোজনের বহরে ভারতের মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কম্পানির স্করপিও জিপের পর আরেকটি নতুন জিপ নিয়ে আসছে তারা। চলতি মাসেই চীনের ফোডে অটোমোবাইল কো. লিমিটেডের তৈরি ‘ল্যান্ডফোর্ট এসইউভি’ জিপ সংযোজন শুরু হবে প্রগতির কারখানায়।

পিআইএল সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ১৮৫০ সিসি ক্ষমতার নতুন প্রজন্মের সাত আসনের ১০ ইউনিট সিকেডি (বিযুক্ত) গাড়ির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেছে প্রগতি কর্তৃপক্ষ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই গাড়ির চালান চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছবে বলে আশা করছে তারা। আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই গাড়ির বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রগতির সঙ্গে চীনের প্রতিষ্ঠানটির দুই বছরের চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশে গাড়িটির জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে চুক্তি নবায়ন করা হবে বলে জানালেন প্রগতির কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে পিআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এই প্রথম কোনো গাড়ির জন্য পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর ওয়ারেন্টি সুবিধা দেওয়া হবে। আমরা সাধারণত পাজেরো স্পোর্টের জন্য ছয় মাস এবং মাহিন্দ্র স্করপিও জিপের জন্য এক বছরের বিক্রয়োত্তর ওয়ারেন্টি সুবিধা দিয়ে থাকি।’

আবুল খায়ের সরদার আরো বলেন, ‘এই গাড়িও মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আনা হচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের বিপণন বিভাগ অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে এটিরও প্রচারণা শুরু করেছে।’

প্রগতির কর্মকর্তারা জানান, এই গাড়িটি বেসরকারি পর্যায়ে বিক্রি করবে ‘মা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। বাড়তি সুবিধা হচ্ছে, এই গাড়ি সংযোজনে প্রগতির বাড়তি কোনো বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। মাহিন্দ্র স্করপিও গাড়ির জন্য যে যন্ত্রাংশ বসানো হয়েছে সেখানেই ল্যান্ডফোর্ট জিপটিও সংযোজন করা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ১২ মে ভারতের বিখ্যাত মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা কম্পানির স্করপিও জিপের আনুষ্ঠানিক রোল আউট হয়েছে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে অবস্থিত প্রগতির কারখানায়। এই জিপের দাম ধরা হয়েছে ৪৬ লাখ টাকা।

প্রগতির কর্মকর্তারা আরো জানান, ব্যবসা মাত্র একটি গাড়িনির্ভর হলে তা অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বিশেষ করে ২০১৩ সালের শেষভাগে ব্যাংকের এলসি ছাড় নিয়ে জটিলতার কারণে জাপানের মিত্সুবিশি মোটরস থেকে সিকেডি গাড়ি আমদানি না হওয়ায় অর্থবছরের প্রথম চার মাস উৎপাদন বন্ধ ছিল প্রগতির কারখানায়। কিন্তু এ সময় বিকল্প গাড়ির ব্যবস্থা থাকলে এ জটিলতার মধ্যে পড়তে হতো না। এ কারণেই বিকল্প গাড়ির উৎস সন্ধানে তত্পর ছিল প্রগতির কর্মকর্তারা।

এ কারণে পাজেরো স্পোর্টের চেয়ে একটু কম দামে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য গাড়ি সংযোজনের জন্য মিত্সুবিশি, টয়োটা, নিশান, ফোর্ড, হুন্দাই, ইসুজুসহ বিশ্বের প্রায় ১০টি নামিদামি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়েছিল প্রগতি। তাদের অনেকেই প্রগতির সঙ্গে ব্যবসা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই সম্পূর্ণ তৈরি (সিবিইউ) গাড়ি বিক্রি করতে চায়। কিন্তু প্রগতি গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান বলে তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভারতের মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং চীনের ফোডে অটোমোবাইলসের সঙ্গেই তাদের বনিবনা হয়েছে।

প্রকৌশলী মো. আবুল খায়ের সরদার বলেন, ‘আমরা প্রগতির ব্যবসা কোনোভাবেই একটি গাড়িনির্ভর করতে চাই না। এ কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা পর পর দুটি মধ্যম দামের জিপ গাড়ি নিয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও প্রগতির নতুন গাড়ি সংযোজনের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’