kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

মৈত্রী র‌্যালির সমাপ্তিতে বিবিআইএন ভিসা চালুর প্রস্তাব

ভারত-বাংলাদেশ এবার নৌপথে যাত্রী পরিবহন

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা    

৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত-বাংলাদেশ এবার নৌপথে যাত্রী পরিবহন

নীতিন গড়গরি ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নৌপথে যাত্রী পরিবহনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল করবে। কলকাতায় এই কথা বললেন, ভারতের কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী নিতিন গড়করি।

গতকাল বুধবার কলকাতায় ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটানের মধ্যে মৈত্রী র‌্যালির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী নিতিন গড়করি। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই র‌্যালির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের যুব ও আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এদিকে সীমান্ত পারাপারে বাংলাদেশিদের জন্য নিয়ম-কানুন সহজ করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোধ চন্দ্র মণ্ডল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে প্রবেশ করলে যে পথে প্রবেশ করেন, সে পথেই বের হতে হয়। ভিসায় লেখা থাকার কারণে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্টধারীরা বেনাপোল সীমানা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করলে তামাবিল বা বিলোনিয়া সীমানা দিয়ে বের হতে পারেন না। বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মৈত্রী র‌্যালিতে বাংলাদেশের ছয় সদস্য দলের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।

র‌্যালির আয়োজক প্রতিষ্ঠান কলিঙ্গ মোটরসের প্রেসিডেন্ট প্রাভীন ভাঞ্জ দেও বলেন, আমাদের চারটি দেশের সীমানাই সহজ করে রাখতে হবে। প্রয়োজনে বিবিআইএন ভিসা চালু করা যেতে পারে। যার মাধ্যমে এই চার দেশের মানুষ সহজে চলাচল করতে পারবেন।

নিরোধ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, বিবিআইএন এমভিএ চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার আন্তরিক। ভারতসহ অন্য দুটি দেশের সরকারকেও আন্তরিকতার সঙ্গে চুক্তিটি বাস্তবায়নে আহহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে নিতিন গড়করি বলেন, যোগাযোগ ভালো হলে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে আরো কিছু বিষয় নিয়ে কথা চলছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এসেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সড়কপথের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার ইতিমধ্যে এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রয়োজনে ভারত সরকার আরো আর্থিক সাহায্য করবে। নিতিন গড়করি বলেন, শুধু সড়কপথে যোগাযোগ বাড়ছে তাই নয়, এর মধ্য দিয়ে এই চার দেশের মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের যোগাযোগও বাড়বে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।

১৯ দিন আগে এই মৈত্রী র‌্যালি ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে। প্রায় সাড়ে চার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতেই পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে র‌্যালি। ২০টি গাড়ির এই র‌্যালি গভীর রাতেই পৌঁছায় কলকাতার তাজবেঙ্গল হোটেলে। বুধবার সকাল ৯টায় কলকাতার প্রিন্সেপঘাটে সাড়ম্বর আয়োজনের এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেন পশ্চিমবঙ্গের যুব কল্যাণ ও আবাসনমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোধ কুমার মণ্ডলের নেতৃত্বে র‌্যালি থেকে যোগ দেওয়া ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।