kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মোট আয়করে চট্টগ্রামের অবদান সাড়ে ১২ শতাংশ

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের মোট আয়কর খাতে রাজস্ব আয়ের সাড়ে ১২ শতাংশ জোগান দিয়েছে চট্টগ্রাম। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চল মোট রাজস্ব জমা দিয়েছে ছয় হাজার ২০৪ কোটি টাকা। যা মোট জমা পড়া আয়করের সাড়ে ১২ শতাংশ। তবে এই আদায় এর আগের দুই অর্থবছরের তুলনায় কিছুটা কম।

চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এবার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে আট হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ফলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে চট্টগ্রাম থেকে রাজস্ব জোগানের হার আরো বাড়বে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ কমিশনার অপূর্ব কান্তি দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আয়কর খাতে চট্টগ্রামের অবদান কমেছে এটা বলা যাবে না। প্রতিবছরই কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে, তা অর্জন করতে গিয়ে বাড়তি রাজস্ব জমা হচ্ছে। কিন্তু জাতীয়ভাবে শতাংশের হিসাবে হয়তো তা কম মনে হচ্ছে।'

অপূর্ব কান্তি দাশ আরো বলেন, চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের আওতা এখন আগের চেয়ে অনেক ছোট হয়ে গেছে। ফলে কম সংখ্যক টিআইএনধারী বেশি পরিমাণ রাজস্ব দিচ্ছে।

কর বিভাগের তথ্য মতে, ২০১২ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের আওতা ছিল তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত মোট ১১টি জেলা এবং চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশন। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনকে নিয়ে পৃথক কুমিল্লা কর অঞ্চল করা হয়েছে। আর তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা নিয়ে পুনর্গঠন করা হয়েছে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চল।

উল্লেখ্য, কুমিল্লা কর অঞ্চল বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪২৫ কোটি টাকার বিপরীতে আয় করেছে ৪৪২ কোটি টাকা। এবার ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই রাজস্বও চট্টগ্রাম থেকে জোগান হলে মোট আয়করে চট্টগ্রামের অবদান অনেক বেশি হতো।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আয়করের ক্ষেত্র কমে যাওয়ার পরও চট্টগ্রাম থেকে রাজস্ব আদায় বেড়েছে। প্রতিবছরই রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তা পূরণও হচ্ছে। বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে বিদ্যমান করদাতার ওপর চাপ বাড়ছে। নতুন করদাতার সংখ্যা বাড়ানো গেলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে।'

কর বিভাগের তথ্য মতে, এনবিআর বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয়কর খাতে মোট রাজস্ব আয় করেছে ৪৩ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চল জমা দিয়েছে ছয় হাজার ২০৪ কোটি টাকা, যা মোট কর আয়ের সাড়ে ১২ শতাংশ। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট আয়কর জমা হয়েছিল ৪৩ হাজার কোটি টাকা, তার মধ্যে চট্টগ্রামের অবদান ছিল ছয় হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা, যা মোট কর আয়ের ১৪.৮৬ শতাংশ। এর আগের ২০১২-১৩ অর্থবছরে মোট কর জমা হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, তার মধ্যে চট্টগ্রাম দিয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৪২ কোটি টাকা, যা মোট কর জমার ১৪.৯০ শতাংশ।

চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালক মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবরও মনে করেন, কর আদায় পদ্ধতি সহজ করা হলে করদাতার সংখ্যা অনেক বাড়বে। এ জন্য কর আদায়কারীদের সহযোগিতার মনোভাব নিশ্চিত করা জরুরি। এটি নিশ্চিত করা গেলে মোট কর আদায়ের বড় অংশ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক নগরী চট্টগ্রাম থেকেই জোগান দেওয়া সম্ভব। জানা গেছে, চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চলের আয়করদাতার (টিআইএন) সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৮০ হাজার ২১২ জন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত করদাতা দুই লাখ ৭৩ হাজার ৫৫৭ জন। কম্পানি শ্রেণির করদাতা ছয় হাজার ৬৫৫ জন। এর মধ্যে আয়কর জমা দিয়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৯৬৬ জন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা