kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিনিয়োগ বাড়াতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দাবি ব্যবসায়ীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিনিয়োগ বাড়াতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দাবি ব্যবসায়ীদের

জয়েন্ট চেম্বার মতবিনিময় সভায় বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ, ক্যানচেম সভাপতি মাসুদুর রহমানসহ অন্য অতিথিরা

দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগ বোর্ডের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন যৌথ চেম্বারের নেতারা। তাঁরা বলেন, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদনের কাজগুলো ওয়ান স্টপ সার্ভিসের আওতায় আনার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সম্মেলন কক্ষে জয়েন্ট চেম্বার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কানাডা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ক্যানচেম) সভাপতি মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনিয়োগ বোর্ডের নিবাহী চেয়ারম্যান ড. এস এ সামাদ। এ সময় বিভিন্ন জয়েন্ট চেম্বারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ড. এস এ সামাদ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতগুলোতে অসামান্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের হার বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি বিনিয়োগ বোর্ডের পক্ষ থেকে অনলাইন সেবা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য ২৭টি স্থান নির্বাচন করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৮ অথবা ৯-তে পৌঁছাতে হলে অবকাঠামো খাতে ৭-৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগ বোর্ডের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিইও এবং সচিব জাহাঙ্গীর বিন আলম বলেন, যৌথ চেম্বারগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু বিনিয়োগের জন্য যেসব সহযোগিতা পাওয়া দরকার এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিনিয়োগ নিবন্ধন ও অবকাঠামোগত অনুমোদনের বিষয়গুলো এক ছাতায় নিয়ে আসা। অথচ বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ডকে এ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানানো হলেও তা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেশী ভারতের পাঞ্জাবের বিনিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমের প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট পাঞ্জাবের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ইনভেস্ট পাঞ্জাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সচিব মানের একজন কর্মকর্তা। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিনিয়োগসংক্রান্ত সব ধরনের কাজের সিদ্ধান্ত তিনি একা নিতে পারেন। শুধু তাই নয়, যেকোনো বিনিয়োগকারী মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে এ সেবা পায়। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের অফিসে যেতে হয় না। অনলাইনেই এসব সমস্যার সমাধান করে ওই প্রতিষ্ঠান। পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, গত দুই মাসে তারা ২৬০টি আবেদন করেছে বিনিয়োগের জন্য। এর বেশির ভাগই নিশ্চিত করেছে ৩০ দিনের মধ্যে।

নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং এইচএনএম-এর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অঞ্চলের প্রধান রজার হুবার্ট বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে দুটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একটি তৈরি পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন রপ্তানি, আর অন্যটি টেকসই উন্নয়ন। আর উন্নয়নে যৌথ চেম্বারগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মাসুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জয়েন্ট চেম্বারগুলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য জয়েন্ট চেম্বারগুলোর কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের গতিকে জোরদার করার জন্য অবকাঠামো, বন্দর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রভৃতি খাতের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি একান্ত অপরিহার্য। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেন।

সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ফিকি) নির্বাহী কমিটির সদস্য ক্রিস্টফার ইংয়ং, ডাচ্-বাংলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির হাসান খালেদ, ইন্দোনেশিয়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, ফ্রান্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক ড. রিফাত রশিদ, বাংলাদেশ-থাই চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি চার্লস সি আর পেট্রারা, তুরস্ক-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির অ্যাডভাইজর হালফ ওজকার্ট, ইতালি-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা