kalerkantho

ভারতে কারখানা হলে সুবিধা পাবে দেশের পোশাকশিল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ আগস্ট, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতে কারখানা হলে সুবিধা পাবে দেশের পোশাকশিল্প

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শুধু প্রদর্শনীকেন্দ্র নয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চায় উদ্যোক্তারা সে দেশে পোশাক তৈরির কারখানা করুক। এর ফলে ভারতে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদেরও আপত্তি নেই। কারণ ভারতে স্থানীয়ভাবে পোশাক তৈরি করা গেলে সময় ও অর্থ দুই-ই সাশ্রয় হবে বলে মনে করেন এ দেশীয় উদ্যোক্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গুজরাট থেকে ঘুরে আসা বিজিএমএই প্রতিনিধিদল এসব তথ্য জানায় কালের কণ্ঠকে। গুজরাটে ওয়্যারহাউস এবং বিতরণকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে গত বুধবার রাতে তাঁরা দেশে ফিরেছেন। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিজিএমইএ সহসভাপতি শহীদুুল্লাহ আজিম, পরিচালক মশিউল আলম সজল, নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

প্রতিনিধিদলটি জানায়, ভারতে পোশাক তৈরি ও সরবরাহ করা গেলে একদিকে যেমন অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে লিড টাইমও কমে যাবে (কাপড় সরবরাহের সময় কমে আসবে)। এ ছাড়া ভারতের স্থানীয় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজারে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের মতে, এ বাজারের মাত্র ৫ শতাংশ নেওয়া গেলেও বছরে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।

উদ্যোক্তারা আরো জানান, ভারতে বিদ্যুতের দাম কম। যা ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে ছয় রুপি মাত্র। এ ছাড়া যোগাযোগের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান গুজরাট। একই অঞ্চল থেকে বন্দর, আকাশ এবং সড়কপথের যোগাযোগ বেশ উন্নত। এ ছাড়া শ্রমিক সংঘ নিয়েও নেই তেমন বাধ্যবাধকতা নেই।

বিজিএমইএ সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতের গুজরাটে ওয়্যারহাউস নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করতে চায় বিজিএমইএ। প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ উৎপাদন সহায়ক সব অবকাঠামো রয়েছে। এ ছাড়া তুলনামূলক কম দামে জমি এবং শ্রমিক সহজলভ্য হওয়ায় বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের জন্য গুজরাটে ওয়্যারহাউস নির্মাণ লাভজনক হবে বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া গুজরাটে কারখানা তৈরি করা গেলে পোশাক রপ্তানিতে যে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যায় এটাও কমে আসবে দুই-তিন দিনে।

শহীদুল্লাহ আজিম আরো বলেন, গুজরাটে সম্ভাব্য তিনটি জায়গা পরিদর্শন করেছেন তাঁরা। প্রত্যেক জায়গাকে ওয়্যারহাউস নির্মাণের জন্য উপযোগী মনে হয়েছে। বিশেষ করে শিল্প উৎপাদনের জন্য যত রকম অবকাঠামো প্রয়োজন। তার সবই আছে সেখানে। গুজরাট কর্তৃপক্ষের মনোভাব সম্পর্কে তিনি জানান, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়েছে। তারা বাংলাদেশকে জমি দিতে রাজি। তবে ভারতে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন করার শর্ত দিয়েছে তারা। আজিম জানান, এ শর্ত তাঁদের জন্য কঠিন নয়। বিশেষ করে ভারত থেকে তুলা কিনে সুতা তৈরি করে বাংলাদেশে আনা লাভজনকই হবে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ৬ জুন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় গুজরাটে ৫০ একর জমি কেনার মৌখিক প্রস্তাব দেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম। কয়েক দিনের মাথায় এ বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেয় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস। এরপর একটি কম্পানি গঠনের মাধ্যমে গুজরাটে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এ কম্পানি গঠন করা হবে। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ ধরা হয় দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার। এ ছাড়া রপ্তানি বাড়াতে ভারতজুড়ে এক হাজার বিক্রয়কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্তব্য