kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিনিয়োগ গন্তব্যে ৪৮তম বাংলাদেশ

বিশ্বের ১১০ দেশের মধ্যে শীর্ষে ভারত

বাণিজ্য ডেস্ক   

২৯ জুন, ২০১৫ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিনিয়োগ গন্তব্যে ৪৮তম বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ঢেকে দিয়েছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা। ফলে বিদেশি কম্পানিগুলোর বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে এ সূচকে শীর্ষে উঠে এসেছে প্রতিবেশী ভারত। একই সঙ্গে বেশ উন্নতি দেখিয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোও।

সম্প্রতি বিশ্বের ১১০ দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বেজলাইন প্রফিটিবিলিটি ইনডেক্স (বিপিআই) ২০১৫ প্রকাশ করেছেন ড্যানিয়েল অ্যালটম্যান। বিনিয়োগ গাইড হিসেবে প্রকাশিত এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৮তম। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৯তম স্থানে ছিল। ফলে একধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ গন্তব্য সূচকে বাংলাদেশের উন্নতি না হওয়ার কারণ হচ্ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘ সহিংসতা। বাংলাদেশের এ হতাশ চিত্র বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।

বিনিয়োগ আকর্ষণে উন্নতির ফলে এ বছর শীর্ষস্থান পায় ভারত। দেশটি গত বছর ষষ্ঠ স্থানে থাকলেও হংকংকে পেছনে ফেলে এবার শীর্ষে উঠে এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশেই চলতি বছর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে পাকিস্তান। ৯৭তম অবস্থান থেকে দেশটি ৫৮তম অবস্থানে উঠে এসেছে। মূলত বিপুল পরিমাণ চীনা কম্পানির বিনিয়োগের কারণে দেশটির অবস্থার উন্নতি হয়েছে।

এ তালিকায় দশম স্থানে শ্রীলঙ্কা। ৬৫তম অবস্থানে রয়েছে চীন। বিপিআই র‌্যাংকিংয়ে জায়গা হয়নি নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের। বিপিআই ২০১৫ তালিকায় ৫০তম স্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বাংলাদেশের পেছনে থাকলেও পাকিস্তান ও চীন থেকে এগিয়ে রয়েছে।

বিপিআই সূচক তৃতীয় বছর প্রকাশিত হলো। এটি প্রকাশিত হয় ফরেন পলিসি ম্যাগাজিনে। এ সূচকের উদ্যোক্তা ও নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড্যানিয়েল অ্যালটমেন বলেন, নরেন্দ্র মোদির ভারত নতুন সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তাই এ দেশটিতে বিনিয়োগে বৈশ্বিক কম্পানিগুলোও এখন আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ড্যানিয়েল অ্যালটমেন বলেন, যেকোনো কম্পানির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা হয় না। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, দুর্নীতি, সরকারি কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক পরিবেশ-এসব কিছু মিলিয়েই একটি কম্পানি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। আর এসব দিক থেকেই ভারত সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে আসছে। সে কারণেই দেশটির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এদিকে গত সপ্তাহে প্রকাশিত বৈশ্বিক বিনিয়োগ প্রতিবেদনে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আংকটাড) দাবি করেছে, বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কমেছে ৫ শতাংশ। সংস্থা জানায়, গত বছর (২০১৪) বাংলাদেশে নিট বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে ১৫৩ কোটি ডলার। যা আগের বছরের তুলনায় সাত কোটি ডলার কম।

মন্তব্য