kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

এইচএসবিসির বর্ষসেরা পুরস্কার পেল পাঁচ রপ্তানিকারক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ নভেম্বর, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এইচএসবিসির বর্ষসেরা পুরস্কার পেল পাঁচ রপ্তানিকারক

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে পঞ্চম এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে উৎপাদিত আলু বিদেশে রপ্তানি করে 'পঞ্চম এইচএসবিসি এক্সপোর্ট এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড' জিতে নিয়েছে চট্টগ্রামের অ্যাগ্রোকাগ্রি কমোডিটিস। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ক্যাটাগরিতে বছর সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া তৈরি পোশাকশিল্প ও বস্ত্র ক্যাটাগরিতে 'এ' গ্রুপে (বছরে রপ্তানি আয় পাঁচ কোটি ইউএস ডলারের ওপরে) ডিবিএল গ্রুপ, 'বি' গ্রুপে (বছরে পাঁচ কোটি ডলারের কম) এপিলিয়ন গ্রুপ, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ এবং সনাতন ও উদীয়মান ক্ষেত্র ক্যাটাগরিতে পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড বছর সেরা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়।

গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান ও এইচএসবিসি (হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন) বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সওয়া দ্য ম্যারিকোসহ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, 'গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় দ্বিগুণ হয়েছে। আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন, এখন প্রতিবছর রপ্তানি থেকে আসছে ৩০ বিলিয়ন ডলার। আশা করছি আগামী বছরগুলোতে তা আরো বাড়বে।'

ড. আতিউর রহমান বলেন, 'কয়েক বছর ধরে দেশের রপ্তানিকারকরা বিশ্ব বাণিজ্যের মানচিত্রে সাফল্যের মাইলফলক গড়তে সক্ষম হয়েছে। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে প্রাথমিক কিছু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এ রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ১১.৬৯ শতাংশ বেড়েছে।'

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তুলে ধরেন ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার। ডিবিএল গ্রুপ জার্মানি, সুইডেন, স্পেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ব্রাজিল, ভারত এবং চীনসহ বিশ্বের ৪৫টি দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করছে। এ নিয়ে গ্রুপটি তৃতীয়বারের মতো এইচএসবিসির পুরস্কার পেল।

দেশের রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণে মানবসম্পদ উন্নয়নে জোর দেন এপিলিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আল-মামুন। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত ইপিলিয়ন গ্রুপ জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড, সুইডেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও ভারতসহ ১০টিরও বেশি দেশে তাঁদের পণ্য রপ্তানি করছে। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে উন্নত দেশগুলোকে অনুসরণের পরামর্শ দেন প্যাসিফিক জিন্সের পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর। চট্টগ্রাম ইপিজেড থেকে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানটি উন্নতমানের জিন্স এবং ক্যাজুয়াল পোশাক তৈরি করে। বর্তমানে তাদের পণ্য জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান, কানাডা, হংকং এবং ফ্রান্সসহ বিশ্বের ২৫টির ও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান পিকার্ড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়ানোর জন্য রপ্তানির সঙ্গে পণ্যের মান বাড়ানো এবং কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে জোর দেন। ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি জার্মানি, ইতালি, লিথুয়ানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও জাপানসহ বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশে তাদের পণ্য রপ্তানি করছে।

কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন অ্যাগ্রোকাগ্রির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল হামিদ। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, সেনেগাল ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশে আলু রপ্তানি করে থাকে।

অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফ্রান্সওয়া দ্য ম্যারিকো বলেন, 'ব্যবসায় অর্থ জোগানে সব সময়ই আমরা অবদান রেখে আসছি। আমাদের পূর্ববর্তী গ্রাহকরা ছিল চা, তুলা ও রেশম বা সিল্ক ব্যবসায়ী। বর্তমান দিনে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা শুধুই যে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে তা নয়; বরং তারা বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করছে। এইচএসবিসির পক্ষ থেকে রপ্তানি খাতে এই উৎকর্ষকে সম্মানিত ও অনুপ্রাণিত করতে পেরে আমরা গর্বিত।'

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা