kalerkantho

শনিবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৮। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১০ সফর ১৪৪৩

কর রেয়াত সুবিধা বাতিলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ এপ্রিল, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কর রেয়াত সুবিধার মাধ্যমে দুর্নীতি হয়, বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রভাবশালীরাই কর রেয়াত সুবিধা নিয়ে থাকে। এ সুবিধা বাতিল করা উচিত। গতকাল সোমবার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত 'কর, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা এবং কর পার্থক্য বিশ্লেষণ' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এ দাবি করেন। আলোচনায় দেশের ৪৫টি জেলা থেকে সুপ্র এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৮৫ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রর চেয়ারপারসন মুস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন গবেষক রুবায়াত হাশমী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এনবিআর সদস্য কালিপদ হালদার বলেন, এনবিআর অটোমেশনে যাচ্ছে। অচিরেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা হবে। এনবিআর চেষ্টা করছে, যাতে রাজস্ব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসে। গতিশীলতা আসে। তিনি বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে কর রেয়াতের পক্ষে নয়। সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান বিদেশি কম্পানির অডিট না করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অথচ আমাদের দেশের ছেলেরা বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করা আয় দেশে পাঠালে কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয় না, যা অন্যায়।'

বক্তৃতায় অ্যাকশনএইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর বলেন, প্রতিবছর সরকার যে বাজেট প্রণয়ন করে, এর অর্থের প্রধান উৎসই জনগণের রাজস্ব। তাই সরকারকে অবশ্যই জনগণের কাছে জবাবদিহির জায়গাটি পরিষ্কার থাকতে হবে। সরকার ধার্যকৃত সব করই আদায় হয় না। এ বিষয়গুলোয় নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, বিদেশি বড় কম্পানিগুলো নানা ফাঁকফোকর দিয়ে কর রেয়াত সুবিধা নিয়ে থাকে। এটি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়।

ফারাহ কবীর বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা রাজস্ব আদায় পদ্ধতিতে। সরকারের কাছে হিসাব নেই ঠিক কতজন করের আওতায়। তিনি বলেন, রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে সরকারি সেবা না পেলে জনগণ রাজস্ব পরিশোধে আগ্রহী হবে না।

আলোচনায় বক্তারা একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রচলিত কর আইনের সংশোধন, করদাতাকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বন্ধ করা, করের বিপরীতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাজস্ব আইন প্রণয়নে দাতা সংস্থার খবরদারি বন্ধ করা, পরোক্ষ করের ওপর নির্ভশীলতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ানো। তাঁদের মতে, এর ফলে জনগণের ওপর থেকে করের বোঝা ধীরে ধীরে কমে আসবে। সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ জনসেবা খাতে বেশি বেশি বরাদ্দ দিতে হবে, বিদেশি কম্পানিগুলোকে কোনো রকম কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া যাবে না, প্রয়োজনে তাদের ওপর বেশি পরিমাণে কর আরোপ করে সেই করের অর্থ জনগণের সেবায় ব্যবহার করতে হবে, কর ব্যবস্থাপনাকে একটি নিয়মতান্ত্রিক সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে, রাজস্বসংক্রান্ত সব রকম দুর্নীতি রোধ করতে হবে এবং কর বৈষম্য দূরীকরণে জনগণকে সচেতন হয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা