kalerkantho

শনিবার । ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩০  মে ২০২০। ৬ শাওয়াল ১৪৪১

সাক্ষাৎকার

কঠিন সংকটের আশঙ্কা

সিদ্দিকুর রহমান, সহসভাপতি, এফবিসিসিআই

১ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠিন সংকটের আশঙ্কা

ইউরোপে করোনাভাইরাসের ধাক্কা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি ও তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘যাঁরা ভ্যালু চেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাঁরা দুই মাস ধরেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা থেকে এরই মধ্যে আমরা বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের মতামত নিচ্ছি। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শিল্প খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে ওভেন ও সোয়েটার খাতে এর প্রভাবটা বেশি হবে। চীন কিছুটা খুললেও চীনের বিকল্প বাজারও খোঁজা হচ্ছে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য থেকে শুরু করে যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ এবং নিত্যব্যবহার্য নানা পণ্যের বড় উৎস চীন। ওষুধের কাঁচামালের একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে। গত এক সপ্তাহে এলসি খোলার হার প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত কাঁচামালের দামও বাড়ছে। বিজিএমইএর সাবেক এই সভাপতি বলেন, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে একটি সেল খোলা হয়েছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ইউরোপে করোনার বিস্তারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা থেকে তিনি আরো বলেন, ‘এর ফলে দেশটিতে দোকানপাট খুলবে না। ভোক্তারা পণ্য কিনবে না। তখন আমাদের পণ্য রপ্তানি নিয়ে একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’

ঝুঁকিতে পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি

সালাম মুর্শেদী, সংসদ সদস্য ও সভাপতি, ইএবি

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে এর প্রাদুর্ভাব লক্ষণীয়। এর ফলে বাংলাদেশে শিল্পের প্রাথমিক কাঁচামাল আমদানিতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে রপ্তানির গতিও কিছু মন্থর হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন রপ্তানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী।

তিনি বলেন, ‘চীনে করোনাভাইরাসের প্রভাবে এরই মধ্যে আমাদের ব্যবসায় গতি-প্রকৃতি কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আমাদের উদ্যোক্তাদের তিন মাসের কাঁচামাল মজুদ এবং সরবরাহ লাইনে আছে। এর পরও আমরা বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল আমদানির পরিকল্পনা করছি। পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ সম্ভাব্য অন্য দেশগুলোতে কিছু কিছু কাঁচামাল নিয়ে আসার কথা ভাবছেন উদ্যোক্তারা। তবে এসব দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানিতে চীন থেকে তুলনামূলকভাবে দাম বেশি পড়বে। আসন্ন এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতির পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের জন্য নীতি সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’

সালাম মুর্শেদী আরো বলেন, এটা অনেকটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো। এই মুহূর্তে সরকার এবং উদ্যোক্তা সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : সায়েম টিপু

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা