kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

গাজীপুরের ২৭০০ খামারে রোজ উৎপাদন ৩৮ লাখ ডিম

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজীপুরের ২৭০০ খামারে রোজ উৎপাদন ৩৮ লাখ ডিম

গাজীপুরের খামারিরা এখন লাল ডিমের দাম পাচ্ছেন ছয় টাকা ৪০ পয়সা। প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ পড়ছে ছয় টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সা। এতে কোনো দিন ডিমপ্রতি ১০ পয়সা লাভ থাকছে, কোনো দিন থাকছে না। গত আড়াই মাস ধরে এমন অবস্থা চলছে ডিমের বাজারের।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, দেশে প্রতিদিন চার কোটি ২৬ লাখ ডিম উৎপাদন হয়। তার মধ্যে গাজীপুরের দুই হাজার ৭০০ খামার থেকে আসে ৩৭ থেকে ৩৮ লাখ ডিম, যা মোট উৎপাদনের ৮ শতাংশ। গত আড়াই মাস ধরে ডিমের বাজার ভালো না। লাল ডিমের বাজার এখন ছয় টাকা ৪০ পয়সা। আর সাদা ডিম ছয় টাকা ২০ পয়সা। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রি সমান সমান। এতে লোকসান না হলেও খামারিরা ভালো নেই। বছরে মাত্র দুই-তিন মাস ভালো দাম পান খামারিরা। বাকি মাসগুলোতে হয় লোকসান, নয়তো বাজার সমান থাকে। লাভ না হলে লোকসান দিতে দিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে খামার। অথচ একসময় দেশের মোট ডিমের ৫৫ শতাংশ গাজীপুরে উৎপাদন হতো। এ জন্য গাজীপুরকে বলা হতো পোল্ট্রির রাজধানী।

গাজীপুর সদরের ঐশী পোল্ট্রির মালিক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা খামার মালিকরা ডিম উৎপাদন করি। অথচ ডিমের মূল্য নির্ধারণ করেন ঢাকার আড়তদাররা। খামারিদের কাছ থেকে ডিম কিনে নিয়ে তাঁরা লাভ ছাড়া বিক্রি করেন না। অন্যসব পণ্যের মূল্য উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়। উপকরণের দাম বাড়লে, পণ্যের দামও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু ডিমের বাজারের বেলায় তা হচ্ছে না। বাচ্চা, খাদ্য, ও চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি-কমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আড়তদাররা ডিমের দাম নির্ধারণ করেন না। তাঁরা যা নির্ধারণ করে দেন সে দরেই দাম পান খামার মালিকরা। তাঁদের এ খাতে তেমন বিনিয়োগ না থাকলেও খামার মালিকরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। ঝুঁকি গ্রহণ করেন। এ শিল্পের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। নইলে খামার বাঁচবে না।

জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ডিম উৎপাদন হয় জেলার শ্রীপুর উপজেলায়। উপজেলা পোল্ট্রি খামার মালিক সমিতির সভাপতি সালমা পোল্ট্রির মালিক মো. আবদুল মতিন বলেন, ‘বছরের ১২ মাসের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বর এই দুই মাস বাজারে মাছ, শাক-সবজি কম থাকায় ডিমের বাজার ভালো থাকে। ওই সময়টাতেই আমাদের ব্যবসা হয়। আর বাকি মাসগুলোতে হয় লোকসান নয়তো সমান যায় বাজার। রমজান মাস এবং কোরবানি ঈদের আগে-পরে এক মাস ডিমের চাহিদা থাকে না। তখন দাম কমে তিন-চার টাকায় নেমে আসে। তখন ডিমপ্রতি আড়াই থেকে সাড়ে তিন টাকা লোকসান দিতে হয়। পরবর্তী সময় বাজার বাড়লেও লোকসান উঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্যমূল্য কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এ কারণে খামারিরা উন্নতি করতে পারছেন না’।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, শ্রমিক ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত : ডিমের উৎপাদন ব্যয়ের ৭১ শতাংশই খাদ্যের। খাদ্যের দাম কমলে লাভ, বাড়লে লোকসান হয়। ২৫ টাকার খাবার এখন ৩২-৩৬ টাকা। ওষুধ ও টিকার বাজারও স্থিতিশীল নয়। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিমের দাম বাড়ছে না। তাই লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা। এ শিল্পে জরুরি প্রণোদনা দরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা