kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

সাভারে ডিমের কম দামের কারণে উদ্বেগ

তায়েফুর রহমান, সাভার   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাভারে ডিমের কম দামের কারণে উদ্বেগ

সাভারে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ পড়ে ছয় টাকা। ১০০টি ডিম ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কিছুটা লাভ পাওয়া যায়। কিন্তু খামারিরা সব সময় লাভ করতে পারছেন না। এ বিষয়টি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

মেসার্স হক পোল্ট্রির মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, ২০০০ বর্গফুটের একটি আধা পাকা শেড তৈরি করে এক হাজারটি মুরগি উঠাতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ পড়ে। এ ছাড়া পোল্টি খাদ্যের উচ্চমূল্য, অনিয়ন্ত্রিত এক দিনের মুরগির বাচ্চার দাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মূল্যের ঊর্ধ্বমূল্য, দক্ষ শ্রমিকের অভাব, উৎপাদন মূল্যের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কমসহ বিভিন্ন কারণে এখন তাঁদের এ শিল্পে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

পোল্ট্রি খামারি সাইদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০০৭ সালে পোল্ট্রি খামারে বার্ড ফ্লু সংক্রমণের আগে সাভারে কমপক্ষে দুই হাজার পোল্ট্রি খামার ছিল। এখন তার সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০টির বেশি হবে না। এর মধ্যে ২৫-৩০টি রয়েছে লেয়ার মুরগির খামার। এখনো সেই বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ শেষ হয়ে যায়নি। মাঝেমধ্যে কোনো কোনো খামারে সংক্রমণ দেখা যায়।

সাভারে ২০০৪-০৫ সালের দিকে যখন পোল্ট্রি  ব্যবসা শুরু হতে থাকে তখন সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বহুসংখ্যক পোল্ট্রি ফিডের দোকান গড়ে উঠেছিল। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে পোল্ট্রি ফিডের বড় বড় ফার্ম গড়ে ওঠার ফলে এবং পোল্ট্রি খাদ্য ভোক্তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কারণে কালক্রমে সেই পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ীরা এখন তাঁদের সেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। পোল্ট্রি ফিডের সেই ছোট ছোট প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা তাঁদের পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

বিএলআরআইয়ের গবেষকরা জানান, মুরগির জাত উন্নয়নের ফলে দেশি মুরগির ডিমের উৎপাদন বেড়েছে, ডিমের ওজনও বেড়েছে। প্রথম ডিম পাড়ার বয়স কমেছে এবং দৈহিক ওজনও বেড়েছে। দেশি মুরগি বিদেশি জাতের তুলনায় ডিম কম দিয়ে থাকে। ডিমের ওজনও বেশ কম। দেশি জাতের মুরগি আকারে বিদেশি মুরগির তুলনায় বেশ ছোট। তাই এর মাংসও কম হয়। সাভারে বিএলআরআই এ রয়েছে দেশি মুরগির জাত উন্নয়নে বিশাল গবেষণাগার। সেই গবেষণাগারে দীর্ঘ আট বছর ধরে চলে দেশি মুরগির জাত উন্নয়নের কার্যক্রম।

সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক নাথুরাম সরকার বলেন, বিএলআরআই থেকে ২০১৮ সালে উন্নত জাতের দেশি মুরগির ১৬ হাজার ডিম ও আট হাজার এক দিন বয়সী বাচ্চা বিক্রি করা হয়েছে। বাচ্চা ও ডিম পাওয়ার জন্য খামারিদের আবেদন করতে হয়। প্রতিটি বাচ্চা ১৫ টাকা এবং ডিম ১০ টাকায় কিনতে হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা