kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাণিজ্য মেলায় নারী ক্রেতা বেশি

সময় বাঁচাতে মেলা থেকে কিনলেও পণ্যের মান নিয়ে সন্তুষ্ট নন অনেক ক্রেতা

ফারজানা লাবনী   

১৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্য মেলায় নারী ক্রেতা বেশি

মেলায় গৃহস্থালি পণ্য দেখছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাণিজ্য মেলায় এবার বিভিন্ন বয়সী নারী ক্রেতার উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে। তাঁরা স্টলে স্টলে ঘুরে যাচাই-বাছাই করে পছন্দের পণ্য কিনছেন। সবচেয়ে বেশি কিনছেন ঘর-গৃহস্থালি এবং সাজ-সজ্জার জিনিস। অন্য সময়ে যানজটের কারণে মার্কেটে ঘুরে কেনাকাটায় সময় বেশি লেগে যায়। তবে বাণিজ্য মেলায় এক জায়গায় নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যায় বলে নারীরা দাম একটু বেশি দিয়ে হলেও মেলা থেকেই নিচ্ছেন। তবে পণ্যের মান নিয়ে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্টিলের হাঁড়ি, কড়াই কেনার পর গৃহিণী শামসুন্নাহার কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজধানীর যানজটের কারণে বিভিন্ন শপিং সেন্টার ঘুরে রকমারি পছন্দের পণ্য কিনতে অনেক সময় ব্যয় হয়। কিন্তু বাণিজ্য মেলায় একই জায়গায় অনেক ধরনের পণ্য কেনার সুযোগ থাকায় অল্প সময়ে কেনাকাটা সাড়া যায়। তাই মেলায় কেনাকাটা করতে এসেছি।

তিনি আরো বলেন, বাণিজ্য মেলায় সাধারণ মানের দোকানে যা পাওয়া যায় তাই স্টলে স্টলে আছে। শুধু বাণিজ্য মেলা উপলক্ষে বিশেষ কিছু বিক্রি হচ্ছে না।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, নারী ক্রেতারা আগ্রহ নিয়ে প্লাস্টিকের রকমারি জিনিস কিনছেন। প্লাস্টিকের তৈরি পানি খাওয়ার গ্লাস, চামচ, জগ, ঝুড়ি, খেলনা থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, সোফাসেট, আলমারি, শোবার খাটসহ ঘর-গৃহস্থালির নিত্য ব্যবহার্য প্রায় সব কিছুই পাওয়া যাচ্ছে বাণিজ্য মেলায়। কাঠ, স্টিল, কাচ বা সিরামিকের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এবারের বাণিজ্য মেলায় আমদানীকৃত প্লাস্টিক পণ্যের চেয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেশি। মেলায় দেশি-বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানই প্লাস্টিক পণ্য বিক্রিতে বিভিন্ন ছাড় দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড় দিচ্ছে। প্রাণ-আরএফএল, বেঙ্গল গ্রুপসহ বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানও শুধু বাণিজ্য মেলার জন্য বিশেষ মূল্য ছাড় দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে পাঁচটি বা তার বেশি পণ্য কিনলে মোট মূল্যের শতকরা ১০ শতাংশ কম নিচ্ছে।

প্রাণ আরএফএল এবারের বাণিজ্য মেলায় প্রায় আড়াই হাজারটি ডিজাইনের পণ্য নিয়ে এসেছে। এখানে বিভিন্ন ডিজাইনের থালা, বাটি, গ্লাস, ভাতের ডিশ, তরকারির ডিশ গড়ে ২০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্য সব শ্রেণির গৃহিণীর কাছেই আকর্ষণীয়। বাণিজ্য মেলায় প্রাণ-আরএফএলের বেস্টবাই প্যাভিলিয়নে এসে নারীরা পণ্য না কিনে ফিরছেন এমন আগতদের সংখ্যা খুব কম।

শুধু প্লাস্টিক নয়, নারীরা আগ্রহ নিয়ে স্টিলের হাঁড়ি, কলসি, চামচ, গ্লাস কিনছেন। সিরামিকের থালা-বাসনও কিনছেন। থাইল্যান্ড, ইরান, ভারত থেকে আমদানীকৃত এসব পণ্যও বিক্রি হচ্ছে। যদিও দেশি পণ্যের চেয়ে বিদেশি পণ্যের দমি কিছুটা বেশি।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, সময় বাঁচিয়ে সহজে রান্নাবান্না করা যায় এমন সব পণ্য কিনছেন অনেক নারী। এর মধ্যে সবজি কাটা, রুটি বানানো এবং ডিম ফেটানোর যন্ত্র বেশি বিক্রি হচ্ছে। সবজি কাটার যন্ত্র পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায়। মেলায় অনেক নারীকে পাপোশ, ঘর মোছার স্টিক, ময়লা কাপড় রাখার ঝুড়ি কিনে হাতে নিয়ে ঘুরতে দেখা গেল। অনেককে আবার বড় বড় হাঁড়ি-কড়াই কিনে নিয়ে অন্য জিনিস কিনতে বিভিন্ন স্টলে স্টলে ঘুরতে দেখা গেল। নন-স্টিক থালা-বাসনও কিনছেন অনেকে। ফাইবারের পণ্যের চাহিদাও কম নয়। এসব পণ্য ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিছানার চাদর, বালিশের কভার, সোফার কুশন থেকে তোয়ালে, সেফটিপিন সবই কম বেশি কিনছেন নারীরা। ঘর সাজানোর ফুলসহ বিভিন্ন শোপিস কিনছেন অনেক নারী। সঙ্গে শিশুকন্যা, বোন বা নারী আত্মীয়কে নিয়ে অনেক নারীকে স্টলে স্টলে ঘুরে জুতা, স্যান্ডেল কিনতে দেখা গেল। এ ক্ষেত্রে ভারত থেকে আনা সুতার কাজ করা নাগরা স্যান্ডেল জুতা বেশি বিক্রি হচ্ছে। দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

জুতা কেনার পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রওনক কালের কণ্ঠকে বলেন, এখানে এসে একসঙ্গে অনেক পণ্য দেখতে পারি। অল্প সময়ে পছন্দ করে কেনার সুযোগ পাই। তাই কিনে থাকি। তবে উল্লেখযোগ্য কিছু এখানে পাওয়া যায় না। আমি মনে করি বাণিজ্য মেলায় গুণগত মানের উন্নত কিছু থাকা প্রয়োজন। এতে ক্রেতা বাড়বে। বিক্রি বাড়বে।

বাণিজ্য মেলায় ইমিটেশনের গয়নার চাহিদা রয়েছে। পিতল, পুঁথি, মাটি, কাঠ, পাট দিয়ে তৈরি গলার মালা, চেইন, চুড়ি, হাতের ব্রেসলেট, বালা, আংটি, চুলের কাঁটা, পায়ের নূপুরসহ বিভিন্ন ধরনের গয়নাও বিক্রি হচ্ছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা