kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জানুয়ারি ২০২০। ১৪ মাঘ ১৪২৬। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

নিয়ন্ত্রণে হলেও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিয়ন্ত্রণে হলেও ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশের মানুষ ৬ শতাংশের ওপরে শেষ মূল্যস্ফীতির হার দেখেছিল সেই ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপর টানা ২৫ মাস অর্থাৎ দুই বছর এক মাস মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের নিচে ছিল। ওই সময়ে চাল, ডাল, আটা, তেল, চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় ছিল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় থাকায় স্বস্তিতে ছিল সরকার। তবে ২৫ মাস পর ফের ৬ শতাংশের ওপরে মূল্যস্ফীতির হার। একটিমাত্র পণ্য ‘পেঁয়াজ’ এলোমেলো করে দিয়েছে পুরো মূল্যস্ফীতিকে। গত মাস নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি উঠেছে ৬.০৫ শতাংশে। মূল্যস্ফীতির হার বাড়ার পেছনে পেঁয়াজের ঝাঁজকে নায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। এক বছর আগে যে পণ্যটি ১০০ টাকা দিয়ে কিনেছিল ভোক্তা, একই পণ্য এক বছর পর ১০৬ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছিল ভোক্তাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বর্তমান সরকারের প্রথম দফায় অর্থাৎ ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত মূল্যস্ফীতির হার ৭ ও ৬ শতাংশের মধ্যেই ছিল। অর্থাৎ আগের বছর একটি পণ্য যদি ১০০ টাকা দিয়ে কেনা হতো, পরের বছর ওই পণ্যটির দাম ১০৬ টাকা কিংবা ১০৭ টাকা দিয়ে কিনতে হতো ভোক্তাকে। তবে মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি উন্নতি হতে শুরু করে ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে। ওই বছর থেকে মূল্যস্ফীতির গড় হার ৬ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এরপর আর ৬ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। মাঝেমধ্যে দুই-এক মাস মূল্যস্ফীতির হার বাড়লেও বছর শেষে তা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যেই ছিল। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর শেষে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬.৪১ শতাংশ। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৫.৯২, পরের বছর ছিল ৫.৮৩ শতাংশ। বিদায়ি অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫.৩৫ শতাংশ।

গত পাঁচ বছর টানা মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকার পেছনে কারণ কী জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান হাবিব মনসুর কালের কণ্ঠকে বলেন, মোটা দাগে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে চালের। দেখা গেছে, গত কয়েক বছর বাংলাদেশে চালের দাম সহনীয় ছিল। ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই ছিল চাল। মাঝখানে দুই বছর আগে নিজেদের ভুলের কারণে চালের দাম বেড়ে গেছে। তার প্রভাবও পড়েছে সার্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর। তবে এটা বলা যেতে পারে, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। তবে এতে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার কোনো কারণ নেই। সরকারকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। চাল গুদামে মজুদ রাখতে হবে, কোনো কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধানের ক্ষতি হলে যাতে সমস্যা না হয়। মূল্যস্ফীতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণ হিসেবে আরো বেশ কিছু বিষয় কাজ করেছে বলে জানান আহসান মনসুর।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর দেশে মাছের উৎপাদন ভালো হয়েছে। পোল্ট্রিশিল্পও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। হরতাল-অবরোধ হয়নি দেশে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। সবজিও ভালো হয়েছে। আহসান মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকার আরেকটি কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে গত কয়েক বছর জ্বালানি তেলের দাম বাড়েনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে কমেছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) মতে, মূল্যস্ফীতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকার বড় একটি কারণ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত মুদ্রানীতি। দেশে খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতিও স্থিতিশীল ছিল। আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কম ছিল। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির হার সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে যে কয়বারই মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে, তা একটি বা দুটি পণ্যের কারণে, সেটি হয়েছে সরকারের ভুল কিংবা অসচেতনতার কারণে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার ৫.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দিয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের মতে, বছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার সরকারের ঘোষণার মধ্যেই থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা