kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

সাক্ষাৎকার

রেমিট্যান্স বাড়াতে মুসলিম বিশ্বে তদারকি দরকার

সজীব হোম রায়   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেমিট্যান্স বাড়াতে মুসলিম বিশ্বে তদারকি দরকার

মামুন রশীদ, ব্যাংকার এবং অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ম্যানেজিং পার্টনার, পিডাব্লিউসি

দেশে ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। এটি এর আগের বছর ২০১৭ সাল থেকে ১৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ২২.৫ শতাংশ বেড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ায় রেমিট্যান্সে ভারত ও পাকিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। অর্থনীতির প্রায় সব কটি সূচক যখন নিম্নগামী তখন রেমিট্যান্সই স্বস্তিদায়ক খবর। রেমিট্যান্স বাড়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণাকে প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এর জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রণোদনার কারণে রেমিট্যান্স বাড়ছে—এ কথা কিছুটা সত্যি। আবার গত দুই অর্থবছরে বাংলাদেশি শ্রমিকের বিদেশে যাওয়ার হার বেড়েছে। ২০১৮ সালে ৮.২ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ অর্থাৎ চলতি বছর এটি ৫.৬ শতাংশ বেড়েছে। রেমিট্যান্স বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হলো ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন। ডলারের বিপরীতে টাকা ৩.২ শতাংশ পর্যন্ত অবমূল্যায়িত হয়েছে।

ভারতে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। এর পরিমাণ ৭৮ বিলিয়ন ডলার। তারপর পাকিস্তানে এসেছে ২১ বিলিয়ন ডলার। এরপর নেপাল, শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো আছে। আর বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৫ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। ভারতের বাজার অনেক বড়। দক্ষ শ্রমিক বাইরে পাঠায়। তাই রেমিট্যান্স আসে বেশি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্সে আরো উন্নত করা সম্ভব। সেটা প্রণোদনা দিয়ে, নতুন বাজার খুঁজে শ্রমিক পাঠিয়ে, বেশি শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে, পররাষ্ট্রনীতি বাড়িয়ে, কূটনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করে এবং দক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে সম্ভব।

পাকিস্তানে রেমিট্যান্স বেড়েছে। কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশটি মুসলিমপ্রধান দেশে বেশি শ্রমিক পাঠাচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতির কারণে মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে বা মুসলিমবিশ্বে তাদের অবস্থান ভালো। বাংলাদেশও মুসলিমবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করছে। এ সম্পর্ক আরো ভালো হলে আমরা আরো বেশি শ্রমিক পাঠাতে পারব। ফলে রেমিট্যান্স আরো বেশি আসবে। এ ছাড়া দক্ষ, শিক্ষিত শ্রমিক এবং নারী শ্রমিকদের সংখ্যা বাড়াতে পারলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরো বাড়বে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের বিদেশে যাতায়াত খরচ কমানো যায় কি না, দালালদের দৌরাত্ম্য কমানো, শ্রমিকদের বিশেষত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং দালালদের ব্যবহারের দিকগুলোও দেখতে হবে। এ ছাড়া আমরা নতুন নতুন কম্পানির সঙ্গে চুক্তি করছি। এসব চুক্তিতে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়গুলো উল্লেখ থাকতে হবে।

রেমিট্যান্স বাড়ার পরও হুন্ডি কমছে না। এর কারণ হলো, হুন্ডির টাকায় লাভ বেশি। এটি অস্বীকারের কোনো উপায় নেই। দেশে যত দিন দুর্নীতি, বিশেষত রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি থাকবে, অবৈধ উপায়ে বাইরে টাকা পাঠানোর প্রবণতা থাকবে তত দিন এ অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হবে না। আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা অনেক কঠিন। এটাকে সহজ করতে হবে। করপোরেট রেট ঢেলে সাজাতে হবে। ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ট্যাক্স ফাঁকির বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা