kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

সাক্ষাৎকারে এনবিআর চেয়ারম্যান

বড় ফাঁকিবাজদের ধরতে কর নীতিমালায় পরিবর্তন আসছে

ফারুক মেহেদী   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় ফাঁকিবাজদের ধরতে কর নীতিমালায় পরিবর্তন আসছে

মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

আমরা আগামী বাজেটেই আয়কর নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। এ জন্য এখন কাজ করছি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড—এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া একথা জানান। তিনি আয়কর আদায়, কর ফাঁকি, সাম্প্রতিক ক্যাসিনোকাণ্ডসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেন।

মানুষ কর দিয়ে কী সেবা পায়? এমন প্রশ্নের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকার কর নেয় জনগণকে সেবা দেওয়ার জন্যই। এটা তাদের পেছনেই ব্যয় হয়। যেমন সমাজের অবহেলিত জনগণের জন্য আগে তেমন কোনো সেবা ছিল না। এখন স্বামী পরিত্যাক্তা, বিধবাসহ সামাজিকভাবে অসহায়রা সরকারি ভাতা পায়। একসময় বয়স্কদের ভাতা দেওয়াও কঠিন কাজ ছিল। এটা সরকার ভালোভাবেই পরিচালনা করছে।

সরকার আমাদের জন্য আর কী করছে—এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের যাবতীয় অবকাঠামো সরকার করে দিচ্ছে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, সড়ক-মহাসড়ক, হসপিটাল, স্কুল-কলেজ এ সব কিছুর মধ্যেই সরকারের সরাসরি অবদান আছে। কৃষি খাতে আমরা ভর্তুকি দিচ্ছি। রপ্তানি খাতেও নিয়মিত প্রণোদনা ও ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক নেই, যন্ত্রপাতি আমদানিতেও একই রকম ছাড়।’

তিনি বড় করদাতাদের ফাঁকি এবং ট্যাক্সকার্ড পাওয়াদের তালিকায় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের না থাকা প্রসঙ্গে বলেন, এটা খুবই হতাশার যে ট্যাক্সকার্ডের তালিকায় স্বনামধন্য অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের নাম নেই। আমাকে প্রায়ই এ ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বলা হয় যে জর্দা ব্যবসায়ী কাউছ মিয়া সেরা করদাতা হয়। অথচ আমাদের দেশে বড় বড় অনেক প্রতিষ্ঠান আছে। যারা বেশি কর দিতে পারে; অথচ তারা তালিকায় নেই। আসলে এটা মানসিকতার বিষয়। কাউছ মিয়া আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে দেখো—আমি তোমাদের মতো নামিদামি ব্যবসায়ী না। কিন্তু আমি সরকারকে কর দেই। বড়রা অবশ্য নানা যুক্তি দেখায়। বলে যে আমার অনেক ব্যাংকঋণ আছে। আরো নানাদিকে খরচ আছে ইত্যাদি। এসব খরচের পর আমার বেশি মুনাফা হয় না। তবে আমি আশা করি এগুলোর মধ্যেও একটা স্বচ্ছতা আসবে। সব কিছুর মধ্যে যখন স্বচ্ছতা আসবে তখন কর দেওয়ার হারও বেড়ে যাবে। আমাদের যারা নামিদামি ব্যবসায়ী, যারা নিজেদের আয় ও সম্পদের হিসাব সরাসরি প্রকাশ না করলেও, নানাভাবে চোখে পড়ে। আমরা বড় করদাতাদের যারা ফাঁকি দেয় বা আয়ের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে না, তাদের জন্য আয়কর আইনে বড় ধরনের একটি পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি। কেউ যেন তার সম্পদ লুকাতে না পারে সে জন্য আমরা আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসসহ এই তিন খাতের সার্বিক বিষয়ে এমন ধরনের পরিবর্তন আনব, যাতে তাদের বুকস অব অ্যাকাউন্টে কোনো ফাঁকি দিতে না পারে। আশার কথা হলো-মাল্টিন্যাশনাল কম্পানির ক্ষেত্রে বুকস অব অ্যাকাউন্টে খুব একটা ফাঁকি দেখা যায় না। আমাদের দেশের কম্পানির ক্ষেত্রে বুকস অব অ্যাকাউন্টে ফাঁকির অভিযোগ পাওয়া যায়। দেখা যায়, তারা দুটি অ্যাকাউন্ট রাখে। একটি নিজেদের জন্য, আরেকটি রাখেন করের জন্য। তো এসব বিষয় যাতে না করতে পারে সে জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আমরা আগামী বাজেটেই আয়কর নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। এ জন্য আমরা এখন কাজ করছি।

সাম্প্রতিক সময়ের ক্যাসিনোতে অবৈধ কর্মকাণ্ড, মদ ও জুয়ার ব্যবসায় কর ও শুল্ক ফাঁকির বিভিন্ন বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ক্যাসিনোতে যেসব জিনিসপত্র ব্যবহার হয় মদ বা অন্যান্য জিনিস, এসব বেশি শুল্ক দিতে হয়। বৈধ-অবৈধভাবেই এসব আনা হয়। তবে বৈধভাবে আনারও একটা প্রক্রিয়া আছে। যাদের আমরা লাইসেন্স দিয়েছি তারা আনতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা