kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

ভিড় বাড়ছে মেলায়

তৃতীয় দিনে ২৬২ কোটি টাকার আয়কর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তৃতীয় দিনে ২৬২ কোটি টাকার আয়কর

ভিড় বাড়ছে আয়কর মেলায়। প্রতিদিনই নতুন নতুন করদাতা ও সেবাগ্রহীতা মেলায় আসছেন। গতকাল শনিবার ছিল সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার তৃতীয় দিন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে করদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের ভিড় ছিল অন্য দিনের চেয়ে বেশি। এদিন আয়কর সংগ্রহ হয়েছে ২৬২ কোটি দুই লাখ ৯২ হাজার ২৫১ টাকা। মেলায় রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি ই-টিআইএন গ্রহণ, ব্যাংকের অস্থায়ী বুথে কর পরিশোধ, রাজস্বসংক্রান্ত সেবা নিতে আসছেন অনেকে। এ বছর দেশের আটটি বিভাগ, ৫৬টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি স্পটে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মেলার পরিধি গত বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে করদাতারা রকেট, নগদ, বিকাশ ও প্রযোজ্য শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আয়কর জমা দিতে পারছেন। করদাতাদের সুবিধায় এবারই প্রথমবারের মতো আয়কর মেলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে করদাতারা ‘ওয়ান স্টপ’ সেবা পাচ্ছেন। সারা দেশের মেলার অবস্থান, ঠিকানা, সময়, তারিখ গুগল ম্যাপসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল মেলার তৃতীয় দিনে দেশব্যাপী দুই লাখ ৭১ হাজার ৯৪০ জন করদাতা কর মেলা থেকে সেবা নিয়েছেন। এর মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা হয়েছে ৮৪ হাজার ৫৩৪টি। এ নিয়ে গত তিন দিনে মেলায় এসে রিটার্ন দাখিল, কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) গ্রহণসহ অন্যান্য কর সেবা গ্রহণ করেছেন ছয় লাখ ৭৬ হাজার ৩৮২ জন। তিন দিনে দুই লাখ ২১ হাজার ৬৪৯ জন করদাতার আয়কর রিটার্ন দাখিলের বিপরীতে সব মিলিয়ে আদায় হয়েছে এক হাজার ৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই সময়ে ই-টিআইএন নেওয়ার মাধ্যমে আয়করের খাতায় নাম লিখিয়েছেন ১১ হাজার ৯৭৯ জন। আজ রবিবারও অন্যান্য দিনের মতো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণ করদাতাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

২০১০ সালে প্রথম আয়কর মেলার আয়োজন করে এনবিআর। ওই বছর করদাতাদের ব্যাপক সাড়া দেখে পরবর্তী বছরগুলোতে ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে দেশের অল্প কিছু উপজেলা বাদে অন্যান্য জায়গায় বিভিন্ন মেয়াদে আয়কর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। মেলায় ঝামেলাহীন রিটার্ন দাখিলের সুযোগ থাকায় করদাতারা এ সুযোগ নিচ্ছেন। তবে তাঁরা আয়কর মেলা ছাড়াও কর অফিসেও এমন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

গতকাল রাজধানীর মিরপুর থেকে বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে আয়কর মেলায় এসে রিটার্ন দাখিল করেছেন অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবী এনায়েতুর রহমান। কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘সাত বছর ধরে আয়কর মেলায় এসে কর দিয়ে আসছি। কর অফিসে যে কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে দেখা করারই সুযোগ পান না, মেলায় তিনি ও তাঁর চেয়েও সিনিয়র কর্মকর্তা টেবিলের অন্য পাশে বসে আমাদের সহযোগিতা করছেন। আন্তরিকতার সঙ্গেই রিটার্ন ফরম পূরণে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু সব সময় তো আর আয়কর মেলা আয়োজন হবে না। মেলার মতো এমন পরিবেশ আয়কর অফিসগুলোতেও বাস্তবায়ন করা দরকার। এটি নিশ্চিত করা গেলে মানুষ কর দিতে আগ্রহী হবে। করদাতারা চায় হয়রানিমুক্ত পরিবেশ।’ আরেকজন করদাতা জানান, কর অফিসগুলোতে হয়রানি, অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে, একবার করের খাতায় নাম লেখালেই জালে আটকে গেলাম। এর থেকে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। সম্প্রতি আয়কর মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একই কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, মানুষ মনে করে, একবার কর দিলে আটকে গেলাম। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে কর কর্মকর্তাদের উদ্যোগী ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় তিনি করদতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কোথাও অন্যায় হলে মেহেরবানি করে আমাকে জানান।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা