kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্টার্টআপ

বিন্দু থেকে সিন্ধু ‘ট্রোভা’

ব্রিটেনে ছোট দোকানিদের ভরসা

শরিফ রনি   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিন্দু থেকে সিন্ধু ‘ট্রোভা’

ট্রোভার তিন সহউদ্যোক্তা মানদীপ সিং, এলেক্স ও গ্লেন

যুক্তরাজ্যে দ্রুত সাফল্য পাওয়া স্টার্টআপগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো ট্রোভাডটকম। এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি কিছুটা ভিন্নভাবে এগোচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষত্ব হলো তারা অনলাইন এবং অফলাইন দুভাবেই ক্রেতার কাছে পণ্য নিয়ে পৌঁছে যায়। আর অর্ডার থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতা তার ঠিকানায় পণ্য পেয়ে যায়। তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ আছে স্থানীয় ছোট আকারের বুটিকশপগুলো।

প্রতিষ্ঠানের শুরুটা হয়েছে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। হিসাব অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির বয়স মোটে চার বছর। তিন বন্ধু এবং সহউদ্যোক্তা মানদীপ সিং, এলেক্স লিজু এবং গ্লেন ওয়াকারের হাত ধরে স্টার্টআপটি শুরু হয়। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরই মধ্যে লন্ডনবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ট্রোভা। এ বছর যুক্তরাজ্যের সেরা ১০০টি স্টার্টআপের মধ্যে র‌্যাংকিংয়ে ৩ নম্বরে অবস্থান করছে ট্রোভা। প্রতিষ্ঠানটি ক্রমউন্নতি এবং সক্ষমতা বিবেচনা করে এটি সেরা অনুপ্রেরণামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। ট্রোভার কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্যের ১০০টি শহরে। ৭০০টি বুটিক এবং লাইফস্টাইল প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। ট্রোভা আসলে পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান যারা মূলত স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছে। এ কারণে অর্ডার পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতার কাছে পণ্য পৌঁছে দিত প্রতিষ্ঠানটি।

বেশির ভাগ অনলাইন শপ যেখানে বড় ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রিকে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে ট্রোভা মূলত স্থানীয় বুটিক এবং লাইফস্টাইল শপগুলোর সঙ্গে ভোক্তাদের সংযোগ ঘটিয়ে দেয়। অর্থাৎ সাইটে কোনো পণ্যের অর্ডার এলে বিক্রেতার কাছ থেকে পণ্যটি সংগ্রহ করে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেন ট্রোভার কর্মীরা। তবে বাজারে এসে প্রতিষ্ঠানটিকে লড়তে হচ্ছে বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে। যাদের বিশাল রয়েছে ওয়্যারহাউস। বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য থাকে তাদের কাছে। তারা চাইলে দাম নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজারে টিকে থাকাই বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু এসব ছাপিয়ে প্রতিনিয়ত মুনাফা করছে ট্রোভা।

প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মানদীপ সিং বলেন, ‘আমরা জানি ই-কমার্স ব্যবসায়ের সবচয়ে বড় জায়গা এবং এখানে দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে আমরা যদি ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে নিই তাহলে এই খাতটি আরো বড় হবে। আমরা অনলাইন এবং অফলাইন দুটিতেই সমানভাবে সক্রিয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর কিছুদিন পর আমাদের ক্রমউন্নতি দেখে ইনডেক্স ভেঞ্চার এবং অক্টোপাস ইনভেস্টমেন্ট ৩৮ লাখ ডলার বিনিয়োগ নিয়ে ট্রোভার পেছনে দাঁড়ায়। ১৮ মাসের মাথায় ২৩টি শহরে ২৪০টি দোকানের সঙ্গে আমরা চুক্তি করে ফেলি। আমাদের অফিসে কর্মীর সংখ্যা ২৫ জন।’

মানদীপ প্রতিষ্ঠানে আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা না করলেও স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় এক লাখ পাউন্ডের বেশি হবে।

মানদীপ বলেন, ‘আমরা শুরুতে নারীদের পোশাক বিক্রি করে এমন তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যারা ছোট আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। তাদের সামনে আমাদের কথাগুলো তুলে ধরি। তারাও উৎসাহের সঙ্গে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়।’ ট্রোভা চায় স্বাধীনভাবে ব্যবসা করছে বিশ্বের এমন সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে একটা বড় প্ল্যাটফর্ম করতে। এটা লন্ডনেও যেমন সম্ভব হলো তেমনি বার্লিন, স্টকহোম, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রেও সম্ভব হবে। ড্রাপাসঅনলাইন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা