kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বললেন

দেশে ভ্রমণসেবার বাজার দেড় হাজার কোটি টাকা

মাসুদ রুমী   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশে ভ্রমণসেবার বাজার দেড় হাজার কোটি টাকা

শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কাশেফ রহমান। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের মানুষের মধ্যে ভ্রমণপ্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে পর্যটন ব্যবসারও প্রসার ঘটছে। পর্যটনসেবায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইসিটি) ব্যবহারে সনাতনি পদ্ধতির বদলে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি (ওটিএ) সেবার দ্রুত প্রসার ঘটছে। ঘরে বসে স্মার্টফোনেই একজন পর্যটক তাঁর পরিবহন টিকিট, ভ্রমণ খরচ, হোটেল ভাড়াসহ প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি বুকিংও সম্পন্ন করতে পারছেন। পুরো প্রক্রিয়া বিড়ম্বনামুক্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ট্রাভেল বুকিং। বাংলাদেশে ট্রাভেল বাজারের আকার দেড় হাজার কোটি টাকা বলে জানালেন শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাশেফ রহমান। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই বিকাশমান বাজারের ৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায় তাঁর কম্পানি।

ঘুরতে পছন্দ করেন কাশেফ রহমান। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা শেষে ২০০৪ সালে যোগ দেন গ্রামীণফোনে। পরে বাংলালিংকে পোস্ট পেইড চ্যানেলের প্রধান হিসেবে মাঝে কেটে যায় কয়েক বছর। ছাত্রজীবন থেকেই ভ্রমণ তাঁর নেশা। সময় পেলেই দেশে-বিদেশে ঘুরতে বেরিয়ে পড়তেন। একসময় তাঁর চাকরি ভালো লাগে না, ইচ্ছা জাগে নিজে কিছু করার। সেই ইচ্ছাশক্তিতেই তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার যাত্রা শুরু করেন। তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে মূলধন ছিল একটি ফেসবুক পেজ এবং বন্ধু ও আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতা। শুরুতে ট্রাভেলবুকিংবিডি নামে একটি ফেসবুক পেজ করেন। এই পেজ থেকেই বন্ধুবান্ধবসহ পরিচিতজনদের বিদেশ ভ্রমণ সহজ করে দিতেন। এরপর সেই ফেসবুক পেজটি যখন জনপ্রিয় হলো তখন তিনি একে পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইটে পরিণত করেন এবং ২০০৪ সালে একটি কম্পানিও খোলেন। নিজে একজন বাজেট ভ্রমণপ্রেমী হিসেবে তাঁর স্বপ্ন ছিল একটি এন্ড টু এন্ড সলিউশনভিত্তিক ভ্রমণ প্যাকেজ চালু করার। সেই স্বপ্ন থেকেই ছোট উদ্যোগকে বড় করেছেন, সঙ্গে শতাধিক তরুণের কর্মসংস্থানও করেছেন। ট্রাভেলবুকিংবিডিকে তিনি রি-ব্র্যান্ডিং করেছেন, যা এখন ‘শেয়ারট্রিপ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্লেন টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে হোটেল বুকিং, আনুমানিক খরচের তালিকা তৈরি, যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত পরিবহনের ব্যবস্থা করাসহ সব কিছু করে দেবে শেয়ারট্রিপ।

নিজের উদ্যোক্তা হওয়া প্রসঙ্গে কাশেফ রহমান বলেন, ‘আমি খুব ভ্রমণ করতাম। নিজের অভিজ্ঞতাকে অর্থাৎ যে সেবা পেতাম না আমি তা মেটানের চেষ্টা করছি। ব্যবসা শুরুর পুঁজি ছিল ১২ বছরের মোবাইল কম্পানি চাকরির ও নিজের কিছু ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। শুরুর দিকে অফিস ছিল মাত্র ৪০০ স্কয়ার ফিটের। চার বছরেই আমরা বিনিয়োগ পেয়েছি, বনানীতে পুরো একটি বাড়িজুড়ে আমাদের অফিস। আরো স্পেস দরকার।’

উদ্যোক্তা হওয়ার পথে অর্থই প্রধান নয় বলে মনে করেন শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও কাশেফ রহমান। তিনি আরো  বলেন, ‘ভালো আইডিয়া থাকলে অর্থ স্বাভাবিক নিয়মেই চলে আসবে। আমি নিজের জমানো টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। পরবর্তী সময়ে একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের এই উদ্যোগের বিকাশে এগিয়ে আসে। আমাদের লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে পুরো ট্রাভেল মার্কেটের ৫ শতাংশ দখল করা। এ ছাড়া আমাদের অ্যাপ ডাউনলোড এ বছরের মধ্যে এক লাখ এবং কর্মীসংখ্যাও দুইশ হবে বলে আশা করছি।’

স্কুপজাংশনের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বৈশ্বিক অনলাইন ট্রাভেল বুকিং বাজার ছিল ৭৭০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালে এ বাজার হবে এক হাজার ৯৬৫ বিলিয়ন ডলারের। ট্রিপ অ্যাডভাইজর, এক্সপেডিয়া, হোমঅ্যাওয়ে, কেয়াকের মতো বৈশ্বিক অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির পরিবর্তে মানুষ কেন শেয়ারট্রিপ ব্যবহার করবে জানতে চাইলে কাশেফ রহমান বলেন, ‘শেয়ারট্রিপ স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে নির্মিত ভ্রমণ বিষয়ক খুবই সহজ মোবাইল অ্যাপ। বাংলাদেশের ভ্রমণের দৃশ্যপটের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো এবং ভ্রমণ খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপায়ণে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে চায়। শেয়ারট্রিপ মোবাইল অ্যাপ গ্রাহকদের বিশ্বমানের ট্রাভেল বুকিং অভিজ্ঞতা দিতে এবং আন্তর্জাতিক মাপকাঠিতে স্থানীয় দৃষ্টান্ত প্রতিস্থাপনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর বিদেশি অ্যাপ নয়, দেশি উদ্যোগেই বিদেশি প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতা দিতে আমরা শেয়ারট্রিপ ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি। তাহলে ভ্রমণ খাতের বিশাল অর্থ আমরা দেশেই রাখতে পারব।’

শেয়ারট্রিপের অভিনবত্ব কী জানতে চাইলে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস গ্রাহকসেবায়। অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিতে মানুষের আস্থা বাড়াতে আমরা যৌক্তিক মূল্যে হোম সার্ভিসও দিচ্ছি। অর্থাৎ কেউ যদি বিদেশ ভ্রমণ করতে চান তাঁকে ভিসা, টিকিট, ভ্রমণ প্যাকেজ কোনো কিছুর জন্যই অফিসে আসতে হবে না।’

শেয়ারট্রিপ অ্যাপে গেমিফিকেশন যুক্ত হয়েছে। ব্যবহারকারীরা স্পিন টু উইন খেলে জিতে নিতে পারেন ট্রিপ কয়েন, যা ট্রাভেল রিওয়ার্ড পয়েন্ট হিসেবে কাজে লাগানো যাবে। এ কয়েন তাঁরা ফ্লাইট, হোটেল, হলিডে বুকিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন। এ প্রসঙ্গে শেয়ারট্রিপের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথমবারের মতো, গ্রাহকদের অনন্য মাত্রার অভিজ্ঞতা দিতে ভ্রমণভিত্তিক অ্যাপ হিসেবে গেমিফিকেশন নিয়ে এসেছি। কয়েক দিন আগে গেম খেলে হাজব্যান্ড-ওয়াইফ দুজনেই ঢাকা-কাঠমাণ্ডু টিকিট জিতেছেন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোন অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টের লয়ালিটি প্রগ্রাম নেই। আমরাই প্রথম এসব সুবিধা নিয়ে এসেছি। আমরা আগামী চার মাসে কিছু ক্যাম্পেইনে যাচ্ছি।’

শেয়ারট্রিপের সিইও কাশেফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের জীবনকে ডিজিটালাইজ করতে অ্যাপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সেই সঙ্গে এটাও আশা করছি, এই অ্যাপ ব্যবহারকারীরা বিশ্বমানের সেবা ও সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা