kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবাসন খাতে গতি আনবে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ

মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবাসন খাতে গতি আনবে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ

সরকার যদি ফ্ল্যাট কেনার জন্য সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করে তাহলে আবাসন খাতে একটি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে আবাসন ব্যবসায়ীদের জন্যও যদি কম দামে জমি ও কম সুদে ঋণের বিষয়টি নিশ্চিত করে তাহলে মানুষের আবাসন নিশ্চিতের পথ সুগম হবে বলে মনে করেন চট্টগ্রামের শীর্ষ আবাসন কম্পানি সিপিডিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন।

তা ছাড়া রিয়েল এস্টেট খাত বা আবাসন ব্যবসাকে বিলাসিতা হিসেবে না দেখে মানুষের মৌলিক চাহিদার খাত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত সরকারের। মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম একটি হচ্ছে বাসস্থান।

তরুণ এই উদ্যোক্তা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছেন বুয়েটে। লেখাপড়া শেষ করে প্রথমে শুরু করেছিলেন লিফট, জেনারেটর, এয়ারকন্ডিশনারের ব্যবসা। পরে যুক্ত হন আবাসন ব্যবসায়।

সিপিডিএল নাম দিয়ে ২০০৫ সালে আবাসন ব্যবসায় হাতেখড়ি। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি এটিকে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় আবাসন কম্পানি হিসেবে এগিয়ে নেন। সিপিডিএলের এমডি ও সিইও প্রকৌশলী ইফতেখার জানান, তাঁদের প্রথম প্রকল্প ‘চৌধুরী হাইটস’। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চার মাস আগেই গ্রাহকদের বুঝিয়ে দেওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি।

তিনি বলেন, আবাসন খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন উপকরণ সিমেন্ট, রড ও পাথরের দাম গত এক বছরে ২০ শতাংশ বেড়েছে। রেজিস্ট্রেশন খরচ এখন ১৭-১৮ শতাংশ। আমরা এটা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছিলাম; কিন্তু তা হয়নি।’

রিয়েল এস্টেটের সেকেন্ডারি মার্কেটে ২ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় এ খাতের ক্ষতি হয়েছে। সেকেন্ডারি মার্কেট যত বড় হবে, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই তত লাভবান হবে। যারা ছোট ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী, তাদের জন্যও এটি খারাপ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন।

সিপিডিএলের এমডি বলেন, ‘২০১৬ ও ২০১৭ সালে আবাসন খাত ভালো সময় পার করেছে। এ সময় ব্যাংক থেকে এক অঙ্ক সুদে ঋণ পাওয়া গেছে। পরে সুদহার আবার ১৪-১৬ শতাংশে পৌঁছলে আমাদের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে আবাসন খাতে ৫-১০ শতাংশ সুদহারে ঋণ পাওয়া যায়।’

তিনি মনে করেন, আবাসন খতের সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ বিষয় হচ্ছে কম দামে জমি ও কম সুদে ঋণের বিষয়টি নিশ্চিত করা। এটা সম্ভব হলে মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা আবাসন নিশ্চিতের পথ সুগম হবে।

চট্টগ্রাম নগরীতে মানুষের ক্রমবর্ধমান চাপ আবাসনের চাহিদার পাশাপাশি শহর সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা এখন ‘স্যাটেলাইট শহর’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছি। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারের সহযোগিতা পাওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। স্যাটেলাইট শহরের ধারণা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একা বাস্তবায়ন করা খুবই কঠিন।”

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেশী ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতেও সরকার ডেভেলপার কম্পানিকে জমি অধিগ্রহণ করে দিয়ে ক্রেতার সঙ্গে ক্রয়-বিক্রয়ের ধরন ঠিক করে দিচ্ছে। আমাদের দেশে চলছে উল্টো নিয়ম। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোই এখন ডেভেলপারের ভূমিকা পালন করছে। ফলে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, কিন্তু প্রকল্প আলোর মুখ দেখে না।’

চট্টগ্রাম শহর এখন হাটহাজারীর দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল নির্মিত হলে আনোয়ারায় শহর সম্প্রসারণের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সিডিএ যদি বাকলিয়া অ্যাকসেস রোড সম্পন্ন করে তাহলে সেখানেও ভালো সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাটর পয়েন্টে রেল-কাম-সড়ক সেতু নির্মিত হলে শহরের খুব কাছের এলাকা বোয়ালখালীতেও শহর সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। এসব এলাকায় কমপক্ষে এক-দুই একর জায়গার ওপর এ স্যাটেলাইট শহরের কনসেপ্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে মূল নগরীর ওপর বাড়তি জনচাপ অনেকটা হ্রাস পাবে। এ ক্ষেত্রে যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করাটা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের সহযোগিতা এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তরুণ এই আবাসন ব্যবসায়ী।

প্রকৌশলী ইফতেখার বলেন, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আবাসন ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা খুব খারাপ সময় পার করেছে। লাভজনক ব্যবসা মনে করে এ সময়ে অনেকে এই খাতের সঙ্গে যুক্ত হয়; কিন্তু তাদের অনভিজ্ঞতা পুরো সেক্টরকে অস্থির করে তুলেছিল। এ সময় জমির মালিকরা স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করত। অনেকে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে লেনদেনে উদ্যোগী হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্প শেষ না করে গুটিয়ে যায়। ফলে অসংখ্য সাধারণ গ্রাহককে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। যার জের আবাসন খাতকে এখনো টানতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘একটি প্রজেক্টের কাজের মান বহুভাবে নির্ধারণ করা যায়। কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও কঠোর এবং আপসহীনভাবে পরিচালনা করার কারণে সেই কঠিন সময় আমরা সফল াবে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা